চা-শ্রমিক শিশুদের অনাহারে দিনাতিপাত

প্রকাশিত: ৮:৪৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০১৮

চা-শ্রমিক শিশুদের অনাহারে দিনাতিপাত

এমরান আহমেদ,ফেঞ্চুগজ : সিলেটের চা বাগানে শ্রমিকদের অসন্তোষ আবারও বাড়ছে। বাড়ছে ক্ষোভ। বিক্ষোভ। অপ্রাপ্তির বেদনা। শ্রমিকদের জীবন সংগ্রামের কথা অজানা নয় কারো। বহু পুরানো সেই অভিযোগ। কিন্তু এই খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট, দুঃখ দেখার, শোনার জেনো কেউ নেই। চা বাগানের শ্রমিকরা সারাদিন কাজ করেন। শ্রম দেন। দিন শেষে হাতে উঠে না মাত্র মজুরী। নয়টা থেকে দুপুর দুটা পর্যন্ত ২৩ কেজি চা-পাতা তোলান এক একজন চা শ্রমিক। মজুরী হিসেবে দেয়া হয় ৮০/৮৫ টাকা। এই কাজের সময়টা নিয়ন্ত্রণ করেন চা বাগান মালিকরা। দুপুর দুটার পর থেকে শুরু হয় আবার চা পাতা তোলার কাজ। চলে সন্ধ্যা নামার পূর্ব পর্যন্ত। প্রতি কেজি চা-পাতা তুললে নাম মাত্র (তিন) টাকা করে পান শ্রমিকেরা। এই যৎসামান্য মজুরী দিয়ে বর্তমান উচ্চ বাজারে কিভাবে জীবন চলে ?

সম্প্রতি চা বাগানের শ্রমিকেরা তাদের ন্যায হিস্যা নিয়ে মুখ খুলেছেন। আন্দোলনে নেমেছেন। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মুমিনছড়া চা বাগানে অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহ যাবত রেশন মজুরী ও কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার উল্টো প্রভাব ফেলেছেন মালিক পক্ষ। বন্ধ রেখেছেন চা বাগানের কাজ। এমন কি গত এক সপ্তাহ যাবত বন্ধ আছে চিকিৎসা সেবাও। অনেক শ্রমিক এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেছেন, ‘তারা বর্তমানে প্রায় সময় না খেয়ে দিন কাটাছেন। ঘরে শিশু সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারছেন না। কাজ বন্ধ। ঘরের চুলা জ্বলে না। হাঁড়িতে চাল নেই। এই অবস্থার জন্য চা বাগান এর ম্যানেজার দায়ি।

বুধবার ২১ মার্চ ভুক্তভোগী শ্রমিকদের মধ্যে  বৃদ্ধা, শিশুসহ প্রায় ৬০ জন সদস্য সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন তাদের অভিযোগ। মুমিনছড়া চা বাগানের মালিক ও ম্যানেজার চা শ্রমিকদের সাথে কোন যোগাযোগ রক্ষা করছেন না। এই বাগানে প্রায় ২শত থেকে ৩ শত চা শ্রমিকের বসবাস।

শ্রমিকরা বলছেন, ‘আমারা কি তাহলে না খেয়ে মারা যা?” এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারি মহলের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকরা সুবিচার প্রত্যাশা করছেন। জানতে চাচ্ছেন সরকারী মহলের সিদ্ধান্ত। অন্যায়ের সুষ্ঠ বিচার দাবি করেছেন তারা। উল্লেখ্য, মুমিনছড়া চা-বাগান এর পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কার্তিক নায়েক এর মাধ্যমে জানাজায় তিনি বলেন আমরা চা-শ্রমিক আমাদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য দাবি করলে, মুমিনছড়া চা বাগান এর ম্যানেজার ফারুক আহমদ ও ঐ বাগানের দলা ঠিকাদার কর্তিক আমরা নানাভাবে নির্যাতীত, চাকুরীচ্ছুত, এবং কি ভাড়াটে সন্ত্রাসী দারা আমাদের উপর হামলা করা হয়েছে এবং ঐ হামলায় আমাদের চা-শ্রমিক প্রায় ১৩ জন আহত এখনো ৩ জন চা-শ্রমিক ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন অবস্থায় আছেন।

সর্বশেষ সংবাদ