৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের চাকরিতে থাকছে না কোটা

প্রকাশিত: 10:10 PM, September 17, 2018

৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের চাকরিতে থাকছে না কোটা

প্রভাতবেলা প্রতিবেদকঃ সরকারি চাকরিতে প্রবেশে নবম থেকে ১৩ গ্রেড পর্যন্ত অর্থাৎ আগের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদে কোটা পদ্ধতি না রাখার সুপারিশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কোটা পর্যালোচনা কমিটি।

 

সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ তথ্য জানান।

 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে আদালতের যে রায় আছে তা কোটা সংস্কার বা বাতিলে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে আইন কর্মকর্তারা মত দিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, তাদের এই সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে আগামী মাসেই তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হতে পারে।

 

উল্লেখ্য, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর প্রেক্ষিতে গত ১১ এপ্রিল সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত ২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে সরকার। প্রাথমিকভাবে ১৫ কার্যদিবেসর মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও পরবর্তীতে আরো ৯০ কার্যদিবস সময় পায় এই কমিটি। এক মাস সময় থাকতেই প্রতিবেদন জমা দিলো কমিটি।

 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমরা কোটা নিয়ে প্রতিবেদন আজকে জমা দিয়েছি। আমাদের ফাইন্ডিংস হলো নবম থেকে ১৩ গ্রেড পর্যন্ত অর্থাৎ আগে যে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী বলা হতো, সেগুলো নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কোটা থাকবে না।

 

‘আগে শ্রেণী বলতাম, এখন শ্রেণী বলি না। অর্থাৎ নয় থেকে ১৩ গ্রেড পর্যন্ত যে নিয়োগ হয় সে নিয়োগে কোনো কোটাই থাকবে না। গ্রেড ১ থেকে ১৩ পর্যন্ত, সচিব থেকে সহকারী সচিব পর্যন্ত পদগুলোয় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদগুলো মেধাভিত্তিক হবে।’

 

বিসিএস ক্যাডার পদে নিয়োগ পাওয়া এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, বেতনক্রম অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি চাকরিতে গ্রেড সংখ্যা ২০টি। আর বিসিএসের চাকরি নবম গ্রেডের। নবম থেকে ১৩ গ্রেড পর্যন্ত সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) নিয়োগ দিয়ে থাকে।

 

কমিটির প্রতিবেদন কবে কার্যকর হবে- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটার প্রসেসটা হলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবার প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অনুমতি গ্রহণ করা হবে, অনুমোদনের পরে এটা কেবিনেটে (মন্ত্রিসভায়) উপস্থাপিত হবে। ধরেন যে নেক্সট কেবিনেট হয়তো আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। কেবিনেট হলে পাস করে দিলে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

 

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা দীর্ঘদিনের। ১৯৭২ সালের ৫ নভেম্বর এক নির্বাহী আদেশে সরকারি, আধাসরকারি, প্রতিরক্ষা এবং জাতীয়করণকৃত প্রতিষ্ঠানে জেলা ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মহিলাদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়।

 

পরে বিভিন্ন সময়ে এই কোটা পদ্ধতির সংস্কার, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করেছে সরকার।

 

বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনি ৩০ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, পশ্চাৎপদ জেলাগুলোর জন্য কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ কোটা পদ্ধতি সংরক্ষিত চালু আছে। সব মিলিয়ে শতকরা ৫৬ ভাগ কোটা পদ্ধতি রয়েছে।

 

কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষ কোটা বহাল রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। গত ১১ জুলাই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, আদালতের সিদ্ধান্তে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণের আদেশ অগ্রাহ্য করে ভিন্নতর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। এটা করা হলে তা আদালত অবমাননার শামিল হবে।

 

মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমরা আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েছি তারা বলেছেন যে, এটা গভমেন্টের যেহেতু পলিসি ডিসিশন এটা আদালতের রায়কে স্পর্শ করবে না, কোনো সমস্যা নেই।  তবে নিচের গ্রেডগুলোয় আগের মতো কোটা থাকবে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ