রাজপথে ট্রাফিক সার্জেন্ট মেহেদীর কান্ড

প্রকাশিত: 1:56 AM, July 26, 2016

ধানমন্ডিতে গাড়িচালককে পিটিয়ে থানায় নেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তবে রাতেই বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

গাড়িচালকের পক্ষ থেকে ট্রাফিক সার্জেন্টকে দেওয়া হয় ১০,০০০ টাকা। সার্জেন্টের মোবাইল, চশমা ও ঘড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলে নেওয়া হয় এই টাকা। পরে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান এই চালক, যার নাম ইউসুফ ফরাজী।

শনিবার বিকেলে মালিকের ছেলেকে নিয়ে ধানমণ্ডির ৭/এ সড়কের কেএফসি রেস্টুরেন্টে নামিয়ে দেন চালক ইউসুফ ফরাজী। এরপর গাড়িটি রাস্তার পাশে পার্কিং করেন। এ সময় ৭/এ সড়কের ট্রাফিক বক্সের সার্জেন্ট মেহেদী ইউসুফের কাছে কাগজপত্র দেখতে চান। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে চালককে বেধড়ক মারধর করেন সার্জেন্ট মেহেদী।

পরে পথচারীরা এগিয়ে এলে সার্জেন্ট মেহেদী মারধরে ক্ষান্ত দিয়ে চালককে পাশের পুলিশ বক্সে নিয়ে যান।

গাড়িটি রেকারিং করে নিয়ে যান ধানমণ্ডি থানায়। ইউসুফ ফরাজীকে ঢোকানো হয় থানার লকাপে। খবর পেয়ে গুলশানের বাসিন্দা গাড়ির মালিক আরিফসহ অন্যরা ছুটে আসেন থানায়।

তারা পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি রফাদফা করেন। সার্জেন্ট মেহেদী তার একটি মোবাইল, একটি চশমা ও একটি ঘড়ি ভেঙেছে দাবি করে ক্ষতিপূরণ চান। পরে তাকে গাড়িচালকের পক্ষ থেকে ১০,০০০ টাকা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শনিবার রাত সাড়ে নয়টায় ধানমণ্ডি থানায় একটি জিডি নোট করা হয়। যার নম্বর ১০৫০।

ধানমণ্ডি থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি রাতেই মীমাংসা হয়। গাড়ি চালকের পক্ষে তার লোকজন আসেন। তারা পুরো ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। রেকারিংয়ের বিল পরিশোধ করেন। এছাড়া সার্জেন্ট মেহেদীকে ১০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণও দেন। চালক ইউসুফ দোষ স্বীকার করে পা ধরে মাফও চান। সবকিছুই ঠিকঠাকই ছিলো। কিন্তু ফেসবুকে কে বা কারা ভিডিওটি আপলোড করে দিয়ে পরিস্থিতি উল্টে দিয়েছে।

এদিকে, গাড়িচালককে মারধরের অভিযোগে ধানমন্ডি ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. মেহেদী হাসানকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের এক অফিস আদেশে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডিএমপি মিডিয়া জানায়, ‘পুলিশ সার্জেন্ট মেহেদী হাসানের এ রকম অসদারচরণ, অপেশাদারমূলক ও শৃংঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে রবিবার চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্তের পাশাপাশি আদেশে উল্লেখ করা হয়, ব্যক্তিগত অসদাচরণ ও অপেশাদারমূলক কার্যকলাপের দায়ভার বাংলাদেশ পুলিশ নেবে না। এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ