রোহিঙ্গাদের মতো পরিস্থিতি বাঙালীদেরও হতে পারে

প্রকাশিত: ১:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৭

এমএ আজিজ: কথাটা শুনেই চমকে উঠতে পারেন আপনি। কিন্তু আমার কেনো জানি তাই মনে হচ্ছে । আরাকানের শাসকজাতিকে আজ রাস্তার ফকির করা হয়েছে যেভাবে, আমাদের অবস্থাও তেমন হতে পারে । আমাদের আকাশসীমা বার্মা বারবার লংঘন করে চলেছে আর আমরা তাদের রাষ্ট্রদূতকে শুধু তলব করে যাচ্ছি। অনেকে বলছেন, বাংলাদেশ কেন যুদ্ধ শুরু করে না? আসলে যুদ্ধ বঁাধানোর জন্যই মিয়ানমার আমাদেরকে আমন্ত্রণ করছে। তঁাদের দাদাদের পঁাতানো এই মরণ খেলায় বাংলাদেশের জড়িয়ে পড়া আত্নহত্যার শামিল । এ ব্যাপারে আমাদের সরকারকে সদা সতর্ক ও বিচক্ষণ থাকতে হবে।আওয়ামীলীগ -বিএনপি,জামায়াত -হেফাজত বিবিধ ভেদাভেদ ভুলে বাংলাদেশি সবার দল-মতের ঊর্ধ্বে ওঠে মনে রাখতে হবে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া যেতে পেরেছে ; কিন্তু আমাদের তিন দিকে ভারত,যাওয়ার একটি মাত্র রাস্তা বংোপসাগর বা কবর।
মিয়ানমারের মতো ছোট একটা দেশ আমাদের সীমানায় রীতিমতো যুদ্ধের দামামা বাজাচ্ছে – এটা তারা একা করার সাহস করতে পারে না । হ্যা,চরমপন্থা বা উগ্রচিন্তা দ্বারা তাদের রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালিত বলেই একদিকে তাদের পৈশাচিকতা আইয়্যামে যাহেলিয়াতকেও হার মানিয়েছে, অন্যদিকে তারা বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিন্দা, চাপ কিছুর ই যেনো ধার ধারে না। তবে এটা এখন সবার কাছে অনেকটা পরিষ্কার যে চিরশত্রু চীন -ভারত কেন একই সুরে কথা বলছে? সহজ উত্তর হলো – ভূরাজনৈতিক,সামরিক ও বাণিজ্যিক কারণে এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতপূর্ণ বংোপসাগরের তীরে অবস্থিত রাখাইন রাজ্য ও পার্শবর্তী এলাকার ধন-দৌলত ভাগাভাগির ক্ষেত্রে তারা উভয়ই ঐক্যমত্যে পৌছে গেছে। আমেরিকার আশীর্বাদটাও নোবেলকলঙ্ক সুচি ও খুনিরাষ্ট্র মগের মুল্লুকের পক্ষে।

তাহলে শান্তিতে নোবেলজয়ী সুচির অশান্তির আগুনে পুড়িয়ে বার্মার রাখাইন রাজ্যে মুসলিম জাতিগোষ্ঠী নির্মূলের নীলনকশা বাস্তবায়নের পেছনে এই তিন রাষ্ট্র ছাড়াও আরেকটি বর্বর রাষ্ট্র আমাদের জন্যোও অবশ্যম্ভাবী হুমকির কারণ হয়ে পড়তে পারে। সেই রাষ্ট্র হলো ইসরাইল। তাদের পরিকল্পিত ছোট্র অথচ বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ ইহুদী রাষ্ট্র হবে মুসলমান বিতাড়িত আজকের রাখাইন। আর তখন আমাদের অবস্থা ঠিক আজকের রোহিঙ্গা মুসলমানদের মতো হতে পারে। তারা মুহূর্তেই চট্টগ্রাম -ফেনি-নোয়াখালী ছাড়িয়ে ২য় পর্যায়ে কুমিল্লা – বি.বড়িয়া এবং সর্বশেষ সিলেট পর্যন্ত দখলে নিতে চাইবে । ফলে চীন- ভারতের একচেটিয়া আবাধ বাণিজ্য নিশ্চিত হবে আর নব্য ইহুদিরাষ্ট্র রাখাইন অথবা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের দুর্বল পুতুল সরকারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ায় তার মুড়লগিরি পাকাপুক্ত করবে। পাশাপাশি, বংগোপসাগরের গ্যাস-তেলের মালিকানাও চলে যেতে পারে তাদের  হাতে।

এমএ আজিজ, সহযোগি অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, নুরজাহান মেমোরিয়েল মহিলা ডিগ্রি কলেজ, সিলেট।

সর্বশেষ সংবাদ