" /> কারচালকের বেঁচে যাওয়ার মর্মস্পর্শী বর্ণনা – দৈনিক প্রভাতবেলা

কারচালকের বেঁচে যাওয়ার মর্মস্পর্শী বর্ণনা

প্রকাশিত: ৪:২৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৯

কারচালকের বেঁচে যাওয়ার মর্মস্পর্শী বর্ণনা

যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ, ঢাকা: পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ৬৭ জনের। কিন্তু চুড়িহাট্টায় এখনও আতংক কাটেনি। এখনও সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ভয়াবহ আগুনের বিভীষিকাময় দুঃসহ স্মৃতি যেন পিছু ছাড়ছে না স্থানীয়দের। ঘটনার তিন দিন পর সেখানে পুড়ে যাওয়া একটি প্রাইভেটকার দেখতে এসেছেন ওই গাড়ির চালক।

তিনি জানালেন মৃত্যুকূপ থেকে বেঁচে যাওয়ার মর্মস্পর্শী গল্প-

ঘটনার দিন রাতে সারাদিনের কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান। কিন্তু চকবাজারের চুড়িহাট্টায় এসে তার গাড়িটি জ্যামে আটকে যায়।

এর পর কোনো কিছু বোঝার আগেই আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান তারা। প্রথমে গাড়ির চালক মো. ইউসুফ গাড়ি থেকে কোনোমতে প্রাণ বাঁচান। পরে গাড়ি থেকে নেমে দৌড় দিয়ে প্রাণ বাঁচান মাহবুবুর রহমানও।

এই পুরো ঘটনাটা ঘটেছে মাত্র ১০-১৫ সেকেন্ডে। তবে তারা প্রাণে বাঁচলেও পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে তার সেই গাড়িটি।

রোববার সকালে অঙ্গার হয়ে যাওয়া গাড়ির সামনে দাঁড়িয়েই মৃত্যুকূপ থেকে বেঁচে যাওয়ার সেই মর্মস্পর্শী গল্প শোনালেন গাড়িচালক মো. ইউসুফ। যুগান্তর

তিনি বলেন, ‘সেদিন রাতে আমি স্যারকে নিয়ে শান্তিনগর থেকে বাসায় যাচ্ছিলাম। এখানে আসার পর একটু জ্যামে আটকে যাই। চারপাশে অনেক রিকশা, ভ্যান, ঠেলাগাড়ি ও কার ছিল।’

তিনি বলেন, ‘জ্যামে আটকে থাকা অবস্থাতেই হঠাৎ করে আমার গাড়ির সামনের অংশে ওপর থেকে কি এসে যেন পড়ল।

সেটি পড়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই গাড়িতে আগুন লেগে গেল। পরে তাৎক্ষণিকভাবে আমি ধাক্কা দিয়ে গেট খুলে ফেলি। সেই সময় সিটবেল্ট খুলতে কয়েক সেকেন্ড সময় লেগেছিল।’

ইউসুফ বলেন, ‘আমি নামার পর মনে হলো স্যার তো ভেতরেই থাকল। তখন আমি আসতে চাইলাম কিন্তু আশপাশের লোকজন আসতে দিল না।

দেখছি দাউ দাউ করে গাড়িতে আগুন জ্বলছে। পরে আমি ম্যাডামকে ফোন দিয়ে বললাম- ভাবি গাড়িতে আগুন লাগছে। ভাইয়াকে তো গাড়িতেই রেখে আসলাম।

ভাইয়া বাসায় আসলে ফোন দিয়েন। পরে শুনি স্যারও জানালা দিয়ে বের হয়ে ভাগ্যগুণে বেঁচে গেছেন। আল্লাহর দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া জানাই আমাকে ১০ সেকেন্ড সময় দেয়ার জন্য। একটু দেরি হলেই হয়তো পুড়ে ছাই হয়ে যেতাম।’

চকবাজারের সেদিনের এমন শত শত মর্মস্পর্শী ঘটনা রয়েছে। যারা অল্পের জন্য সেদিন প্রাণে বেঁচে গেছেন। আর যারা পারেননি তারা চলে গেছেন পরপারে অথবা এখনও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

প্রসঙ্গত রাজধানীর চকবাজার এলাকার নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের ‘ওয়াহেদ ম্যানশন’ ভবনে বুধবার রাত ১০টার দিকে আগুন লাগে।

ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট একযোগে কাজ করে বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

ভবনে উদ্ধার অভিযান চলে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। মর্মান্তিক এ ঘটনায় অন্তত ৬৭ জন নিহতের পাশাপাশি আহত হয়েছেন ৪১ জন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ