আবেদনময়ী এই প্রেসিডেন্টের না জানা কথা

প্রকাশিত: ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৮

প্রভাতবেলা ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে আলোচনায় ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা গ্র্যাবার। গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছেন এই সুন্দরী প্রেসিডেন্ট। গায়ে দলের জার্সি পরে সারাক্ষণ দলের জন্য দিয়েছেন। দলের জয়ের পরে তিনি নেচে আনন্দ উদযাপন করেছেন। বিশ্বকাপের সবটুকু আলো তিনি কেড়ে নিয়েছেন নিজের গ্লামার দিয়ে। সে কারণেই এই মুহুর্তে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত নাম কোলিন্দা। এখন জেনে নিন ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা গ্র্যাবার সম্পর্কে।

কোলিন্দা ক্রোয়েশিয়ার রিজেক নামক স্থানে ২৯ এপ্রিল ১৯৬৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনিই হলেন ক্রোয়েশিয়ার প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট। তিনি ক্রোয়েশিয়ার একমাত্র সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণ করার সময় তার বয়স ছিল ৪৬ বছর যা ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাসে সর্বনিম্ন। ‘জাগরিব বিশ্ববিদ্যালয়’ থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে কোলিন্দা স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

তিনি রোমান ক্যাথলিক চর্চা করেন এবং ঘোষণা দেন ক্রিস্টান ধর্মের আনুগত্য। ১৯৯৬ সালে তিনি জ্যাকভ কিতারোভিকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে দুই সন্তান আছে। তিনি ইংরেজি, পর্তুগিজ ও স্প্যানিশ ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন। এছাড়া ইটালিয়ান, ফ্রেন্স এবং জার্মান ভাষা বুঝতে তার কোন সমস্যা হয় না।

কোলিন্দা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে আবেদনময়ী প্রেসিডেন্ট। তার বয়স এখন ৫০ বছর। তবুও বয়স থাকে দমাতে পারেনি। ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই প্রেসিডেন্ট মাঝে মাঝেই বিকিনি পরে সমুদ্র সৈকতে সময় কাটান।

বর্তমানে সুন্দরী ক্রোট প্রেসিডেন্টকে নিয়ে খুব মাতামাতি হচ্ছে। তার রুপে মুগ্ধ বাংলাদেশের যুবক বৃদ্ধ অনেকেই। ফেসবুকে মাত্রাতিরিক্ত ট্রল হচ্ছে তাকে নিয়ে। বাংলাদেশের তথাকথিত মুসলিম যুবকরা তার জন্য দিওয়ানা…। এই ৫০ বছর বয়স্ক এই সুন্দরী নারী বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে অনেকটা ‘হার্টথ্রব লেডী’ তে রুপ লাভ করেছেন।

এই ৫০ বছর বয়স্ক এই সুন্দরী নারী বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে অনেকটা ‘হার্টথ্রব লেডী’ তে রুপ লাভ করেছেন।

বেশি দিন হয়নি নব্বইয়ের দশকের কথা।এই  সুন্দরীতমার অপূর্ব চেহারার অন্তরালে রয়েছে ইতিহাসের অন্যতম গণহত্যার জঘন্যতম খুনির প্রতিচ্ছবি।

নব্বই এর দশকে মার্সাল টিটোর যুগ্লাভিয়া ফেডারেল ভেঙ্গে চারটি জাতি রাস্ট্রের জন্ম হয়। রাস্ট্র গুলো হলো ক্রোশিয়া,সার্বিয়া,মন্টিনেগ্রো ও বসনিয়া হার্জেগোবিনা।প্রথম তিনটি রাস্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষনায় কোন সমস্যা না হলেও মুসলিম প্রাধান বসনিয়া হার্জেগোবিনার স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি ভদ্রতার লেবাসধারী ইউরোপ।

ফলে অনিবার্য হয়ে পড়ে একটি সর্বগ্রাসী যুদ্ধ। মুসলিমদের জাতিগত নিধন পরিকল্পনায় ক্রোট ও সার্ব জেনারেলদের লেলিয়ে দেয়া হয়।অসহায় বসনীয়রা কোনদিক থেকে অস্ত্র সাহায্য না পেয়ে নির্বিচার হত্যার শিকার হয়।বসনীয় নারীদের পাইকারী হারে ধর্ষন করে সুন্দরী কলিন্ডার বাপ ভাইয়েরা।তৎকালীন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার যুদ্ধ বিরতির নামে কালক্ষেপ করার কারনে একরাতে হত্যা করা হয় দশ হাজারেরও অধিক বসনীয় মুসলিমকে।

সেব্রেনিৎসার বধ্যভূমির সেই ভয়াবহ চিত্র এখনও মানুষের মনে শিহরণ জাগায়। ওই সময় জাতিগত হিংসার কারণে ক্রোয়েশিয়ার বাহিনী এক লাখের বেশি নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। তাদের হাতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন হাজার হাজার বসনিয় নারী ও কিশোরী।

পরবর্তীতে বিশ্ববিবেকের চাপে জেনারেল ও সার্বদের নেতৃস্থানীয় খুনিদের হেগ এর আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।বিচারে নব্বুই এর কসাই খ্যাত দুই জেনারেল স্লোদোভান মিলো সোবিচ ও রাদোভান কারাদসিচকে সর্বোচ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়। ইজ্রাইল এর মত আরো দুটি রাস্ট্র খুনি রাস্ট্রের তালিকা নাম লেখায়। ক্রোট ও সার্বরা তাদের অপকর্মের জন্য লজ্জিত নয় বরং তারা তাদের খুনি পূর্বসূরীদের নিয়ে গর্ব বোধ করে।

 

সর্বশেষ সংবাদ