বেপরোয়া নৃত্যের উল্লাস কিসের আলামত

প্রকাশিত: 4:13 PM, August 20, 2016

বেপরোয়া নৃত্যের উল্লাস কিসের আলামত

গত বৃহস্পতিবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। ফলাফল গত ক’বছর ধরে ভালই হচ্ছে। পাশের হার বাড়ছে তো বাড়ছেই। এটা একটা ইতিবাচক দিক বলা যায়। বর্তমান সরকারের সাফল্যের তালিকায় ‘শিক্ষা’ মোটা হরফে স্থান পেতে পারে। শিক্ষাব্যবস্থায় বেশ পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে শিক্ষকদের বেতন মানের বেশ অগ্রগতি হয়েছে সাম্প্রতিক কালে। শিক্ষানীতি হয়েছে, শিক্ষা পদ্ধতীতে নানা পরিবর্তন পরিবর্ধন সংযোজন বিয়োজন হচ্ছে। বাড়ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাড়ছে শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা। প্রাথমিকে উপবৃত্তি উচ্চ শিক্ষায় বৃত্তি সবই আছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা করেছেন দুর্গম ও পাহাড়ী এলাকায় আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার। এটাও একটি যুগান্তকারী ঘোষণা।

শিক্ষা ব্যবস্থায় এত প্রাপ্তি ও পরিবর্তনের ছোঁয়া শিক্ষার্থীদের গাঁয়ে কতটুকু লেগেছে? প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুল ড্রেস পাল্টিয়ে ‘এক্সট্রা ড্রেস’ পরে দারোয়ান ম্যানেজ করে ‘ডেটিং করে’ কখনো কখনো অনৈতিক কাজে ধরা পড়ে। এমন ঘটনার সংবাদ এখন শুনতে হয় দেখতে প্রিন্ট ও স্যাটেলাইট মিডিয়ায়। মদ গাঁজা মারিজুয়ানা ফেনসিডিল হেরোইন কোকেন ইয়াবায় আসক্ত অভিজাত পরিবারের উচ্চ শিক্ষার্থীরা এমন খবর এখন পুরোনো মনে হয়। সাম্প্রতিক তাজা খবর হল উচ্চ শিক্ষার্থীরা ‘জঙ্গি’ তৎপরতায় জড়িয়ে যাচ্ছে। গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা জড়িত ছিল। এর সুত্র ধরে দেখা যায় এ তৎপরতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সম্পৃক্ত। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন ছাত্র এ তৎপরতার সাথে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করেছে আইন শৃংখলা বাহিনী। আরো ভয়ানক ব্যাপার হলো এসবের পেছনে কতিপয় ‘শিক্ষক’ ও জড়িত। এসব অপতৎপতার ঘটনায় আমাদের উদ্বেগের শেষ নেই। দেশের আবালবৃদ্ধবণিতা এ অবস্থার উত্তরণ চান।
কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীদের মনে এসব কি কোন রেখাপাত করে। পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা হলে বেপরোয়া উল্লাস, ঢাক ঢোল পিটিয়ে নৃত্যের তালে চিৎকার চেঁচামেচি কিসের লক্ষ্য। শিশু কৈশোর বয়সে হতেই পারে এমনটা ধরে নিলাম, মেনে নিলাম। পিএসসি, জেএসসি কিংবা এসএসসি পর্যন্ত এমন উন্মাদনা না হয় মেনে নেয়া গেল। কিন্তু এইচএসসি উত্তীর্ণরা প্রাপ্ত বয়স্ক। তারা কিসের কারণে এমন উন্মাদনায় মেতে উঠে। একটি পাবলিক পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল কি খুব বেশী অর্জন? আমরা তো জানি জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের অনেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস কোন্দিন তাও বলতে পারেনা। তারা কি এসব জানেনা? এইচএসসি পাস করা হাজার হাজার কৃতিছাত্র সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে যায় নানা অপকর্মে অপরাধে। এসব কি তাদের লজ্জিত করেনা? একটা সন্তানকে এইচএসসি পর্যন্ত পৌঁছাতে বাবা মা বা অভিভাবকের কি কষ্ট পরিশ্রম ত্যাগ করতে হয়? তা কি এসব উত্তীর্ণকারীদের তাড়িত করেনা। মহান মা’বুদের অনুগ্রহ ছাড়া কোন কিছুই অর্জন সম্ভব নয়। তাদের এ অর্জনে মা’বুদের অনুগ্রহ রয়েছে এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো উচিৎ। তা কি এরা জানেনা? আমরা এমন বেপরোয়া উল্লাস চিৎকার চেঁচামেচিকে নিরুৎসাহিত করি। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের অগ্রণি ভূমিকা নিতে হবে। মনে রাখতে হবে এভাবেই একজন তরূণ তরূনীরা বিপথগামী হয়। আজ যে আপনার সামনে নাচানাচি ঢলাঢলি করছে আগামীকাল সে তার গার্লফেন্ড বা বয়ফ্রেন্ড নিয়ে করবে কোলাকোলি এরপর করবে গুলাগুলি। তখন তাকে সন্ত্রাসী জঙ্গি বলার আগে এখনি বলুন,‘এসব খারাপ’।
আমাদের মিডিয়াকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকার আহবান জানাই। কলেজে শত শত ছাত্র থাকতে ছাত্রীদের উল্লাস নৃত্যের চিত্র প্রকাশের মানে কি? মনে রাখা উচিত এই কলেজের ছাত্রীরা আমাদের কারো না কারো মেয়ে বা বোন কেন তাদের বেলেল্লাপনায় উৎসাহিত করে বিপথে যাবার মদদ দিচ্ছেন। একদিন এ অপকর্মের মাশুল আমাদের দিতে হবে।
সুতরাং উল্লাস চেঁচামেচি ঢাক ঢোল পিটিয়ে নৃত্য নয়। অর্জনের জন্য কৃতজ্ঞতা, পাবার জন্য দেবার মানসিকতা হোক আমাদের উদীয়মান শিক্ষার্থীর। এ বিষয়ে আমাদের শিক্ষক অভিভাবক ও গণমাধ্যমের ভুমিকা হোক আরো দায়িত্বশীল ও গঠনমুলক।

সর্বশেষ সংবাদ