চাঞ্চল্যকর শিশু ইমন হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে

প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০১৬

চাঞ্চল্যকর শিশু ইমন হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে

সংবাদদাতা, ছাতক : ছাতকে আলোচিত শিশু ইমন হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল সিলেটে স্থানান্তর করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সুনামগঞ্জ থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল সিলেটে স্থানান্তর করার বিষয়টি ২১জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। মামলা দায়েরের প্রায় এক বছর চার মাস পর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল সিলেটে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ফলে বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি ও সুবিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন নিহত শিশু মোসতাফিজুর রহমান ইমনের পিতা মামলার বাদি জহুর আলী।
ইমন উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বাতিরকান্দি গ্রামের সৌদি প্রবাসী জহুর আলীর পুত্র ও লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানার কমিউনিটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেনীর ছাত্র। ২০১৫সালের ২৭মার্চ বিকেলে নিজ বাড়ির আঙ্গিনা সংলগ্ন ছাতক-দোয়ারা সড়ক থেকে শিশু ইমনকে অপহরন করে ঘাতক বাতিরকান্দি জামে মসজিদের ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজন ও তার সহযোগীরা। ২৮মার্চ নিহত ইমনের পিতা জহুর আলী বাদি হয়ে ৭জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ছাতক থানায় মামলা (নং-৩২)দায়ের করেন। এদিকে মুক্তিপনের দু’লক্ষ টাকা না পেয়ে অপহরনকারিরা শিশু ইমনকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় রাখে। অবশেষে ৬এপ্রিল রাতে ইমনের বাড়ী সংলগ্ন মসজিদের আঙ্গিনায় এনে ইমনকে হত্যা করার পরিকল্পনা নেয় তারা। এ সময় শিশু ইমন পানির পিপাসায় কাতরাতে থাকলে খুনিরা তাকে বিষ মেশানো পানি পান করতে দেয়। এ পানি পান করে বিষের জ্বালায় ছটফট ও বমি করতে থাকলে ধরা পড়ার আশংকায় ঘাতক সুজনসহ তার সহযোগিরা ধারালো ছুরি দিয়ে ইমনকে নির্মমভাবে জবাই করে। পরে ইমনের বস্তাবন্দি লাশ বাতিরকান্দির পশ্চিমের হাওরে মাটি চাপা দিয়ে রাখে। ২০১৫সালের ৪এপ্রিল মোবাইল ট্যাকিংয়ের মাধ্যমে সিলেটের কদমতলী বাসষ্ট্যান্ড থেকে ঘাতক ইমাম সুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার কথামতে তল্লাশী করে পুলিশ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি, বিষের বোতল ও রক্তমাখা কাপড় মসজিদের পাশের একটি গর্ত থেকে উদ্ধার করে। এরপর গ্রামের আব্দুস ছালামের পুত্র জাহেদ, মৃত আব্দুল মোকতাদিরের পুত্র রফিক, ইসমাইল আলীর পুত্র বাচ্চু, মৃত আব্দুল করিমের পুত্র আব্দুল বাহার ও আব্দুল লতিফেরপুত্র নুরুল আমিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রায় ৭মাস পর এখন জামিনে রয়েছে আব্দুল বাহার ও নুরুল আমিন। ২২এপ্রিল হাওর থেকে ইমনের মাথার খুলি ও হাতের হাড্ডি উদ্ধার করে করা হয়। এছাড়া ইমাম সুজন, বাচ্চু, জায়েদ, রফিক জেলহাজতে আছে। এর অন্যতম আসামী সালেহ আহমদ পলাতক রয়েছে। মামলার বাদি ইমনের পিতা জহুর আলী জানান, শিশুপুত্র ইমন হত্যাকারিদের বিচারের মাধ্যমে দ্রুত ফাঁসী কার্যকরের অপেক্ষায় আছেন তিনি। বিজ্ঞ বিচারকমন্ডলী, ইমনের খুনীদের দৃষ্টান্তমুল শাস্তি প্রদান করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সর্বশেষ সংবাদ