সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পান্ডিত্য

প্রকাশিত: ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০১৭

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পান্ডিত্য

ফেসবুক। সাম্প্রতিক কালের জনপ্রিয় একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। প্রযুক্তির এই আবিস্কার স্বল্পতম সময়ে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। বিশে^র প্রতিটি প্রান্তের মানুষ অবলীলায় ব্যবহার করছে এ মাধ্যম। মার্ক জুকারবার্গ এই আবিস্কারের জন্যই অমর হয়ে থাকবেন । এমনটাই প্রত্যাশা ফেসবুক ব্যবহারকারীদের।
বিশে^র উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভূক্ত একটি দেশ বাংলাদেশ। শাসকমহলের ভাষ্যমতে ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে সোনার বাংলার। অন্যান্যক্ষেত্রে যা-ই হোক তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়ন চোখে পড়ার মত। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে ক্রমাগত। ব্যবসা বাণিজ্য শিক্ষা সংস্কৃতি চিকিৎসা অর্থনীতি সবক্ষেত্রই বিজ্ঞান-প্রযুক্তি দ্বারা প্রভাবিত। অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত বলা যায়।
প্রযুক্তির অন্যতম আবিস্কার ফেসবুক ব্যবহারে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর অন্যতম। তথ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় ৯ কোটি মানুষ ফেসবুক নিয়মিত ব্যবহার করছেন বাংরাদেশে। প্রশ্ন হলো ব্যবহারকারীরা কি করছেন ফেসবুকে। তথ্য অনুসন্ধানমতে, ফেসবুক ব্যবহারকারীর ৬০ ভাগ তরুণ প্রজন্মের। তরুণ প্রজন্মের ফেসবুক ব্যবহারকারী এমন কোন কিছু না নেই যা করেনা। সম্ভাব্য সব অসাধন সাধ্য কওে হাতের মুঠোর ফোনে, ল্যাপটপে বা ডেস্কটপে। রাজপথে চলতে টিপছে ফেসবুক, নিরালায় বসে টিপছে ফেসবুক, গভীর রাতে বিছানায় ক্যাথা মুড়ে নিমগ্ন ফেসবুকে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বয়সে অতি গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকু খুব যে জীবনধর্মী কাজে ব্যয় হচ্ছে তা বলা যাবেনা।
ফেসবুক ব্যবহারকারীর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ খুল্লাম খোলা উদাম সমালোচনায় মগ্ন। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন শাস্ত্র, নৃ-বিজ্ঞান, মহাকাশ বিজ্ঞান, জীবরহস্য থেকে বিজ্ঞানের গুড় তথ্য নিয়ে চলে যাচ্ছে তাই আলোচনা সমালোচনার স্ট্যাটাস। অথচ সমালোচনাকারীদের প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় সাধারণ বিজ্ঞান পাঠের শ্রেণীও তারা পাশ করেছেন তিন/চার বার পরীক্ষা দিয়ে।
এখানেই থেমে নেই এই শ্রেণী কুরআন, বেদ, বাইবেল নিয়ে চলে তাদের পান্ডিত্যপনা। এসবে যে কেবলই বিভ্রান্তি ছড়ানো ছাড়া আর কিছু হয় না। তা কি তারা ভেবে দেখে?
রাজনীতি , সমাজনীতি, অর্থনীতি কিংবা সমাজের সঙ্গতি অসঙ্গতি নিয়ে সমালোচনার কথা না হয় বাদ দিলাম।
তরুণ প্রজন্মেও ফেসবুক ব্যবহারকারীরা মত্ত থাকেন ভালোবাস- প্রেমের উপাখ্যান নিয়ে আলোচনা সমালোচনায়। এক্ষেত্রে তারা কাজে লাগান প্রযুক্তির আশির্বাদে দর্শনীয় বিভিন্ন পর্ণোগ্রাফির অভিজ্ঞতা। একটি স্ট্যাটাস দিয়ে হিসেব কষেন ‘লাইক’ আর ‘কমেন্ট’ কতটি পড়লো। এই হলো আমাদের প্রজন্মের চিন্তা আর ধ্যান ধারণা। সৃষ্টি কিংবা শিক্ষণীয় কোন কিছু নিয়ে চিন্তা ভাবনা অনুশীলন যেন তাদেও মাথা থেকে উধাও।
সমালোচনা বা আলোচনায় আমরা আপত্তি করছিনা। আমরা শুধু বলতে চাই, আপনি যা নিয়ে লিখছেন বা বলছেন তার সম্যক ধারণা নিয়ে চর্চা করুন। যাকে সমালোচনা করছেন তার সম্পর্কে তার অবস্থানে বা তার পর্যায়ে পৌছা কি আপনার দ্বারা সম্ভব? মোবাইল টিপ দিয়ে অনেক রথি মহারথির সমালোচনা করা যতখানি সহজ তার চেয়ে হাজার গুন কষ্ট সে জায়গায় পৌঁছা।
আমরা আশা করবো, বাস্তবতা উপলব্ধি কওে নিজেকে সমালোচনা কওে তারপর অন্য বিষয় বা ব্যক্তিকে নিয়ে মতামত লিখুন, বলুন। চেষ্টা করুন সৃষ্টিশীল শিক্ষণীয় বিনোদনের। মনে রাখবেন, আজকের যে মুহুর্তটা আপনি অবান্তর কাজে ব্যয় করলেন হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে আগামীকাল এই সময়টুকু ফিওে পাবেন না। পান্ডিত্যপনার আগে পান্ডিত্য অর্জনে হোক আমাদের মনোনিবেশ।

সর্বশেষ সংবাদ