ক্রিকেট মাঠ থেকে রাজনীতির ময়দানে ইমরান খানের রাজত্ব

প্রকাশিত: ৫:১৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০১৮

বিশ্বভুবন ডেস্কঃ ক্রিকেট মাঠের রাজা ছিলেন তিনি। শাসন করেছেন বিশ্ব  ক্রিকেটাঙ্গন । তার নিখুঁত লাইন-লেন্থ সুইংগারে বিধ্বস্ত করে দিতেন প্রতিপক্ষকে। পাকিস্তানকে দিয়েছেন বিশ্বকাপ জয়ের সুখ, আনন্দ আর উল্লাস। তিনি পাকিস্তান ক্রিকেটে রাজত্ব করেছেন। এবার পুরো দেশের রাজত্ব করতে যাচ্ছেন।

 

প্রেক্ষাপট তৈরী হচ্ছে। নতুন পাকিস্তান সন্নিকটে। ক্রিকেটের বরপুত্র ইমরান খানের ইচ্ছাই পূরণ হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের রাজনীতেও সফল হতে যাচ্ছেন এই সাবেক অধিনায়ক।

 

সুত্র মতে, এখন পর্যন্ত ৪৭ শতাংশ কেন্দ্রের ভোট গণনা করা হয়েছে। এতে সাবেক ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ১১৩ আসনে এগিয়ে।

 

ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইসলাম (পিটিআই) খাইবার পাখতুনখাওয়াতে এগিয়ে রয়েছে। তবে আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলেছে; তারা ব্যর্থ হয়েছে। মুত্তাহিদা মজলিস-ই-আমলের সঙ্গে জামিয়াত-ই-উলেমা ইসলাম (জেইউআই-এফ) ও জামায়াতে ইসলামির প্রতিযোগিতা ভালোভাবেই বাতিল হয়ে গেছে।

 

তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) দল ৬৪টি আসনে এগিয়ে। বিলওয়াল ভুট্টো জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৪৩টি আসনে এগিয়ে, মুত্তাহিদা মজলিশ আমল (এমএমএ) এগিয়ে রয়েছে ৯টি আসনে এবং মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) ৫টি আসনে এগিয়ে।

 

পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনের ফল গতরাত দুইটার পর থেকে আটকে আছে। ফলাফল ঘোষণায় দেরি হওয়ার পেছনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক রিপোর্টিং ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ফল আসতে দেরি হচ্ছে। রয়টার্সের খবর।

ফল ঘোষণায় দেরি হওয়ার কারণে পিএমএল-এন ও অন্তত আরও চারটি দলের সমর্থকেরা ভোট গণনায় জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন।

 

নির্বাচনের প্রাথমিক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, ইমরানের দল ১০০টির বেশি আসন নিয়ে এগিয়ে আছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইমরানের সফলতা নতুন যুগের সূচনা করছে। পিটিআইয়ের চরম প্রতিদ্বন্দ্বীতার কারণে একক কোনো দলের প্রভাব কমে গেছে।

 

তবে ইমরানের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াবে নওয়াজের পাকিস্তান মুসলিম লীগ ও জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টি। তবে ইমরানের সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে তিনি পাকিস্তান পিপলস পার্টির সঙ্গে জোট বাঁধতে চাইবেন না।

 

এমএল-এনের সভাপতি শাহবাজ শরিফ বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোয় ভোট গণনার সময় উপস্থিত থাকা দলীয় প্রতিনিধিদের বের করে দিয়েছে সেনারা। এটি নিখুঁত জালিয়াতি। আমরা এই ফল পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি। এটি পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় আঘাত।’

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সব জায়গায় এখন পিটিআই। বুধবারের (২৫ জুলাই) প্রাথমিক ফলাফল নতুন অর্থ তৈরি করছে। আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির জন্য এটা দুঃখজনক।

 

এদিকে, লাহোরে গুঞ্জন, উৎকট মন্তব্য, প্রতিহিংসা এগুলোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এখন পাকিস্তান মুসলিম লীগ নওয়াজ একরকম প্রতিবাদমুখর অবস্থায় রয়েছে। দলের মুখপাত্ররা প্রায় হতবাক। লাহোরে নওয়াজের মুসলিম লীগের বিপর্যয় চোখে পড়ার মতো।

 

 

সর্বশেষ সংবাদ