‘কোচিং বাণিজ্য’ প্রসংগে কিছু কথা

প্রকাশিত: ২:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯

‘কোচিং বাণিজ্য’ প্রসংগে কিছু কথা

কোচিং বানিজ্য নীতিমালা বন্ধের গেজেট আকারে প্রকাশিত হওয়ার সাথে বিভিন্ন জনেরা বিভিন্ন প্রকার মন্তব্য প্রকাশ করেছেন ফেইসবুকে। আমার কাছে বেশীর ভাগ মন্তব্য গুলোকেই মনে হয়েছে আত্মকেন্দ্রিক মন্তব্য। কোন ইতিবাচক সমালোচনা কমই পরিলক্ষিত হয়েছে। এটির সাথে জড়িয়ে দেয়া হয়েছে শিক্ষকদের বেতন বৈষম্যকে,ডাক্তারদের প্রাইভেট প্রেক্টিসকে, রাজনৈতিক বিদ্বেষকে। শিক্ষাব্যবস্থার আসল চিত্রকে সামনে রেখে গঠন মূলক বক্তব্য কমই পরিলক্ষিত হয়েছে। একজন শিক্ষক হিসাবে এমন একটি সংবেদনশীল বিষয়ে দু’লাইন না লিখলে নিজের বিবেকের কাছে খারাপ লাগবে। নিজেও প্রাইভেট পড়িয়েছি দীর্ঘ বাইশ বছরের মতো। কত টাকার পাহাড় বানিয়েছি পরিশ্রমের তুলনায় তার হিসেব তারাই বলতে পারবে যারা আমার সান্নিধ্যে এসেছেন। নিজ কলেজের কম স্টুডেন্টকেই প্রাইভেট পড়িয়েছি।এদের সংখ্যা হবে প্রাইভেট পড়ানো স্টুডেন্টদের ২/৩%। বাকীরা বিভিন্ন কলেজের। সে যাইহোক সেদিকে আমি যাবনা,কারন স্বল্প পরিসরে এখানে লিখে শেষ করতে পারবো না। আমিকিছু বিষয় বুঝতে পারছিনা বিধায় এ লিখা। প্রাইভেট পড়া যদি বাজে জিনিষ হয়ে থাকে তবে নিজ গৃহে অনধিক দশ জনকে ( অন্য কলেজের) এবং নিজ কলেজে নির্ধারিত ফি নিয়ে পড়ানোর সুযোগ থাকলো কেন? কোচিং যদি বাজে হয়ে থাকে তবে প্রশিক্ষিত শিক্ষক ছাড়া অন্যরা ছাত্র পড়াবে কেন? কেন নীতিমালায় সে বিষয়ে কোন ইংগিত নাই। তাহলে দাড়ালো কি — শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়বেনা, বানিজ্যক কোচিং এ যেতে আপত্তি নেই। শিক্ষকেরা কুমিল্লা HSTTI আর ঢাকার নায়েমে গিয়ে কিসের ট্রেনিং করেন? ট্রেনিং লেস যারা ওরা পড়াবে? মেধার বিকাশ এসব কোচিং এ হয়! তবে আমি বিশ্বাস করি অনেকেই উপকৃত হয়। ছাত্রদের যদি ক্লাস মূখী করতে হয় তবে সেগুলোও বন্ধ করতে হবে। আর, শিক্ষাপ্রতিষ্টানে লেখাপড়ার সুষ্টু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাকে কি কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন, প্রাইভেট স্কুল /কলেজে শিক্ষার্থীদের যতটুকু টেইক কেয়ার করা হয়, তার অর্ধেক এম পি ও ভুক্ত বা সরকারী প্রতিষ্টানে করা হয়? দেখুন তদন্ত করে, বেশীর ভাগ এসব সরকারী/ বেসরকারী প্রতিষ্টানে সিলেবাসের কোন তোয়াক্কাই করেনা! স্টুডেন্টরা ঠিক মতো ক্লাসে যায়না। নিয়মিত গেলে তো আরেক পরিস্থিতি হতো। ফলাফল যা হবে তা হলো, ধনীরা বাসায় স্যার নিয়ে পড়াবে, প্রাইভেট কলেজে পড়াবে, ভালো কোচিং এ কোচিং করাবে, আর জাহান্নামে যাবে মধ্যবিত্ত আর দরিদ্র শ্রেণির ছাত্ররা। মেজরিটি একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভুল বুঝবেন না,আমিও ব্যক্তিগত ভাবে কোচিং বানিজ্যের বিপক্ষে। কারণ, প্রাতিষ্টানিক পড়ালেখা তো প্রতিষ্টানেই শেষ হবে, কেন আবার স্যারের বাসায় আর কোচিং এ দৌড়া দৌড়ি হবে? কিন্তু প্রতিষ্টানে সুষ্টু শিক্ষাদানের গ্যারান্টি কে দেবে? রাজ নৈতিক দাংগা,প্রাকৃতিক দূর্যোগ, সীমিত লোকবল, দূর্নীতি বাজ শিক্ষক,অদক্ষতা ইত্যাদি কারনে যখন পড়ালেখার পরিবেশ বাঁধাগ্রস্থ হবে। রাজধানীর বিখ্যাত প্রতিষ্টানের বিখ্যাত শিক্ষকদের ও ঐসব প্রতিষ্টানের মেধাবী ও ধনী স্টুডেন্টদের মাথায় রেখে আইন প্রনয়ন মনে হয় ঠিক হবে না। সেটির জন্য তৃণমূল পর্যায়ে আরো জরীপ চালানোর প্রয়োজন আছে বলে মনে করি। শিক্ষাবিষয়ে মৌলিক সিদ্ধান্তের জন্য আরোও ভাবার প্রয়োজন আছে। শেষ পর্যন্ত এই বলে বিদায় নেই, শিক্ষার জন্য যা ভালো মনে করেছি, তাই লিখেছি। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্টানকে হাইলাইটস বা খাটো করার জন্য নয়,তাই ভুল হলে নিজ গুনে ক্ষমা করে দেবেন।

সর্বশেষ সংবাদ