টয়লেটে আপত্তিকর অবস্থায় লিডিং ভার্সিটির ছাত্রছাত্রী: বেদম পিটুনি

প্রকাশিত: ১২:১৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৭, ২০১৭

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক : টাওয়ারের টয়লেটে আপত্তিকর অবস্থায় ভার্সিটির দুই ছাত্রছাত্রীকে আটক করেছেন ব্যবসায়ীরা। তৎক্ষণাৎ বিক্ষুব্ধ কয়েকজন ব্যবসায়ী বেদম পিটুনি দেন ঐ ছাত্রছাত্রীকে। গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতায় ছাত্র-ছাত্রীদের জনতার রোষানল থেকে উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে ২১ মার্চ (মঙ্গলবার) বিকেল ৫টার দিকে।

সিলেট নগরীর সুরমা টাওয়ারের শৌচাগারে ঢুকে অসামাজিকতা করার দায়ে লিডিং ইউনিভার্সিটির ২ ছাত্র-ছাত্রীকে গণপিঠুনি দিয়েছেন মার্কেটের ব্যবসায়ীবৃন্দ।

জেলহাজতে থাকা শিল্পপতি রাগীব আলীর গড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লিডিং ইউনিভার্সিটির ছাত্র সুমন ও ছাত্রী জয়া (ছদ্মনাম) মঙ্গলবার বিকেলে সুরমা টাওয়ারের ৩য় তলার একটি শৌচাগারে ঢুকে অনেক্ষণ না বের হওয়ায় পার্শ্ববর্তী দোকানের ব্যবসায়ীদের নজরে আসে। এ ছাত্র-ছাত্রী দুজন একই শৌচাগার থেকে ২০ মিনিট পর বের হওয়াতে ব্যবসায়ীরা তাদের ঘিরে ধরলে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় ব্যবসায়ীরা তাদের ‘একই টয়লেটে তোমরা ২জন এতক্ষণ কি করছিলে’ প্রশ্ন করলে তারা কোনো সদুত্তর না দিয়ে ব্যবসায়ীদের পা ধরে ক্ষমা চাইতে থাকেন। তখন উত্তেজিত কয়েকজন ব্যবসায়ী তাদের উত্তম-মধ্যম দিতে শুরু করলে ছাত্র-ছাত্রী দুজন কান্নায় ভেঙে পড়ে বার বার ক্ষমা চাইতে থাকে। উপস্থিত জনতার চিৎকার-চেচামেচিতে সুরমা টাওয়ারের সব তলার ব্যবসায়ীরা ৩য় তলার শৌচাগারের সামনে ভীড় জমান।

এসময় (সুরমা টাওয়ারের ৩য় তলায় অবস্থিত) দৈনিক প্রভাতবেলা’র কয়েকজন স্টাফ ও ব্যবসায়ী অভিযুক্ত ছাত্র-ছাত্রী ২জনকে জনতার রোষানল এবং গণপিঠুনি থেকে উদ্ধার করে লিডিং ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেন। তৎক্ষনাৎ বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে টাওয়ার কর্তৃপক্ষের পক্ষে মামুন খানের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যবসায়ী ৫ম তলায় অবস্থিত লিডিং ইউনিভার্সিটিতে আটক ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়ে যান। লিডিং  ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস দিলে ব্যবসায়ীরা চলে আসেন।।

সন্ধ্যার পরে লিডিং ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. এসএম আলী আক্কাসের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে দৈনিক প্রভাতবেলাকে বলেন, আমাদের ২জন ছাত্র-ছাত্রীকে ব্যবসায়ীরা নিয়ে এসেছে। আপত্তিকর অবস্থায় তাদেরকে টয়লেটে পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব ।

 

লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে এর আগেও এমন অভিযোগ কয়েকবার টাওয়ারের ব্যবাসয়ীবৃন্দ কতৃপক্ষের কাছে দিয়েছেন কিন্তু আপনার এ ব্যাপারে উদাসীন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে  তিনি তা অস্বীকার করে বলেন,না- এর আগে এমন কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। ড. আক্কাস বলেন, এগুলো কোন নিউজ নাকি?

উল্লেখ্য, সুরমা টাওয়ারের ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা নিয়ে সিলেটের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লিডিং ইউনিভার্সিটির কয়েকটি বিভাগের ক্যাম্পাস। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির সুরমা টাওয়ারাস্থ ক্যম্পাস শিক্ষাক্ষেত্রে সুনামের পাশাপশি ‘অসামাজিকতা’ বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে যাচ্ছে। টাওয়ারের প্রায় সকল ব্যবসায়ীদের অভিযোগ- ইউনিভার্সিটির কতিপয় ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিনই টাওয়ারে বিভিন্ন ফ্লোরে আনাচে-কানাচে জোড়ায় জোড়ায় বসে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হন। টাওয়ারের ৪দিকের ৪টি সিঁড়িই এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য যেন ঢাকার রমনা কিংবা যমুনা পার্ক। টাওয়ারের ব্যবসায়ী কিংবা আগত লোকজনের সামনেই ছেলে-মেয়েরা পরষ্পরকে জড়িয়ে ধরা, কাধে মাথা রেখে শুয়ে-বসে থাকা, একে-অপরের অনিরাপদ দুরত্বে বসে থাকা এমন ঘটনা নিত্যদিনের চিত্র। এ ছাড়াও ক্লাস চলাকালীন সময়ে ছাত্র-ছাত্রীরা মিলে এক সাথে বিভিন্ন তলার সিঁড়ি এবং টাওয়ারের আনাচে-কানাচে বসে অতি উচ্চসুরে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গান গেয়ে শব্দদুষণ তৈরির ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে।

এ নিয়ে টাওয়ারের ক্ষব্ধ ব্যবাসয়ীরা বার বার লিডিং ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন।

নোট : ১) সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে লিডিং ইউনিভার্সিটির অভিযুক্ত ছাত্র-ছাত্রীর নাম প্রকাশ এবং নিউজের সাথে সম্মুখ ছবিও আপলোড করা হয় নি।

২) লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ে শিঘ্রই আসছে বিস্তারিত প্রতিবেদন। চোখ রাখুন দৈনিক প্রভাতবেলার অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে।

সর্বশেষ সংবাদ