" /> আমরা বধির রাষ্ট্রের নাগরিক – দৈনিক প্রভাতবেলা

আমরা বধির রাষ্ট্রের নাগরিক

প্রকাশিত: ১০:৫৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০১৮

মাকসুদা লিসাঃ  চোখের পানি অঝোর ধারায় লুটিয়ে পড়ছে। সহপাঠীর আচমকা প্রাণহানিতে দিশেহারা কিশোরটির বুকফাটা কান্নার শব্দ। সহপাঠীদের হাউমাউ করা কান্নার বিপাল। বুকের ভেতরটা এফোঁড়ওফোঁড় করে দিচ্ছে কষ্টে, ব্যথায়, শোকে। সহ্য করতে পারছিনা।

 

কে মেনে নেবে। কার প্রাণে সয়। এমন প্রাণচাঞ্চল্য জীবন হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে যাবে এভাবে। রক্তাক্ত দেহ। স্কুল ইউনিফর্ম রক্তে লাল। যে চার কিশোর কিছু সময় আগেও আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে অট্টহাসিতে মেতেছিল। বন্ধুতের সাথে খুনসুটি  করছিল। নিয়তি কি এমন হয় !

এত তাজা টগবগে প্রাণ নিষ্ঠুর ঘাতকের খেলায় অকালে ঝরে গেল। আর কত মেনে নেয়া। কত মায়ের বুক এভাবে খালি করে দিবে নেশাগ্রস্ত চালকেরা। নৈরাজ্য সড়কে চলছেই।

 

রাজধানীতে বাস চাপায় রেডিসন ব্রু হোটেলের সামনের সড়কে নিহত ৪ স্কুলছাত্রদের নিথর দেহ রাস্তায় ফুটপাতে শোয়ানো। বন্ধুদের আহাজারি, কান্না। কি করুণ। কত মর্মান্তিক দৃশ্য। ভিডিও কে বা কারা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছে।

 

কি হচ্ছে সড়কে। এত প্রাণহানী। কেনো এমন দিন দেখতে হচ্ছে আমাদের। সন্তাদের স্কুল-কলেজে পাঠিয়ে অভিভাবকেরা নিশ্চিত হতে পারেন না। সন্তান হেসে বাড়ী থেকে বেড় হয়ে যায়। সেই সন্তানের প্রাণহীন দেহ পৌঁছে দেয়া হয় বাড়ী।

নিরাপত্তাহীন নগর জীবন। বাসাবাড়ী, পথেঘাটে, বাসে, কোথাও নিরাপত্তা নেই। নির্বিঘ্নে চলছে হত্যাযজ্ঞ। ঘাতককে উৎপেতে থাকে।

রাজধানীবাসীকে প্রতিদিনই সড়কে নামতে হয়। ঊর্ধ্বগতির বাজারে অফিস, আদালত, দুরের যাত্রায় নিন্মবিত্তদের বাসই হয়ে উঠে প্রধান বাহন। সিএনজি অটোরিক্সা, উবার কিংবা পাঠাওয়ে রোজ যাতায়াতের সামরথ অনেকেই নেই।
রাস্তায় দেখতে হয় বাস চালকদের গুঁতোগুতি। কার আগে এ যাবে চলে বাস চালকদের নিয়ন্ত্রণহীন প্রতিযোগিতা। খামখেয়ালিতে যত্রতত্র স্টপেজ। যাত্রী হয়রানী। অতিরিক্ত যাত্রী ও ভাড়া আদায়। অশোভন আচরণ।

 

এটা বাস দেখে আর একটা বাসের চালক সেটার গেট আটকে নিজের বাসে উঠানোর চেষ্টায় এতগুলো প্রাণ কেড়ে নিলো!

ঘটনাস্থলের পাশেই শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। ঘটনার সময় ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা রেডিসন ব্লু হোটেলের নিকটবর্তী সড়কের পাশ দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিল। অনেকে বাসের জন্য ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিল।
এ সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস এসে থামে। শিক্ষার্থীরা তাতে ওঠার চেষ্টা চালায়। সেসময় জাবালে ন্রূ পরিবহনের আরেকটি বাস বাম পাশ দিয়ে ঢুকে দুই শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তাদের মৃত্যু হয়।

 

এক একটি নির্মম দুর্ঘটনা ঘটে।এক দুই দিন হা হুতাশ করি। তারপর আমরা সব ভুলে যায়। রাজীব হাত হারায়। তারপর প্রাণ হারায়। এরপর আরো কত প্রাণ গেল। আজও প্রাণ হারালো শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের চার প্রাণ।

 

এত প্রাণহানী অথচ নির্বাক ড্রাইভার, মালিক, বাস কোম্পানিগুলো। কারোরই জেনো কিছু বোধ নেই। তাদের কিছু হয়না। খালাস পেয়ে যায় মস্ত বড় উপঢৌকনের বিনিময়ে।

 

সন্তান হারানো মায়ের বুকফাটা কান্না। কে এর দায় নেবে? আছেন কেউ সন্তান হারানো মায়ের বুকে সন্তানকে ফিরিয়ে দেবার মতো! তবে কেন এত নির্মম হত্যাহত্যা খেলা।

 

আমরা বধির রাষ্ট্রের নাগরিক। আমাদের বোধ কাজ করেনা। বেহুঁশ জাতী।  আমাদের বিবেক নাড়া দেয় না। এত প্রাণ হারানোর ঘটনা আমাদের কাছে স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে যায়।

 

উপরওয়ালাদের দায়সারা ব্যাখ্যা। দোষ কাঁধে নেবার সদসাহস হয়না কারো।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ