মামলায় পথহারা কানাইঘাটের শিক্ষক অাব্দুর রহমান

প্রকাশিত: ৬:১২ অপরাহ্ণ, মে ৯, ২০১৭

মামলায় পথহারা কানাইঘাটের শিক্ষক অাব্দুর রহমান

সংবাদদাতা,কানাইঘাট: মো: অাব্দুর রহমান। বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমাবাজারস্থ অাগতালুক গ্রামে। সিলেটের ওসমানীনগর থানায় নেই তার কোন অাত্বিয় স্বজন। কোনদিন যাননিও ঐ এলাকায়। অথচ সেই থানারই একটি হত্যা মামলার অাসামী তিনি। শুধু তাই নয় যে হত্যা মামলার অাসামী তিনি সেই খুন হওয়া ব্যক্তির বাড়ি ফেঞ্চুগঞ্জ থানায়। ফেঞ্চুগঞ্জেও নেই তার কোন অাত্তীয় স্বজন কিংবা বন্ধু বান্ধব। ঐ এলাকায়ও যাননি কখনো। সেই মামলায় পুলিশ বাড়িতে অাসার অাগ পর্যন্ত জানতেন না তিনি কিছুই। পুলিশ এসে গ্রেফতার করার পর হতবাক তিনি বিষ্মিত তাঁর পরিবার। এমন অদ্ভুত ঘটনাই ঘটেছে মাদরাসা শিক্ষক অাব্দুর রহমানের সাথে। বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ইলাশপুর গ্রামের মো: নজরুল ইসলামের পুত্র সিরাজুল ইসলামকে বিগত ২০১৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ওসমানীনগরের ইছামতি দক্ষিণ পাড়ার মাহমুদ অালীর বাড়িতে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যা মামলায় ১২ জনকে অাসামী করে ওসমানী নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা মো: নজরুল ইসলাম। থানার মামলা নং ১৬, তারিখ ২৫/০৬/২০১৬, জি অার মামলা নং ১৭৯/২০১৪। ঐ মামলায় ১০ নম্বর অাসামী করা হয় কানাইঘাটের অাব্দুর রহমানকে। কিন্তু অাব্দুর রহমান এ ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। ২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর পুলিশ অাব্দুর রহমানকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে এবং ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে তিনি জামিনে মুক্তি লাভ করেন। কওমী মাদরাসার শিক্ষক অাব্দুর রহমানকে কানাইঘাট থানা থেকে প্রায় পাঁচটি থানা দুরবর্তী ওসমানী নগরের একটি হত্যা মামলায় অাসামী করায় হতবাক হয়েছে তাঁর এলাকার জনগণও। অাব্দুর রহমান কানাইঘাট- জকিগজ্ঞের সংসদ সদস্য অালহাজ্ব সেলিম উদ্দিন বরারর হয়রানি ও ষড়যন্ত্র মুলক মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী একটি অাবেদন করেন। সংসদ সদস্য পুলিশ ব্যুারো অব ইনভেস্টিকেশ (পিবিঅাই) বরাবরে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করে পাঠিয়ে দেন। সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অাবেদনে অাব্দুর রহমান বলেন, অামি কওমী মাদরাসার শিক্ষক। বর্তমানে অামি অামার নানার বাড়ি অাগতালুক গ্রামে মৃত বরকত উল্লাহর বাড়িতে অামার মা সুরতুন নেছার সহিত বসবাস করি। অামার পিতা কুতুব উদ্দিন অারেকখানা বিবাহ করিয়া অন্য সংসার করিতেছেন। প্রকাশ থাকে যে, অামি অামার মায়ের সাথে নানার বাড়িতে থাকার কারণে মামার চাচাতো ভাই রইছ উদ্দিন অামার মায়ের ভিটা বাড়ি ও জমি দখল করিয়া অামাকে ও অামার মাকে বাড়ি হইতে তাড়াইয়া দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন যাবত অপচেষ্টায় লিপ্ত রহিয়াছেন। তাহার সাথে দীর্ঘদিন হইতে জমি জমার বিরোধ থাকার কারণে রইছ উদ্দিন অামাকে উক্ত মামলায় অাসামী করিতে পারেন বলে অামি মনে করি। কওমী শিক্ষক অাব্দুর রহমান ষড়যন্ত্র মুলক মামলা থেকে তাকে অব্যাহতির জন্য সিলেটের পুলিশ সুপার বরাবর ২০১৬ সালের ১০ মার্চ একটি অাবেদন করেছেন। অাব্দুর রহমানকে মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য বিভিন্ন মহল সুপারিশও করেছেন। ওয়ার্ড সদস্য মর্তুজা অালী, হাজী অাব্দুল জলিল ও অাশফাক উদ্দিন ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারী পিবিঅাই বরাবরে সুপারিশ করে অাবেদন করেন। অাবেদন করেন অালহাজ্ব বশির অাহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল অামিন, গাছবাড়ী মজাহিরুল উলুম কওমী মাদরাসার মুহতামিম অাজমত উল্লাহ। স্থানীয় এলাকাবাসী এ ঘটনার সুষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে অসহায় কওমী মাদরাসার এই শিক্ষককে মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য অনুরুধ জানিয়েছেন। মামলার অাসামী অাব্দুর রহমান বলেন, অামি অামার এ জীবনে ওসমানীনগরে যাইনি। ওসমানী নগরে অামার কোন অাত্তীয় স্বজনও নেই। নিহত ব্যক্তির থানা ফেঞ্চুগঞ্জেও কখনো যাইনি। অথচ অামি নিরপরাধ এক অসহায় ব্যক্তিকে একটি হত্যা মামলায় অাসামী করা হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ