রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধে ব্যর্থতায় হাইকোর্টের ক্ষোভ

প্রকাশিত: 2:22 AM, May 16, 2019

রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধে ব্যর্থতায়  হাইকোর্টের ক্ষোভ

রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধে সিটি করপোরেশনের পদক্ষেপে আবারো অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। মহানগরীতে বায়ু দূষণ, মশা নিধন, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ সব নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে দুই সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  আজ ১৫ মে দুপুরে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান এবং বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ২৬ জুনের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাজধানীতে ধুলায় পরিবেশ দূষণ নিয়ে এক রিটের প্রেক্ষিতে আজ ১৫ মে আদালতে হাজির হন দুই সিটির প্রধান নির্বাহী।

রাজধানী ঢাকায় ধুলায় বায়ু দূষণরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ১৩ মার্চ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট। এর আগে হাইকোর্টের দেয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের প্রেক্ষিতে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালককে তলবের পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার এ আদেশ হয়।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, এর আগে গত রোববার দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হতে না পেরে দুই কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা দিতে তলব করা হয়েছে।

ঢাকার বায়ু দূষণ রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সংগঠনের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরেসদ গত ২৭ জানুয়ারি একটি রিট আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের এই বেঞ্চ গত ২৮ জানুয়ারি কয়েকটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়।

তিন দফা নির্দেশনার মধ্যে ছিল, রাজধানীর যেসব এলাকায় উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কাজ চলছে সেখানে দিনে দুই বার পানি ছিটানো, নির্মাণাধীন কাজের জায়গা ঢেকে রাখা এবং এসব বিষয় বাস্তবায়ন করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সপ্তাহে দুই দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয় আদেশে।

রোববার আদালতে এইচআরপিবির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী নুরুন্নাহার আক্তার নুপূর।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্টের ওই তিন দফা নির্দেশনায় দুই সিটি করপোরেশনের উপর যে ধরনের নির্দেশনা ছিল তার প্রেক্ষিতে প্রতিবেদন দাখিল করে সিটি করপোরেশন। কিন্তু প্রতিবেদন এবং আইনজীবীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি হাইকোর্ট। যে কারণে ১৫ মে দুই নির্বাহী কর্মকর্তাকে সশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে। ওই দিন দুজন প্রতিবেদনরে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবেন।’

সর্বশেষ সংবাদ