আজ পবিত্র শবে বরাত,পাপ মুক্তির রাত,সৌভাগ্য লাভের রাত

প্রকাশিত: 11:03 AM, May 1, 2018

প্রভাতবেলা প্রতিবেদকঃ আজ পবিত্র শবে বরাত। পাপ মুক্তির রাত। ক্ষমা প্রার্থনার রাত। আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভের রাত। অপার সৌভাগ্য লাভের রাত। আজ দিনের আলো (সূর্য) পশ্চিম আকাশে মিলিয়ে যাবার পর থেকেই শুরু হবে কাঙ্খিত এই রজনী। পবিত্র শবে বারা’ত। বর্ণিত আছে যে, এরাতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নূরের তাজাল্লি পৃথিবীর নিকট আসমানে প্রকাশ পায়। রাত যত গভীর হবে আল্লাহতালা পৃথিবীর নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন। আল্লাহতায়ালা বান্দাদের বলতে থাকেন-‘ আছে কি কেউ ক্ষমাপ্রার্থী ? যাকে আমি ক্ষমা করব? আছে কি কেউ রিজিক প্রার্থী? যাকে আমি রিজিক প্রদান করব? আছে কি কেউ বিপদগ্রস্ত? যাকে আমি বিপদমুক্ত করব? আল্লাহ তায়ালার মহান দরবার থেকে প্রদত্ত এ আহ্বান অব্যাহত থাকে ফজর ওয়াক্ত পর্যন্ত। এ রাতে বান্দারা মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট থেকে মার্জনা প্রার্থনা করে থাকেন।

শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাতে ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে পবিত্র শবে বরাত পালিত হয়। শবে বরাত  (লাইলাতুল বরাত‎) বা মধ্য-শা’বান  হচ্ছে আরবী শাবান  মাসের ১৫ তারিখে পালিত একটি পূণ্যময় রাত। এই রাতকে লাইলাতুল বরাত বলা হয়। এই রাতকে আরবিতে ‘লাইলাতুল বারাআত’ বলা হয়। ‘বারাআত’ নামক আরবি শব্দটির অর্থ নিষ্কৃতি।

ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী ও মুসলমানরা বিশ্বাস করেন, এরাতে মহান সৃষ্টিকর্তা পরম করুণাময় মহান আল্লাহ সোবাহান তার বান্দাদের যাবতীয় গুনাহ ও কৃতকর্মের ক্ষমা ও আশীর্বাদ প্রদান করেন। আল্লাহতালা বান্দার উপর সন্তুষ্ট হয়ে তার আগামী দিনলিপি নির্ধারণ করেন। এই রাতেই পরবর্তী বছরের মৃত্যুবরণকারী মানুষ এবং পরবর্তী বছরের জন্মগ্রহণকারী শিশুদের তালিকা করা হয়।, দোয়া মাহফিল, ইত্যাদি ইবাদতে মগ্ন থাকাই এ রাতের প্রধান শিক্ষা, যে শিক্ষা জীবনব্যাপী অব্যাহত রাখার তাগিদ।

আল্লাহতালার ক্ষমালাভের আশায় মুসলমানগণ এই পবিত্র রাতে রাতভর নামাজ,কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার, মিলাদ ও দোয়া-দরূদ ও তাসবিহ-তাহলিল পাঠ করে থাকেন। ফকির, মিসকিনদের মাঝে দান খরাত করেন। মৃত্য ব্যক্তির কবর জেয়ারত করেন। সারারাত জেগে আল্লাহ্‌র ইবাদত বন্দীগিতে মগ্ন থাকেন। আল্লাহতালার সন্তুষ্টি লাভের আশায় । তাই, এ রজনীকে আরবিতে ‘লাইলাতুল বারাআত’ বা ‘নিষ্কৃতির রজনী’ বলা হয়।

যথাযথ মর্যাদায় ধর্মীয় ভাবগম্ভীরয্যের মধ্যদিয়ে আজ পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে ওয়াজ মাহফিল, জিকির-আসকারের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন আলোচনা এবং মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে মুসলমানরা হালুয়া, রুটি ও নানা আয়োজন করে থাকেন। যদিও কালে কালে এতসব নিয়ে নানা ভিন্নমত আসছে। তবে আতসবাজি, মেলা এই জাতীয় আয়োজন পবিত্র এই রাতের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণকরে।

এদিকে রাজধানীতে আতশবাজি নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল সোমবার ডিএমপির কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে  এতথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শবে বরাতের পবিত্রতা রক্ষার্থে, এ রাতের আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে বিস্ফোরক দ্রব্য, আতশবাজি, পটকাবাজি অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং ফোটানো নিষিদ্ধ ।

 

  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ