সিসিকে পরামর্শক ব্যয়’র নামে লুটপাট: ক্ষুব্ধ পরিকল্পনামন্ত্রী

প্রকাশিত: ৭:৫৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯

সিসিকে পরামর্শক ব্যয়’র নামে লুটপাট: ক্ষুব্ধ পরিকল্পনামন্ত্রী

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:  সিলেট সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে বক্স কালভার্ট ও ইটের সাধারণ সড়ক নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কাজে পরামর্শক ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি টাকা। এ ছাড়া সিলেট বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে খুবই ধীরগতি রয়েছে। এমনকি কিছু প্রকল্পের কোনো অগ্রগতিই হয়নি। এসব দেখে হতাশ পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এ নিয়ে গত দু দিন নগরীতে ব্যাপক সমালোচনা হয়।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ক্ষোভ ঝাড়েন নগরবাসী সহ দেশ বিদেশের অনেকে।

গত শনিবার দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে সিলেট বিভাগের বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম ও অগ্রগতিসংক্রান্ত পর্যালোচনাসভায় বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন চিত্র দেখে পরিকল্পনামন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের ভর্ৎসনা করেন এবং কাজে গতি বাড়ানোর তাগিদ দেন।

বক্স কালভার্ট ও সড়ক নির্মাণে পরামর্শক ব্যয় দুই কোটি টাকা ধরা হয়েছে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে পরিকল্পনামন্ত্রী প্রকল্পটির পরিচালক (পিডি) মোহাম্মদ আলী আকবরকে উদ্দেশ করে বলেন, বক্স কালভার্ট বানাতে কেন দুই কোটি টাকার পরামর্শক ব্যয়? এই টাকা তাদের না দিয়ে আপনারা নিজেই করেন। ওই পরামর্শকরা যেখানে পড়েছেন, আপনারাও সেখানে পড়েছেন।

আপনারা কেন বক্স কালভার্ট বানাতে পারবেন না? কেনইবা সরকারের টাকা অপচয় করা হচ্ছে? প্রসঙ্গত, সিলেট বিভাগে বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প ৫৮টি। এর মধ্যে ৫টি প্রকল্পের অগ্রগতি শূন্যের কোটায়। ৩০টি প্রকল্পের কাজ চলছে ধীরগতিতে।

এক ব্যক্তি একাধিক প্রকল্পের প্রধান হতে পারবেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ নির্দেশনার পরও মন্ত্রী দেখতে পান, সিলেটে ৫৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে পিডির দায়িত্বে রয়েছেন একজন। তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা। পর্যালোচনাসভায় এ প্রসঙ্গও উঠে আসে।

মন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, ‘এটা কীভাবে সম্ভব?’ উত্তরে তুষার কান্তি সাহা বলেন, ‘স্যার, এভাবেই তো চলে আসছে। ওপর থেকে আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’ এর পর পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এক ব্যক্তি একাধিক প্রকল্পের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। সেই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) প্রকল্প এলাকায় থাকতে হবে। সঠিক সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, অনেক প্রকল্প পরিচালক ঢাকায় বসে থেকে সিলেটে চলমান প্রকল্পের দেখভাল করেন। তারা ৩০ লাখ টাকা দামের গাড়িতে চড়ছেন, ঢাকায় ঘুরছেন পরিবার নিয়ে। এসব গাড়ি ঢাকায় ঘোরাফেরার জন্য দেওয়া হয়নি; প্রকল্প এলাকায় থাকার জন্য দেওয়া হয়েছে।

এটা সাধারণ মানুষের টাকার অপচয় করা। এ অপচয় সহ্য করা হবে না। পর্যালোচনাসভায় সিলেট বিভাগে চলমান ৫৮ প্রকল্পের পরিচালকসহ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব আবুল মনসুর মোহাম্মদ ফয়েজউল্লাহ, সিলেট বিভাগের কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক কৃষ্ণা গায়েন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন

সর্বশেষ সংবাদ