আজ দুখুমিয়ার ১১৯তম জন্ম জয়ন্তী

প্রকাশিত: 9:12 AM, May 25, 2018

প্রভাতবেলা প্রতিবেদকঃ ‘মহা-বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত/ আমি সেই দিন হব শান্ত/ যবে উত্পীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না,/ অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না-’

কবিতায় এই ঘোষণা দিয়েই বাংলা সাহিত্যে পা রাখেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ। সাম্যের কবি, বিরহ-বেদনার কবি, বিদ্রোহের কবি বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের  ১১৯তম জন্মবার্ষিকী।

নজরুল জয়ন্তী আজ। এদিনে জন্ম নেয়া কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও বাঙালীর চেতনার জাগরণে ধুমকেতুর মতোই আবির্ভুত হয়েছিলেন।

১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ এক ঝড়ের রাতে অনন্য প্রতিভাধর কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম। তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেয়া নজরুল যৌবনের জয়গান গেয়ে স্বাধিকারের চেতনা জাগিয়ে তুলেছিলেন উপমহাদেশজুড়ে। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ ও দার্শনিক। সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক হিসেবেও তার পরিচিতি কম নয়।

নজরুল আমাদের আদর্শ ও জাতীয় চেতনার কবি। যার ক্ষুরধার লেখনীতে জাগরণ আসে। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে, স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে তার অপ্রতিরোধ্য এবং দুঃসাহসী রচনা ও অবস্থান তাকে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।

তিন হাজার গানের রচয়িতা নজরুল ‘বিদ্রোহী’ কবিতা লিখে বৃটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। তার বিদ্রোহী (১৯২২) কবিতা পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্তির পথে উজ্জীবিত করেছে।

বল বীর চির উন্নত মম শির’ কবিতায় এ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে তিনি মানুষের সামনে আবির্ভূত হন ‘বিদ্রোহী’ কবি হিসাবে।

আজও কবির নানা ধরনের লেখার মাঝ থেকে বিদ্রোহের পংক্তিমালা বাঙালির হূদয়ে অনাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রেরণা যোগায়। তার কবিতা ‘চ্ল চল্ চল’ বাংলাদেশের রণসঙ্গীত।

নজরুল তার কবিতা, গান, উপন্যাসসহ অন্যান্য লেখনী ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পরাধীন ভারতে বিশেষ করে অবিভক্ত বাংলাদেশে সামপ্রদায়িকতা, সামন্তবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বলিষ্ঠ ও সোচ্চার কণ্ঠ ছিলেন।

সে কারণে ইংরেজ সরকার তার গ্রন্থ ও রচনা বাজেয়াপ্ত করেছে এবং কারাদণ্ড দিয়েছে। কারাগারেও বিদ্রোহী নজরুল টানা চল্লিশ দিন অনশন করে বিদেশি সরকারের জেল-জুলুমের প্রতিবাদ করেছিলেন।

ইসলামী গান যা গজল নামে খ্যাত, পাশাপাশি শ্যামা সঙ্গীত ও ভক্তিগীত রচনা করে বাংলা কাব্যে নতুন ধারার সূচনাও করেন কাজী নজরুল ইসলাম।

কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম বাংলা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬/১৮৯৯ইং সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে। তার পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ, মা জাহেদা খাতুন। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় দুঃখ-দারিদ্র্য ছিল তার নিত্যসঙ্গী। তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।

১৯৭২ সালের ২৪ মে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে কবি সপরিবারে বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশ সরকার কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে এবং জাতীয় কবি হিসাবে ঘোষণা দেয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশেই ছিলেন। তার জীবনকাল ৭৮ বছর হলেও ১৯৪২ সালের জুলাই মাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন কবি। এরপর দীর্ঘ ৩৪ বছর ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি অসহনীয় নির্বাক জীবন কাটিয়েছেন।

“প্রেমের কবি, বিদ্রোহী কবি তোমারে করি স্মরণ

তোমার পদাঙ্ক করি অনুস্মরণ

তুমি রয়েছো মিশে

এই বাংলার মাটি ও মানুষের হৃদয়ের শীর্ষে “

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ