ঘরের সাজে লাইটের ব্যবহার

প্রকাশিত: 4:04 AM, July 20, 2017

গৃহশৈলী ডেস্ক: ব্যস্ত শহরের এই কোলাহলময় জীবনে সামান্য শান্তির ছোঁয়া পাওয়ার আশায় মানুষ কত কিছুই না করে, যার মধ্যে গৃহ অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা অন্যতম। বর্তমান সময়ে অন্দর মহলের সাজসজ্জা খুুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। মানুষ তার বসবাসের জায়গা অথবা কর্মক্ষেত্রে অন্যরকম নতুনত্ব আনার জন্য এই গৃহশৈলী ব্যবস্থাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। যে ঘরে আপনার নিত্য বসবাস সেটি আকর্ষণীয় হওয়া চাই, আর এ জন্যই লাইটিং ব্যবস্থার জুড়ি নেই। শুধু ব্যবহার করার জন্যই নয় বরং এটি হয়ে উঠতে পারে আপনার ঘর সাজানোর অন্যতম অনুষঙ্গ। যে কারণে ঘরে লাইটের ব্যবহার এতটা নান্দনিক। বর্তমান সময়ে খুব বেশি জাঁকজমকপূর্ণ নয় বরং খুবই সাদামাটা ডিজাইনের লাইট ব্যবহার হচ্ছে।
প্রকৃতির আলোর উপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের ঘরকে নান্দনিক ও সুন্দর করে তুলতে পারি। ‘শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি’র ইন্টেরিয়র বিভাগের শিক্ষক রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘আমরা প্রকৃতির উৎস থেকে পাওয়া আলোর যথাযথ ব্যবহার করে বিদ্যুতের চাপ কমাতে পারি, আর যার দায়িত্ব নিতে হবে ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের।’
তিনি বলেন, আমরা কোনো ঘরের ডিজাইন করার সময় প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার করার কথা মাথায় রেখে গ্লাসের ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা করতে পারি, যা ঘরের সৌন্দর্যে আলাদা মাত্রা দেবে, দেখতেও সুন্দর লাগবে। বর্তমান সময়ে খুব বেশি ব্যবহার হচ্ছে কৃত্রিম লাইট, এই কৃত্রিম লাইট ব্যবহার করে আপনার ঘরে ভিন্নমাত্রা যোগ করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে ঘর তৈরি করার সময় লাইটের সুইচ ও তার কোথায় কোথায় হবে তা আগে থেকেই ভেবে নিন, যাতে লাইটের সুইচগুলো চোখে না পড়ে। কারণ তা সরাসরি থাকলে ঘরের সৌন্দর্য অনেকাংশে নষ্ট হয়ে যায়। তাই অন্দরসাজে লাইটকে এমনভাবে ব্যবহার করুন, যাতে লাইট ও এর আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর উৎস চোখে না পড়ে, যা আপনার চোখের জন্য আরামদায়ক।
খুব বেশি দামি বা সংখ্যায় অনেক বেশি নয়, বরং বৈচিত্র্যপূর্ণ ডিজাইন আর ব্যবহারের উপযোগিতার কথা ভেবেই বিভিন্ন ধরনের লাইট আমদানি ও বিক্রি করছি, বললেন উত্তরার লাইট সিটির কর্ণধার। মানুষ অতীত ধারণা থেকে বের হয়ে এসে বর্তমানে তার ঘরকে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানোর কথা চিন্তা করছে, যার ফলে এ সময় ঘর সাজাতে ও ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিভিন্ন ধরনের লাইটের ব্যবহার অত্যাবশ্যকীয়।
লাইট কিনতে এসে শবনম মুস্তারি পপি বলেন, ‘ঘরকে পছন্দসই নানা ধরনের লাইট দিয়ে একটু ভিন্নমাত্রায় ফুটিয়ে তুলতে নিজেই ঘুরে ঘুরে লাইট সংগ্রহ করছি।’
একটি ঘরের বিভিন্ন কক্ষে বিভিন্ন ধরনের লাইটের ব্যবহার করা যেতে পারে। ড্রইংরুম সাজাতেও পর্যাপ্ত আলো পেতে প্রেনেন্ড লাইট, সেন্ডেলিয়ার লাইট ব্যবহার করুন। এগুলো ক্রিস্টাল আথবা মেটাল দুই ধরনের হতে পারে। বেডরুম সাজানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের লাইটের ব্যবহার চোখে পড়ে। বেডরুমে একটু কম আলো ও রঙিন লাইট ব্যবহার করা যেতে পারে। বেডরুমের কর্নারে একটু কম আলোর বিভিন্ন রঙের লাইটের ব্যবহারের ফলে রুমের মধ্যে আলো-ছায়ার খেলা খুব উজ্জ্বলভাবে চোখে পড়ে, যা ক্লান্ত দেহকে সামান্য হলেও আরাম দেবে। বেডরুমে বিভিন্ন ধরনের ওয়াল বেকেট, বেডসাইট ল্যাম্প, টিউব শেড, ফেন্সি টিউব শেড ব্যবহার করা যেতে পারে। খাবার ঘরের টেবিলের নতুনত্ব আনতে উজ্জ্বল লাইট ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে এ ক্ষেত্রে রাতের জন্য øি হলুদ রঙের লাইট ব্যবহার করুন। বাচ্চাদের রুমে লাইট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নজর রাখুন তা যেন হালকা হয়। বাচ্চাদের রুমে স্টাডি লাইট বা টেবিল ল্যাম্প বেশি ব্যবহার করা যেতে পারে।
ঢাকার উত্তরার লাইটিং সিটি, লাইটিং সেন্টার ও গুলশানের লাইটিং ওয়ার্ল্ড এ ধরনের লাইট বিক্রি করে থাকে। এ ছাড়া পুরান ঢাকার নবাবপুর, ধানমণ্ডি ও নিউমার্কেটের বিভিন্ন দোকানেও এ ধরনের লাইট পওয়া যায়। লাইটিং সিটির কর্মচারী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন ডিজাইনের লাইটের ওপর ভিত্তি করে এর দাম নির্ধারণ করা হয়। যেমন- বিভিন্ন ধরনের ওয়াল লাইট, ওয়াল বেকেট, টিউব শেড, স্টাডি লাইট, টেবিল ল্যাম্প ইত্যাদির দাম ৩৫০ থেকে শুরু করে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়। আবার প্রেনেন্ড লাইট, সেন্ডেলিয়ার লাইটগুলো ১০ হাজার থেকে শুরু করে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। তো আর কী? লাইটের ব্যবহারের শৈল্পিকতায় ফুটিয়ে তুলুন আপন ঘরকে, যা আপনাকে জোগাবে মানসিক শান্তি আর ঘরকে করে তুলবে অসাধারণ।

সর্বশেষ সংবাদ