রোহিঙ্গা ইস্যুকে আড়াল করতে বাংলাদেশের সাথে যুদ্ধ চায় মিয়ানমার

প্রকাশিত: ৫:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা রোহিঙ্গা ইস্যুকে আড়াল করতে বাংলাদেশের সাথে যুদ্ধ বাধাতে চায়। অান্তর্জাতিক চাপের মুখে ‘গণহত্যার ইস্যু’কে পাস কাটাতে মিয়ানেমারের সরকারের কৌশল বাংলাদেশকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলা।

বারবার আকাশসীমা লঙ্ঘন করলেও যে কারণে মিয়ানমারের হেলিকপ্টার ভূপাতিত করা হচ্ছে না এই নিয়ে অনেক ফেইসবুক ‘যুদ্ধা’ অনেক কিছু বলছেন ইতিমধ্যে তাঁরা মায়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেও দিয়েছেন ।
কিন্ত কেন করা হচ্ছে আসুন একটু বিশ্লেষণে যাই । রোহিঙ্গা ইস্যুকে ধামাচাপা দিতে মিয়ানমার প্রতিনিয়ত চাচ্ছে বাংলাদেশের সাথে সীমান্তে সংঘর্ষে জড়াতে। মিয়ানমার চাইছে আমরা তাঁদের বিমান ভূপাতিত করি। কিন্তু বাংলাদেশ অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে তাঁদের পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছে না।
তাঁদের বিমান ভূপাতিত করলে তাঁদের সাথে আমাদের একটা যুদ্ধাবস্থা তৈরি হবে।বা সাময়িক যুদ্ধ হবে কারণ মায়ানমার কোন দিন চাইবে না দীর্ঘমদেয়াদি যুদ্ধ ! আর এই আল্প দিনের যুদ্ধ করে প্রথম বড় আগাত হানবে আমাদের সুন্দর কক্সবাজারের ওপর আর আমরা কি করব?? তাদের মাটিতে ধষিয়ে দেয়া আরকানের ওপর,, কারন বার্মার সদর আরকান থেকে অনেক দূরে।শুধু আমাদের তিলে তিলে গড়া এই সুন্দর বাংলাদেশর ভাবমূর্তি গুলো ধংশ করেত ছাচ্চে তারা তারপর দুই দেশের সীমান্তে চরম যুদ্ধ যুদ্ধ ভাবটায় যা দখল করবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের স্পেস, একেবারে বাদ পড়বে রোহিঙ্গা সংকট। আন্তর্জাতিক মহল তখন বিবৃতি দিবে সব পক্ষকে শান্ত হবার জন্য, বাদ পড়বে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিবৃতি।চীন ও রাশিয়া আসবে আহ্বান জানাবে আপনারা থামুন এই এলাকায় আমরা শান্তি চাই যুদ্ধ চাই না !
এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমাদের অবস্থান মিয়ানমারের চাইতে অনেক সুদৃঢ়। মিয়ানমার এর আগে এতটা বেকায়দায় পড়েনি। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট, জাতিসংঘসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা, মানবাধিকার সংস্থা সবাই এখন প্রমাণ নিয়ে হাজির মায়ানমারের বিপক্ষে ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অবরোধ আরোপের প্রস্তাব উঠেছে মায়ানমারের বিপক্ষে এর পর থেকেই পাগলা কুকুরের মতন আচরণ শুরু করেছে অনেক দেশ মিয়ানমারকে গণহত্যার দোষে দোষী করছে। এ পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের সাথে ঝামেলায় জড়ানো মানে আমাদের সংকটকে খাদের মধ্যে ঠেলে দেওয়া।ইতিমধ্যে আমাদের সংকট ১০ লাখের বেশী রোহিঙ্গা। কীভাবে তাঁদের ফেরত পাঠানো যায় পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে সাথে কিভাবে তাঁদের নাগরিক ও কফি আনান রিপোর্ট বাস্তবায়ন করা যায় — সেটাই আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
রাষ্ট্র খুব সতর্কতার সাথে, বিচক্ষণতার সাথে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সামনের দিকে এগোচ্ছে।
মোট কথা, মিয়ানমারের হেলিকপ্টার ভূপাতিত করা মানে তাঁদের আন্তর্জাতিক পরিসরে কথা বলার স্পেস তৈরি করে দেওয়া,রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে উধাও করে দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। আর এগুলো কী আমাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে, নাকি মিয়ানমারের?
মিয়ানমার চাচ্ছে তাঁদের সাথে আমাদের যুদ্ধাবস্থা তৈরি হোক যাতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা এড়াতে এই যুদ্ধাবস্থা চাচ্ছে মিয়ানমার।
বাংলাদেশ খুব বিচক্ষণতার পরিচয় দিচ্ছে এ ইস্যুতে মনে করি ।
আর যারা সব কিছুর চিন্তা বাদ দিয়ে শুধু সবাইকে দোষ দিচ্ছেন তাঁদের বলছি মিয়ানমারের হেলিকপ্টার এবং ড্রোন দফায় দফায় আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার ঘটনায় দেশপ্রেমিক জনগণের সঙ্গে আমাদের নিজস্ব যে বাহিনী রয়েছে, সেখানের দেশপ্রেমিক অফিসারেরা আমাদের থেকেই অনেক বেশী চিন্তিত। তাদের ভাবতে দিন।সরকারের কথা বাদ দিলাম আমাদের শেষ ভরসার জায়গা কিন্ত এক কথায় সবাই স্বীকার করি সেনাবাহিনী যারা তাঁদের সাহস দক্ষতা দিয়ে সব সময় প্রমাণ করেছে দেশকে রক্ষা করেছে ১৯৭৮ সালে করেছে মায়ানমারের বিপক্ষে , ১৯৯২ সালে করেছে মিয়ানমারের বিপক্ষে , ২০০০ সালে নাফ নদী যুদ্ধে তাঁদের পরাজিত করেছে , ২০০১ সালে ভারতকে উচিৎ জবাব দিয়েছে , ২০০৫ সালে দিয়েছে , ২০০৮ সালে মায়ানমারের বিপক্ষে দিয়েছে , ২০১৪ সালেও ৬ জন বার্মিজ কুত্তাকে খতম করেছে । আর কত প্রমাণ চান ? বন্যা , দুর্যোগ দেশের বাইরে আমাদের সেনাবাহিনীর সুনাম সেখানে ভয়ানক আফ্রিকান গেরিলা থেকে নিশ্চয় এই বার্মিজ ৪ ইঞ্চি বানর বেশী ভয়ানক না তাই না ? ১৯৭৬ থেকে দীর্ঘদিন শান্তবাহিনি থেকে দেশকে রক্ষা নিজের জিবন দিয়ে ! ফেইসবুকের পাতায় যুদ্ধের ডাক দেয়া আর রণাঙ্গণে যুদ্ধ করা দু’টো ভিন্ন বিষয়, একই সঙ্গে মানববন্ধনে দাঁড়াবেন আবার যুদ্ধেরও ডাক দেবেন, সেটা সিনেমায় হতে পারে, বাস্তবে একে যেমন খুশি তেমন সাজো বড়জোর বলা যেতে পারে, যেমন বছর বছর স্কুলে স্কুলে বার্ষিক প্রতিযোগিতায় শিশুরা মুক্তিযোদ্ধা সাজে, তেমনই। কথা গুলা কেবল আমার না অনেক পরিচিত প্রতেবেশি সেনা অফিসার ও বন্ধুরাও আছে সেনাবাহিনীতে তাঁরা প্রস্তুত মায়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কিন্ত ভাই বাস্তব পরিস্থিতি অনেক ভিন্ন সেখানে । মায়ানমার সীমান্তে মাইন পেতেছে দুটি কারণে
১ ) সাধারণ মানুষ মারার ফলে প্রতিশোধ পরায়ণ রোহিঙ্গারা যাতে বাংলাদেশে ত্রানের আড়ালে অস্ত্র নিয়ে মায়ানমারে যেতে না পারে ।
২ ) বাংলাদেশের সাথে যুদ্ধাবস্থা হলে যেন বাংলাদেশ প্রথমেই বাধাপ্রাপ্ত হয় ।
কতটা মানসিক ভীতি থাকলে একটা বাহিনী এমন কাজ করতে পারে এর পিছনে প্রধান কারণ হল নিরীহ মানুষ মারা ! যারা নিরীহ মানুষ মারে তাঁদের যুদ্ধকরার মানসিকতা ও দক্ষতা কমে যায় । মানসিক জড়তা ভয় চলে আসে ।
আমরাও ফেসবুক জেনারেল হিসেবে অনেক অংক কষতেই পারি, নিজস্ব ভাবনা জানাতে পারি– তাতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু কিছু না জেনে, না বুঝে কিংবা ফেসবুকে আমরা যেমন সক্রিয়, তেমনি আমাদের বাহিনীর সদস্যরা দেশের চিন্তা বাদ দিয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন– এমন ভাবনা দেশের জন্য ক্ষতিকর।’

রুহিন অাহমেদ এর টাইমলাইন থেকে

সর্বশেষ সংবাদ