সৌদিআরবে বাপ-ছেলে একসাথে ধর্ষণ করে

প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০১৯

সৌদিআরবে বাপ-ছেলে একসাথে ধর্ষণ করে

কোন মেয়ে যেন সৌদি আরব না যায়

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক,ঢাকা: নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন আর তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরছেন ৮১ নারী ও ৪৭ পুরুষ। এদের মধ্যে তিনজন নারীর ঠিকানা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি)।

ফিরে আসা নির্যাতিত এসব নারীদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা খুবই নাজুক। বিমান থেকে অবতরণের পর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে। পরে সেখান থেকে ঢামেক ওসিসিতে স্থানান্তর করা হয়।

এই তিন নারীর মধ্যে দু’জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও এক নারীর পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। তিনি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। কথা বলতে পারছেন না।

গুরুতর অসুস্থ্য এক নারী জানিয়েছেন, তার নাম আদুরী। এছাড়া একই অবস্থায় ফিরেছেন, সুনামগঞ্জের হালিমা, কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ফাতেমা। এসব নারীর প্রত্যেকের বয়স ২০ বছরের নিচে। দেশে ফেরার পর তাদের ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও প্রবাসী কল্যাণ ডেক্সের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হয়।

ফেরত আসা নারীরা বলেন, সৌদি নিয়োগকর্তা তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। বাপ-ছেলে একই সাথে ধর্ষণ করে, এমন পশুবৃত্তি দেখে আমরা নির্বাক। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, আর কোন মেয়ে যেনো সৌদি আরব না যায়। বলেন, দেশে ভিক্ষা করে খাবো, তবু বিদেশ যাবো না।

এদিকে ফেরত যুবকরা অভিযোগ করেন তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। জনপ্রতি পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা করে নিয়ে তাদেরকে সৌদি আরব পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তু সেখানে তাদের কাজ নেই, বেতন নেই, আকামা দেয়া হয়নি। আবার অনেকের আকামা থাকা সত্ত্বেও অন্যত্র কাজ করলেই পুলিশ ধরে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ফিরে আসা যুবকরা ডির্পোটেশন ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন।

প্রসঙ্গত, রোববার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে এয়ার এরাবিয়ার এ৯-৫১৫ ফ্লাইটে করে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। নির্যাতিতরা সৌদি আরবের রিয়াদ ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে ছিলেন। নির্যাতনের শিকার হয়ে তারা পালিয়ে আশ্রয় নেয় ওই ক্যাম্পে। এর আগে গত ৮-১৩ জানুয়ারি সৌদি আরব থেকে ৩২৪ নারী দেশে ফিরেছেন।

সর্বশেষ সংবাদ