,

কারা এই ভাগ্যাহত রোহিঙ্গা?

প্রভাতবেলা ডেস্ক:আরাকান নামে একসময় একটি সমৃদ্ধ স্বাধীন মুসলিম রাজ্য ছিল।যার প্রাচীন নাম রোহিং। বর্তমান মিয়ানমারের রাখাইন (আরাকানের বর্তমান নাম, পুরনো নাম রোহিং) এলাকায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বসবাস।

ঐতিহাসিক বিবরণ থেকে জানা যায়, এই উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সর্বপ্রথম যে ক’টি এলাকায় মুসলিম বসতি গড়ে উঠে, আরাকান তথা বর্তমান রাখাইন প্রদেশ তার অন্যতম। রোহিঙ্গারা সেই আরকানী মুসলমানদের বংশধর। এক সময় আরাকানে স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় ১৪৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম শাসন দুশ’ বছরেরও অধিককাল স্থায়ী হয়।

নামকরণ
রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে একটি প্রচলিত গল্প রয়েছে এভাবে_ সপ্তম শতাব্দীতে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া একটি জাহাজ থেকে বেঁচে যাওয়া লোকজন উপকূলে আশ্রয় নিয়ে বলেন, আল্লাহর রহমে বেঁচে গেছি। এই রহম থেকেই এসেছে রোহিঙ্গা।
তবে,ওখানকার রাজসভার বাংলা সাহিত্যের লেখকরা ঐ রাজ্যকে রোসাং বা রোসাঙ্গ রাজ্য হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

অষ্টম শতাব্দীতে আরবদের আগমনের মধ্য দিয়ে ব্যাপকভাবে আরাকানে মুসলমানদের বসবাস শুরু হয়। আরব বংশোদ্ভূত এই জনগোষ্ঠী মায়্যু সীমান্তবর্তী অঞ্চলের (বাংলাদেশের
চট্টগ্রাম বিভাগের নিকট) চেয়ে মধ্য আরাকানের নিকটবর্তী ম্রক-ইউ এবং কাইয়্যুকতাও শহরতলীতেই বসবাস করতে পছন্দ করতো। এই অঞ্চলের বসবাসরত মুসলিম জনপদই পরবর্তীকালে রোহিঙ্গা নামে পরিচিতি লাভ করে।

ভাষা
ইতিহাস ও ভূগোল বলছে, রাখাইন প্রদেশের উত্তর অংশে বাঙালি, পার্সিয়ান, তুর্কি, মোগল, আরবীয় ও পাঠানরা বঙ্গোপসাগরের উপকূল বরাবর বসতি স্থাপন করেছে। তাদের কথ্য ভাষায় চট্টগ্রামের স্থানীয় উচ্চারণের প্রভাব রয়েছে। উর্দু, হিন্দি, আরবি শব্দও রয়েছে।

মগের মুল্লুক
রাখাইনে দুটি সম্প্রদায়ের বসবাস ‘মগ’ ও ‘রোহিঙ্গা’। মগরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। মগের মুল্লুক কথাটি বাংলাদেশে পরিচিত। দস্যুবৃত্তির কারণেই এমন নাম হয়েছে ‘মগ’দের। এক সময় তাদের দৌরাত্ম্য ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। মোগলরা তাদের তাড়া করে জঙ্গলে ফেরত পাঠায়।
.
ইতিহাস
ইতিহাস এটা জানায় যে, ১৪৩০ থেকে ১৭৮৪ সাল পর্যন্ত ২২ হাজার বর্গমাইল আয়তনের রোহিঙ্গা স্বাধীন রাজ্য ছিল। মিয়ানমারের রাজা বোদাওফায়া এ রাজ্য দখল করার পর বৌদ্ধ আধিপত্য শুরু হয়।

ব্রিটিশদের দায়
এক সময়ে ব্রিটিশদের দখলে আসে এ ভূখণ্ড। তখন বড় ধরনের ভুল করে তারা এবং এটা ইচ্ছাকৃত কিনা, সে প্রশ্ন জ্বলন্ত। তারা মিয়ানমারের ১৩৯টি জাতিগোষ্ঠীর তালিকা প্রস্তুত করে। কিন্তু তার মধ্যে রোহিঙ্গাদের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এ ধরনের বহু ভূল করে গেছে ব্রিটিশ শাসকরা।

সাময়িক অধিকার
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি মিয়ানমার স্বাধীনতা অর্জন করে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু হয়। সে সময়ে পার্লামেন্টে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল। এ জনগোষ্ঠীর কয়েকজন পদস্থ সরকারি দায়িত্বও পালন করেন।

নাগরিকত্ব বাতিল
১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলে মিয়ানমারের যাত্রাপথ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হতে শুরু করে। রোহিঙ্গাদের জন্য শুরু হয় দুর্ভোগের নতুন অধ্যায়। সামরিক জান্তা তাদের বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে। তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। ধর্মীয়ভাবেও অত্যাচার করা হতে থাকে। নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়া হয়। হত্যা-ধর্ষণ হয়ে পড়ে নিয়মিত ঘটনা। সম্পত্তি জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়। বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োজিত করা হতে থাকে। তাদের শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নেই। বিয়ে করার অনুমতি নেই। সন্তান হলে নিবন্ধন নেই। জাতিগত পরিচয় প্রকাশ করতে দেওয়া হয় না। সংখ্যা যাতে না বাড়ে, সে জন্য আরোপিত হয় একের পর এক বিধিনিষেধ।
.
‘কালা’
মিয়ানমারের মূল ভূখণ্ডের অনেকের কাছেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ‘কালা’ নামে পরিচিত। বাঙালিদেরও তারা ‘কালা’ বলে। ভারতীয়দেরও একই পরিচিতি। এ পরিচয়ে প্রকাশ পায় সীমাহীন ঘৃণা।
.
মানবাধিকারের চরম লংঘন
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বলা হয় “বিশ্বের সবচেয়ে কম প্রত্যাশিত জনপদ”এবং “বিশ্বের অন্যতম নিগৃহীত সংখ্যালঘু”। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের ফলে তারা নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হন। তারা সরকারি অনুমতি ছাড়া ভ্রমণ করতে পারে না, জমির মালিক হতে পারে না এবং দুইটির বেশি সন্তান না নেওয়ার অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অনুসারে, ১৯৭৮ সাল থেকে মায়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গারা মানবাধিকার লংঘনের শিকার হচ্ছে এবং তারা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে।
তথ্যসূত্র-
উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক সুত্র

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল

সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ ১৪৯ আরামবাগ,ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কাযালয়: ২০৭/১ ফকিরাপুল, আরামবাগ , মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।

সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-০৩৩৭১৫,০১৭১২-৫৯৩৬৫৩

E-mail: provatbela@gmail.com,

কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম

শিরোনাম :
ব্রাজিলকে রুখে দিয়েছে সুইজারল্যান্ড লোজানোর গোল জার্মানির পোষ্টে ! বাঘের সঙ্গে মিম ! জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলো সার্বিয়া সড়কে ৯ জনের প্রাণহানি বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ: ৩লাখ মানুষ পানিবন্দি মৌলভীবাজারের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন মৌলভীবাজারের বন্যা মোকাবেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন রাত পোহালেই ঈদ প্রত্যাখ্যানকারীদের ধাওয়ায় পালিয়েছে পদবীধারী ছাত্রদল বুবলীর ‘অন্তঃসত্ত্বা’ নিয়ে নানা গুজব বাড্ডায় আ. লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা রুহ আফজায় প্রতারণা: হামদর্দকে জরিমানা ভোগ-এর প্রচ্ছদ মডেল সৌদি রাজকুমারী ‘মাফিয়া ডন’ মদদপুষ্ট কমিটিতে থাকতে চাননা প্রকৃত ছাত্রদল নেতারা ‘মাফিয়াডন” মদদপুস্ট কমিটি বাতিলের দাবীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে-রিজভী চাঁদপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত জাকির নিহত শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের ছেলে সুমন জাহিদের মরদেহ উদ্ধার আরিফ-কামরানের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ড্র সিলেট ছাত্রদলের লেজে গোবরে মার্কা কমিটি ঘোষনা ছাত্রদলের ১১ টি ইউনিটের আংশিক কমিটির অনুমোদন ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক-পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষ যাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন রেলমন্ত্রী “সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা করতে হবে, কোথাও বলা নেই” ‘এখনও সম্মতি দেননি খালেদা জিয়া’ ১১ জেলায় যুবদলের নতুন কমিটি পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত কোর্টনি ওয়ালস এবং বাস্তবতা! মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর আজ বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকুন সরকার বেগম জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে রউফ চৌধুরী ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান সুলতান সালাউদ্দিন অাটক খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সিএমএইচে সঙ্গীত শিল্পী অাসিফের জামিন উচ্ছাস আনন্দে অন্য রকম এক সন্ধ্যায় টাইগ্রেসরা পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাঠানোর আহ্বান বি. চৌধুরীর নারী ক্রিকেট দলকে স্পিকারের অভিনন্দন অবিস্মরণীয় এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চুমু খেলেন সালমা,রুমানারা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঢাবি’র সাবেক শিক্ষকের মৃত্যু ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন’ কানাডার গভর্নর জেনারেলের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী ‘যৌন সুবিধা নিতেই দলের উচ্চ পদে নারীদের বহাল করেন ইমরান’ নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ ও ভারত পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে ভারত প্রতি ম্যাচে জার্মানির কাছে সৌদি’র হার মাষ্টার আব্দুর রহিম আর নেই মালয়েশিয়াকে হারাতে পারলেই ফাইনাল