বিজ্ঞাপনী পেরেকে আক্রান্ত নির্বাক বৃক্ষ

প্রকাশিত: 7:07 PM, February 26, 2019

বিজ্ঞাপনী পেরেকে আক্রান্ত নির্বাক বৃক্ষ

ইশরাত জাহান চৌধুরী জুলি, মৌলভীবাজার:  সবুজে ঘেরা নির্মল ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের আধার আমাদের জন্মভূমি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই সিলেট নগর, মৌলভীবাজার শহর এবং শহরের বাইরে ক্রমান্বয়ে বেড়ে উঠছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। শহর ও শহরের বাইরে, সড়ক-মহাসড়কের পাশে গাছে গাছে পেরেক ঠুকে লাগানো হচ্ছে এসকল প্রতিষ্ঠান ও পণ্যের বিজ্ঞাপনী বোর্ড। এতে সড়কের গাছগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মরে গেছে অনেক গাছ। এসবের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ডায়াগনস্টিক সেন্টার,চিকিৎসক ও রাজনৈতিক ব্যক্তি বর্গদের ফেস্টুন। পিছিয়ে নেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিং সেন্টারগুলোর বিজ্ঞাপন। এ সময় দেখা যায়, একই ছাত্রের ছবি একাধিক কোচিং সেন্টার নিজেদের ছাত্র পরিচয় দিয়ে বিজ্ঞাপন টানিয়ে রেখেছে। থেমে নেই চিকিৎসকরাও। বিএমডিসি কর্তৃক গৃহীত নীতিমালা না মেনে নিজের চেম্বারের সামনে আলোকসজ্জায় সাজিয়ে রেখেছেন সাইনবোর্ড। কখনো বৈদ্যুতিক খুঁটি আবার কখনো গাছকেই বেছে নিচ্ছেন বিজ্ঞাপনের জন্য, সেবার নামে ব্যবসাকে প্রাধান্য দেয়া এসকল চিকিৎসক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা। গাছ পরিবেশের সবচেয়ে বড় বন্ধু হলেও মানুষের নির্মম অত্যাচার থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।

যত্রতত্র পেরেক বা তারকাটার মাধ্যমে গাছকে বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহার করায় ক্ষুব্ধ সচেতন নাগরিক সমাজ। প্রাণিকুলের বেঁচে থাকার জন্য প্রধান উপাদান গাছ। এই গাছের যে প্রাণ আছে, অনুভূতিশক্তি আছে, তা প্রমাণিত। তবে গাছের বাকশক্তি নেই। গাছ সবকিছু বিলিয়ে দিয়ে আমাদের জীবন বাঁচিয়ে রাখছে। উপকারের প্রতিদান হিসেবে গাছে পেরেক মেরে মানুষ তার প্রতিদান দিচ্ছে। আমাদের বিবেককে জাগ্রত করা দরকার। এই সাইনবোর্ড, ফেস্টুন একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করছে। অন্যদিকে গাছ গুলো সূর্যের আলো পাচ্ছেনা।

ফলে গাছ গুলো ঠিক মত বেড়ে উঠতে পারছেনা। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশের চরম ক্ষতি হচ্ছে। অর্থেরও অপচয় ও কম হচ্ছেনা। আইন থাকলেও কার্যকারিতা নেই দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো নিয়ন্ত্রণ আইনের। আইন পাস হওয়ার পরও দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানোর মাধ্যমে পৌর- শহরের সৌন্দর্য বিনষ্টের প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। শহরের সৌন্দর্য রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা বিধানে সরকার ২০১২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১২’ পাস করে। কিন্তু কোন কার্যকারিতা না থাকায় এ আইন শুধু কাগজবন্দী হয়েই পড়ে আছে। উক্ত আইনে বলা আছে, ‘ধারা ৪ অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোন স্থানে দেয়াল লিখন বা পোস্টার লাগানো যাইবে না।’ এছাড়া যেভাবে নগর, পৌর-শহরসহ বিভিন্ন স্থানে পোস্টার, ফেস্টুন লাগানোর হিড়িক পড়েছে তাতে যেকোন সময় এগুলো ছিড়ে গিয়ে পথচারীদের মাথার উপর পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অনতিবিলম্বে এই সমস্ত সাইনবোর্ড, ফেস্টুন,ব্যানার অপসারন করা দরকার। প্রশাসনসহ সকল উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আর প্রভাবশালী মহলের সহায়তাই পারে পেরেকমুক্ত বৃক্ষ উপহার দিতে। অনুমিত ছাড়া গাছে গাছে টানানো এসব সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের পোস্টার যারা লাগিয়েছেন, এসকল আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ