" /> বন্যার্ত শিশুদেরকে রিকশা চালকের উপহার – দৈনিক প্রভাতবেলা

বন্যার্ত শিশুদেরকে রিকশা চালকের উপহার

প্রকাশিত: ১:১১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০১৭

এম. রাজু আহমেদ, জুড়ী :
পেশায় তিনি রিকসা চালক। অতিদরিদ্র পরিবার তাঁর। নিজে দরিদ্র হওয়ায় অপর হতদরিদ্র মানুষদের জন্য সব সময় তাঁর মন কাঁদে। সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতার চেষ্টাও করেন। বৃহত্তর পরিসরে জনসেবার লক্ষ্যে নিজের জীবিকার্জনের একমাত্র মাধ্যম পুরনো রিকসা বিক্রি করে গত ইউপি নির্বাচনে নিজ ওয়ার্ডের সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু কালো টাকার কাছে তিনি হার মানেন। মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মনতৈল গ্রামের বাসিন্দা মিরাজ মিয়া (৩৫) নির্বাচনে পরাজিত হলেও জনসেবা থেকে পিছ পা হননি। টিলা ধস, বন্যা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ কিংবা যে কোন সমস্যায় ধনী-গরীব নির্বিশেষে তিনি ছুটে যান মানুষের পাশে।
সম্প্রতি বন্যায় উক্ত ওয়ার্ডের মনতৈল, কালীনগর, মোহাম্মদনগর গ্রামের শতশত বাড়ীঘর প্লাবিত হয়। পানিবন্দি মানুষ রান্নার অভাবে ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না। বিশেষ করে শিশুরা একেবারেই অসহায়। বিদ্যালয় কিংবা গ্রামের দোকানে গিয়ে কোন কিছু কিনে খেতে পারছে না। এ বিষয়টি চিন্তা করেন মিরাজ মিয়া। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাওয়া ত্রাণের বিশ কেজি চাল নিজে না খেয়ে বিক্রি করে দেন এবং স্থানীয় সমাজসেবী কিছু মানুষের নিকট থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে ছুটে যান পানিবন্দি শিশুদের কাছে। প্রতি শিশুর জন্য আধা কেজি মুড়ি, দুইটি দুধের চকলেট, একটি বাদামের চকলেট এবং পরিবারের জন্য একটি করে দিয়াশলাই নিয়ে হাঁটু পানি আবার কোথায়ও কোমর পানি মাড়িয়ে বাড়ী বাড়ী গিয়ে শিশু ও তাদের পরিবারের কাছে এ গুলো পৌঁছে দেন। গত তিন দিনে দুই শতাধিক বাড়ীতে এ গুলো বিতরণ করেন, যা এখনও অব্যাহত আছে।
এক প্রতিক্রিয়ায় মিরাজ মিয়া বলেন, ‘শিশুদের চঞ্চল মন, ওরা সারাক্ষণ দৌঁড়ঝাপ করে, এটা-ওঠা খায়। কিন্তু এখন পানিবন্দি হওয়ায় তাদের মন হয়তো কাঁদছে। তাই তাদেরকে আনন্দ দিতে ত্রাণ নয়, এগুলো আমার ক্ষুদ্র আনন্দ উপহার। আমার আর্থিক সামর্থ থাকলে উপজেলার সকল পানিবন্দি শিশুকে আমি এ উপহার দিতাম’। বন্যার্ত অসহায় মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য সমাজের বিত্তশালীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

 

  • 99
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    99
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ