কানাইঘাট থানায় ফাহিমা- রেজওয়ানের বিয়ে

প্রকাশিত: ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০১৯

কানাইঘাট থানায় ফাহিমা- রেজওয়ানের বিয়ে

সংবাদদাতা, কানাইঘাট: কানাইঘাটে ফাহিমা ও রেজওয়ানের বিয়ে হলো থানায়। কাজি ডেকে এনে দুই লাখ টাকা দেন মোহরানায় বিয়ে দেয়া হয় দু’জনকে। বিয়ের পর ফাহিমাকে নিয়ে নিজের বাড়িতে উঠলেন রেজওয়ান আহমদ। এতে করে দু’জনের দীর্ঘদিনের অবৈধ সম্পর্কের ইতি ঘটেছে। এলাকায়ও শান্তি ফিরেছে। এর আগে দু’জনকে নিয়ে এলাকার যুবসমাজের মধ্যে কানাঘুষার অন্ত ছিল না। ক্ষোভও দেখা দিয়েছিল। তাদের অবৈধ সম্পর্কের ব্যাপারে এলাকার মানুষ বারণও করেছিলেন।

কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেননি দু’জন।

কানাইঘাটের শিবনগর গ্রামের মেয়ে ফাহিমা বেগম। পিতা সৌদি প্রবাসী শফিকুল হক। দুই সন্তানের জননী ফাহিমা। কয়েক বছর আগে সেলিম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। সেলিম-ফাহিমা সংসারকালীন দুই সন্তানের জন্ম নেয়। এরপর পারিবারিকভাবে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় দেড় বছর আগে ফাহিমাকে ডিভোর্স দেন সেলিম। সেই থেকে ফাহিমা পিতা শফিকুল হকের বাড়িতেই সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছিলেন। কিন্তু ফাহিমা পিতার ঘরে আসার কিছুদিনের মধ্যে পার্শ্ববর্তী দুর্লভপুর গ্রামের সিএনজি অটোরিকশা চালক রেজওয়ান আহমদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। দু’জনের প্রেমের খবর প্রথমে পারিবারিক গণ্ডির ভেতরেই জানাজানি ছিল। পরে রটে যায় এলাকায়। এর মধ্যে রাত হলেই ফাহিমার কাছে ছুটে যেতে রেজওয়ান। দু’জন একান্তে সময় কাটাতেন। এমনকি তারা শারীরিক সম্পর্কও স্থাপন করেন। দু’জনের এই অবাধ মেলামেশাকে ভালো চোখে দেখেননি এলাকার মানুষ। গ্রামের মানুষ এ নিয়ে কথা-বার্তা বলতে শুরু করেন।

কয়েক মাস আগে গ্রামের মানুষ সিএনজি অটোরিকশা চালক রেজওয়ানকে তার প্রেমিক ফাহিমার বাড়িতে যেতে নিষেধও করেন। কিন্তু রেজওয়ান সেই নিষেধ মানেননি। অমান্য করে প্রেমিকার বাড়িতে যাতায়াত করছিলেন। এমনকি রাতের পর রাত তিনি ফাহিমার বাড়িতে সময় কাটান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে শিবনগর গ্রামের মানুষ। গত রোববার রাত ১০টার দিকে ফাহিমার বাড়িতে আসে রেজওয়ান। এ সময় গ্রামের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ফাহিমার বাড়িতে হানা দেয়। তারা বাড়ি ঘিরে ফেলে। মধ্যরাতের দিকে তারা ওই বাড়ির একই কক্ষ থেকে ফাহিমা ও রেজওয়ানকে আটক করে। খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশও যায় সেখানে। ফাহিমা ও রেজওয়ানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। খবর পেয়ে রেজওয়ানের অভিভাবকরাও যান থানায়। দুই গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ যান থানায়। সঙ্গে যান ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফখর উদ্দিন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর আছিয়া বেগম।

রাতেই থানায় বসে বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের পথ খোঁজেন কাউন্সিলরসহ এলাকার মানুষ। সিদ্ধান্ত হয়- মামলা থেকে রক্ষা পেতে দু’জনকে বিয়ে দেয়ার। এতে আপত্তি তোলেননি কেউ। ফাহিমা ও রেজওয়ান দু’জন বিয়েতে রাজি। ভোর হতেই থানায় বাজলো ফাহিমা ও রেজওয়ানের বিয়ের ঘণ্টা। আনা হলো কাজি। আর থানাতেই দু’জনের বিয়ে দেয়া হলো। মোহরানা ধার্য করা হয় দুই লাখ টাকা। বিয়ের পর প্রেমিকা ফাহিমাকে নিয়ে নিজের বাড়িতে চলে গেছেন রেজওয়ান আহমদ। সিলেটের কানাইঘাট থানার ওসি আবদুল আহাদ প্রভাতবেলাকে জানিয়েছেন- ফাহিমা ও রেজওয়ান একে অপরকে ভালোবাসতো। এবং তারা মেলামেশা করতো। এলাকার লোকজন রাতের বেলা তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। ফাহিম ও রেজওয়ান দু’জন তাদের সম্পর্কের কথা স্বীকার করে বিয়েতে রাজি হওয়ায় সোমবার তাদের বিয়ে দেয়া হয়। এতে স্থানীয় কাউন্সিলররা ছাড়াও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সংবাদ