রোহিঙ্গাদের সাহায্য করতে ঢাকাকে সমর্থন দেবে দিল্লিঃ শ্রিংলা

প্রকাশিত: 10:38 PM, September 17, 2018

রোহিঙ্গাদের সাহায্য করতে ঢাকাকে সমর্থন দেবে দিল্লিঃ শ্রিংলা

কুতুপালং, উখিয়া থেকে ফিরে সংবাদদাতাঃ  রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের এই হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সারাদিন মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালি ও কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান ভারতের এই হাইকমিশনার।

 

রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণ কাজে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় ভারত মানবিক সহায়তা দিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। সোমবার ভারতের ত্রাণ সহায়তা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শ্রিংলা এ কথা বলেন।

শ্রিংলা বলেন, ‘আমি এই বাস্তুচ্যুত মানুষগুলোর দুর্দশা বুঝতে পারি এবং কঠিন পরিস্থিতিতে এসব বাস্তুচ্যুত মানুষকে বাংলাদেশের সহায়তার বিষয়টি প্রশংসা পাওয়ার দাবিদার।’

এই মানবিক আচরণ ভারত ও সংশ্লিষ্ট সবার দ্বারা প্রশংসিত হয়েছে বলে মন্তব্য করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিবেশী, বন্ধু এবং অংশীদার হিসেবে ভারত বাস্তুচ্যুত মানুষের বিশাল ঢলে সৃষ্ট ত্রাণের প্রয়োজনীয়তা পূরণে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়েছে।’

 

সোমবার দুপুর ১২টায় সফরসঙ্গীদের নিয়ে তিনি পৌঁছান বালুখালি ক্যাম্পে। সেখানে ভারত সরকারের সহায়তার তৃতীয় চালান হিসেবে ১০ লাখ টনের বেশি কেরোসিন ও ২০ হাজার পরিবারের জন্য স্টোভ হস্তান্তর করেন দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী মায়ার কাছে। আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর অনুষ্ঠানের পরপরই প্রচণ্ড রোদের মধ্যে হেঁটে ঢুকে পড়েন রোহিঙ্গাদের জীবনযাপন দেখতে।

এরর পরিদর্শন করেন কুতুপালং ক্যাম্পে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া হাজার দুয়েক হিন্দু পরিবারের বসতিপাড়ায় ঢোকেন। অনেকটা সময় কাটান সেখানেও। শ্রিংলাকে পেয়ে সাদরে বরণ করে নেন আশ্রিতরা। সেখানেও নিজহাতে কেরোসিন ও স্টোভ বিতরণ করেন।

 

এরপর শিশুদের মাঝে বই  বিভিন্ন নীতিকথা ও জানা-অজানার শিশুতোষ বই বিতরণ করেন হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।  সবার মুখে সাময়িক হলেও ছিল হাসি। পরে এই ইউনিটের ডাক্তারি ক্যাম্প, সেখানের ব্যবহার হওয়া ওষুধ, ডাক্তার, চিকিৎসাব্যবস্থার খোঁজ-খবর নেন তিনি।

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা এরপর মন্দিরে প্রণাম করতে যান।  সেখানে কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন বেশ কিছুক্ষণ।

তাদের কাছে কয়েকবার জানতে চান তারা রাখাইনে ফিরতে চান কিনা। তবে উত্তরে বারবার ফিরে আসে বিভীষিকাময় অত্যাচারের কথা। তারা এখনও ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারে না নিজদেশে ফিরলে তাদের জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ