" /> ডিএমপির নির্দেশনা ‘মধ্যযুগীয় চিন্তার প্রতিফলন’ : সুলতানা – দৈনিক প্রভাতবেলা

ডিএমপির নির্দেশনা ‘মধ্যযুগীয় চিন্তার প্রতিফলন’ : সুলতানা

প্রকাশিত: ৬:৪৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০১৬

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:  ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে উন্মুক্ত স্থানে পহেলা বৈশাখের উৎসব বিকেল পাঁচটার পরে চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল।

যদিও জননিরাপত্তার স্বার্থে পহেলা বৈশাখের দিন বিকেল পাঁচটার পর উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান করতে দেয়া হবে না বলে বারবার সতর্ক করেছে ডিএমপি।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমরা অবশ্যই সারাক্ষণ, সর্বক্ষণ আমাদের পহেলা বৈশাখের আচার-অনুষ্ঠান-উৎসব চালিয়ে যাব এবং সরকার আইনগত ও সাংবিধানিকভাবে নিরাপত্তা দিতে বাধ্য থাকবে।’
পহেলা বৈশাখ উদযাপন নিয়ে নারী নিরাপত্তা জোট এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, ‘রাষ্ট্রে নারীর সুরক্ষা দেওয়ার যে অঙ্গীকার রয়েছে তা না করে একটি মহল যারা উৎসবে আসে তাদের দোষ ধরে সার্বজনীন পহেলা বৈশাখের যে উৎসবের মনোভাব সেটা গুরুত্বহীন করে দিচ্ছে।’

বিকাল পাঁচটার মধ্যে সকলকে ঘরে ফিরে যেতে হবে বলে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তাকে ‘মধ্যযুগীয় চিন্তার প্রতিফলন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সুলতানা কামাল বলেন, পোশাক আশাকে নারীর সত্ত্বা যাতে বিকশিত না হয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত এরই প্রতিফলন।

এজন্যই নারীর নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকার নিবে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সুলতানা কামালের অভিযোগ, এ দেশটায় যাতে কোনো ধরণের সার্বজনীন উৎসব করা না যায়, সে প্রক্রিয়া চলছে। অথচ সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতা, সার্বজনীনতা রয়েছে। আসলে সব ধরণের উৎসব বন্ধ করার একটা প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

সুলতানা কামাল বলেন, ‘রাষ্ট্র কিন্তু অঙ্গীকারবদ্ধ যে তারা ২৪ ঘণ্টাই নারী পুরুষের নিরাপত্তা দেবে । সাংবিধানিকভাবে কোনো নারী পাবলিক প্লেসে গেলে তাকে নিরাপত্তা দিবে সরকার। সরকার নিরাপত্তা দিতে পারবে না এমন কথা কোথাও লেখা নেই।

তিনি বলেন, ‘কিছু দুর্বৃত্ত্ব ভয় দেখিয়েছে। প্রকারান্তে ভয়ের সংস্কৃতিকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। আমরা যারা সার্বজনীনতায় বিশ্বাস করি তাদের ঘরে থাকতে হবে। আর ভয় দেখাতে পারলে সরকার সমর্থন দিবে। আমরা যারা সার্বজনীনতা বিশ্বাস করি, ধরনিরপেক্ষতা ও মানুষে মানুষের মধ্যে মেলামেশাকে সমর্থন করি তাদেরকে রাষ্ট্র ঘরের মধ্যে আবদ্ধ রাখতে চায়। আর যারা দুর্বৃত্ত- সারাক্ষণ হানাহানি, খুনোখুনি ও ধর্মান্ধতায় বিশ্বাস করে তারা ২৪ ঘণ্টা মাঠে থাকতে পারবে, সবকাজ চালিয়ে যেতে পারবে। এটা হতে পারে না।’

সুলতানা কামাল বলেন, ‘সবচেয়ে দুঃখের বিষয় এই নিষেধাজ্ঞা এমন এক সরকার দিয়েছে যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক দাবি করে ক্ষমতায় এসছেন।’

তিনি বলেন, আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা দাবি করছি মুক্তমনা মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার এই সিদ্বান্ত বাতিল করবে।’

তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ আয়োজনের প্রাক্কালে নারী নিরাপত্তা জোট থেকে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, বিকেল পাঁচটার পর জনগণ উন্মুক্ত স্থানে থাকতে পারবে না বলে যে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা বাতিল করা হোক। উন্মুক্ত স্থানগুলো যেন নারী পুরুষ সকলের চলাচলের উপযোগী থাকে তার ব্যবস্থা করা হোক।

তিনি বলেন, নারীর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে, প্রতিটি নারী নির্যাতনের ঘটনার অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাকশান এইডের নির্বাহী পরিচালক ফারাহ কবির বলেন, উৎসবের রেশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা থাকব। এটা আমাদের মৌলিক অধিকার। এটাকে খর্ব হতে দিবেন না।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, শ্রমিক নেতা ওযাজেদুল ইসলাম খান, এইড সার্ভাইবার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহম্মেদ, লেখক জাহানারা নুরী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ