অনৈতিক সম্পর্কের জেরেই প্রভাষক সাইফুর খুন

প্রকাশিত: 8:56 PM, April 1, 2019

অনৈতিক সম্পর্কের জেরেই প্রভাষক সাইফুর খুন

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক: প্রেমের সম্পর্কের জেরে হত্যা করা হয়েছে সিলেট মদন মোহন কলেজের খন্ডকালীন প্রভাষক সাইফুর রহমান কে । সিলেট নগরীর আবাসিক হোটেল , হোটেল মেহেরপুরে তাকে হত্যা করা হয় গত শনিবার রাতেই । আসামী রুপা সাইফুরকে সাথে নিয়ে স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে উঠেন ঐ হোটেলে । ঐ রাতে ই রুপা সাইফুর কে বিষ এবং ঘুমের ঔষধ দিয়ে অচেতন করে ফেলে তারপর গলায় রশ্মি দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানায় , বলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে । এর পর রুপা তার অন্যপ্রেমিক মোজাম্মেলকে ডেকে এনে একটি সিএনজি ভাড়া করে নিয়ে এসে রুপা মোজাম্মেল এবং ড্রাইভার মিলে তাকে নিয়ে গিয়ে রাস্তায় ফেলে আসে । 

মদন মোহন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুর হত্যার আসামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার এবং রহস্য উদঘাটন ও স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী আদায় করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুত্রমতে, গত ৩১মার্চ সকাল ১০টায় দক্ষিণ সুরমা থানাধীন সুনামগঞ্জ বাইপাস রোডে লতিপুর নামক স্থানে একটি অজ্ঞাতনামা পুরুষ , বয়স অনুমান (৩০) বছর এর মৃত দেহ পাওয়া যায়। তাৎক্ষনিক মৃত দেহের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ঘন্টাখানের মধ্যে জানা যায় মৃত দেহটি এম.সি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে মদন মোহন কলেজ এবং তোয়াকুল কলেজের খন্ডকালীন শিক্ষক সাইফুর রহমানের।

তার পিতার নাম ইউসুফ আলী, সাং- ফুলতৈল ছগাম, থানা-গোয়াইনঘাট, জেলা-সিলেট। মৃতদেহ উদ্ধার পূর্বক ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে তাহার আত্মীয়-স্বজনের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে মৃত সাইফুর রহমানে মা রনিফা খাতুন বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় অভিযোগ দায়ের করিলে দক্ষিণ সুরমা থানাার মামলা নং- , তারিখ- ০১/০৪/২০১৯খ্রিঃ ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়।

উক্ত মামলাটি তদন্তের জন্য এসআই শিপলু চৌধুরীর দায়িত্ব দেয়া হয়।তার বিষয়ে বিস্তারিত অবগত হওয়ার পর তাকে কে বা কারা হত্যা করতে পারে সেই সম্পর্কে ধারনা লাভের জন্য পুলিশ মৃতের আত্মীয় স্বজন বন্ধু-বান্ধবকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই বাছাই করার পর সম্ভাব্য খুনিদের সনাক্ত করা হয়।

প্রভাষক সাইফুর হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতারকৃত নিশাত তাসনিম রুপা ও তার দ্বিতীয় প্রেমিক মোজাম্মেল

তথ্য – প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান সনাক্ত করার পর ডিসি (দক্ষিণ) দিক নির্দেশনায় এসি ও ওসি (দক্ষিণ সুরমা থানা) এর নেতৃত্বে এসআই শিপলু চৌধুরীর, এসআই ¯স্নেহাশীষ পৈত্য, পিএসআই লিটন চন্দ্র নাথ, এএসআইএখলাছুর ও সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় সম্ভাব্য খুনি হিসেবে নিশাত তাসনিম রুপা (১৯), পিতা- মোঃ শফিকুর রহমান, সাং- সুরমা গেইট, দত্তগ্রাম, ক্ষিদিরপুর, থানা- শাহপরাণ (রহঃ), জেলা- সিলেট এবং  মুজাম্মিল হোসেন (২৩), পিতা- নজির আলী, সাং- আলমপুর, থানা- ছাতক, জেলা- সুনামগঞ্জদ্বয়কে যথাক্রমে দত্তগ্রাম ক্ষিদিরপুর ও টিলাগড় এলাকা হতে ৩১/০৩/২০১৯খ্রিঃ তারিখের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে আটক করা হয়।

আটককৃতদের পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত নিশাত তাসনিম রুপার সাথে  একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা, বিভিন্ন সময়ে শারীরিক সম্পর্কের সময় ধারনকৃত ভিডিও, স্থির ছবি, মিথ্যে কাবিননামা প্রকাশ সহ তার পরিবারের সদস্যদের হুমকী প্রদানের কারণে সে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে গত ৩০মার্চ সকাল অনুমানন ৮:০০-৮:৩০ টার সময় এম. সি কলেজ ক্যাম্পাসে সাইফুর রহমানের সাথে দেখা করে।

সেখান থেকে  সাইফুর রহমান নিশাত তাসনিম রুপাকে নিয়ে সিলেট সোবহানীঘাটস্থ হোটেল মেহেরপুরে নিয়ে যায়
এবং ঐ হোটেলের ২০৬ নং কক্ষে উঠে।সিলেট নগরীর আবাসিক হোটেল , হোটেল মেহেরপুরে তাকে হত্যা করা হয় গত শনিবার রাতেই । আসামী রুপা সাইফুরকে সাথে নিয়ে স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে উঠেন ঐ হোটেলে । ঐ রাতে ই রুপা সাইফুর কে বিষ এবং ঘুমের ঔষধ দিয়ে অচেতন করে ফেলে তারপর গলায় রশ্মি দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানায় , বলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে । এর পর রুপা তার অন্যপ্রেমিক মোজাম্মেলকে ডেকে এনে একটি সিএনজি ভাড়া করে নিয়ে এসে রুপা মোজাম্মেল এবং ড্রাইভার মিলে তাকে নিয়ে গিয়ে রাস্তায় ফেলে আসে ।
রূপা আদালতে জানিয়েছে… তার মতের বিরুদ্ধে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা, বিভিন্ন সময়ে শারীরিক সম্পর্কের সময় ধারনকৃত ভিডিও, স্থির ছবি, মিথ্যে কাবিননামা প্রকাশ সহ তার পরিবারের সদস্যদের হুমকী প্রদানের কারণে সে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে হত্যা করেছে।

পরবর্তীতে মৃতদেহটি আসামী মুজাম্মিল হোসেনের সহায়তায় বের করে দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকার সিলেট সুনামগঞ্জ বাইপাস এলাকার লতিপুর নামক স্থানে ফেলে রেখে যায়। ধৃত আসামীদেরকে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট; আমলী আদালত নং ৩য় জনাব সাইফুর রহমানের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে এবং
তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

সুত্র জানায়- শিক্ষক সাইফুর রহমানের সাথে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে প্রেম চলছে রুপা বেগমের। সাইফুর রহমান রূপার বাসায় লজিং মাস্টার ছিলেন। এই সুবাদে রুপার সাথে প্রেম হয় সাইফুরের। রূপাও ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী। এভাবে তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠে। মাঝখানে আটককৃত মুজাম্মিল এসে রূপার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। এই বিরোধেই খুন হন সাইফুর।  

প্রসঙ্গত: রবিবার (৩১ মার্চ) সিলেটের দক্ষিণ সুরমা তেলিরাই এলাকা থেকে সাইফুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সাইফুর গোয়াইনঘাট উপজেলার ফলতইল সগাম গ্রামের মো. ইউসুব আলীর ছেলে। তিনি নগরের টিলাগড় জমিদার বাড়ির একটি মেসে থাকতেন। পেশায় শিক্ষক সাইফুর শহরের মদন মোহন কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। পাশাপাশি গোয়াইনঘাটের তোয়াকুল কলেজেরও প্রভাষক ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ