স্কলার্স হোমের শিক্ষার্থী ফাবিয়ান লাইফ সাপোর্টে

প্রকাশিত: 1:52 AM, June 20, 2019

স্কলার্স হোমের শিক্ষার্থী ফাবিয়ান লাইফ সাপোর্টে

সিলেটের স্কলার্স হোমের শিবগঞ্জ ক্যাম্পাসে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাবিয়ান চৌধুরীর জন্য একটাই প্রার্থনা- ‘ফিরে এসো ফাবিয়ান’। উন্নত চিকিৎসার জন্য ফাবিয়ানকে মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফাবিয়ান এখন ঢাকার গ্রীন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি। এখনো ডাক্তাররা কোনো সুখবর দিতে পারেননি। স্কলার্স হোমের শিবগঞ্জ ক্যাম্পাসে ঘটনার কিছুক্ষণ আগে বন্ধুদের সঙ্গে দুরন্তপনায় মেতে ছিল ফাবিয়ান। হঠাৎ করে চুপসে গেল সে। চারতলায় থাকা ফাবিয়ানকে নিচতলায় পাওয়া গেল অচেতন অবস্থায়। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, স্কুলের চারতলা থেকে নিচে পড়ে ফাবিয়ান চেতনা হারিয়েছে।

সেই থেকে আজ ৪ দিন চেতনা ফিরেনি ফাবিয়ানের। অবস্থাও গুরুতর। এ কারণে ফাবিয়ানকে নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। গতকাল ক্যাম্পাসে ফাবিয়ানের ঘটনায় অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারাও তাদের সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন বলে জানান। ফাবিয়ান চৌধুরী। বয়স প্রায় ১০ বছর। শিবগঞ্জের স্কলার্স হোমের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনা গত সোমবারের। টিলাগড়ের বাসিন্দা ফারহিম চৌধুরী তার আদরের ছেলে ফাবিয়ান চৌধুরীকে প্রতিদিনের মতো স্কুলে দিয়ে যান। বেলা ১ টার দিকে তিনি ছেলেকে নিয়ে যেতে স্কুলের গেইটে চলে আসেন। তখনো স্কুলের ফটক বন্ধ। হঠাৎ হই-হুল্লোড়ের শব্দ পাওয়া যায়। ফাবিয়ান চৌধুরী পড়ে আছে স্কুল মাঠে, অচেতন অবস্থায়। এ সময় স্কুলের পিয়নরা ধরাধরি করে ফাবিয়ানকে নিয়ে যায় প্রধান শিক্ষক প্রাণবন্ধু বিশ্বাসের কক্ষে।

সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত হন পিতা ফারহিম চৌধুরী। দেখেন ছেলে অজ্ঞান অবস্থায় রয়েছে। তিনি তাকে সিএনজি অটোরিকশা করে নগরীর ইব্‌নে সিনা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। গতকাল ক্যাম্পাসে থাকা কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- ছুটির সময় ফাবিয়ান স্কুলের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায় এবং  অচেতন হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলাতিকে দায়ী করে। বলে- স্কুলের পঞ্চম তলায় যে ওয়াশরুম রয়েছে তার পাশে হাফ দেওয়াল করে রাখা। আর ওই স্থান থেকে পড়ে ফাবিয়ান এখন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তার এই ঘটনার পর স্কলার্স হোমের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে- স্কলার্স হোমের শিবগঞ্জ ক্যাম্পাসের প্রধান শিক্ষক প্রাণবন্ধু বিশ্বাস গতকাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- ঘটনার সময় তিনি নিজের কক্ষেই বসা ছিলেন। হঠাৎ করে কাজের মাসিরা এসে তাকে জানান, এক ছাত্র মাঠে পড়ে আছে। এর আগে তারা একটি শব্দ পেয়েছেন। এই শব্দের পরপরই তারা গিয়ে দেখেন ফাবিয়ান পড়ে আছে। এ অবস্থায় তাকে তারা ধরাধরি করে আমার রুমে নিয়ে আসেন। এমন সময় তার পিতাও চলে আসেন। পরে সিএনজি অটোরিকশা করে তাদের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন- ‘ফাবিয়ান অচেতন অবস্থায় তখনো বলছিলো আব্বু আমি ‘সি’ পেয়েছি।’ আবার কখনো বলছিলো- ‘আমার পেটে তীব্র ব্যথা।’ এ সময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিজেও স্বীকার করে বলেন- স্কুলের পঞ্চম তলায় ছাত্রী ওয়াশরুমের একাংশে হাফ দেওয়াল রয়েছে। শুধুমাত্র ছাত্রীদের জন্য ওই ওয়াশরুম বলে দাবি করেন তিনি। অধ্যক্ষ বলেন- সিলেটের আল-হারামাইন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ফাবিয়ানকে দেখতে তিনি কয়েকবার যান। হাসপাতালে ফাবিয়ানের এক্স-রে করা হয়। কোথাও হাড় কিংবা শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। ফলে সে যে ছাদ থেকে পড়েছে সে ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়নি। ওদিকে- ঘটনায় বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরাও গতকাল সাংবাদিকদের নিয়ে স্কুলের ছাদ পরিদর্শন করেন। এ সময় ছাদের হাফ ওয়ালের দৃশ্য দেখে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলাতিকে দায়ী করেন।

এদিকে- গুরুতর আহত ফাবিয়ানকে ঘটনার দিন প্রথমে সিলেটের ইব্‌নে সিনা হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আল-হারামাইন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। বরং সিলেটের ডাক্তাররা উন্নত চিকিৎসার জন্য ফাবিয়ানকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এ কারণে মঙ্গলবার রাতে ফাবিয়ান চৌধুরীকে তার পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় নিয়ে গেছেন। ভর্তি করেছেন গ্রীন লাইফ হাসপাতালে। এ ব্যাপারে তার পিতার সঙ্গে যোগাযোগের  চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। তবে ফাবিয়ানের মামা রফিউদ্দিন রিপন গতকাল দুপুরে তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন- ‘আমার ভাগিনা ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর অসুস্থ। ঢাকার গ্রীন লাইফ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ভর্তি। তার অনেক রক্তের প্রয়োজন।’ ফেসবুক আইডিতে তিনি বি-পজিটিভ রক্তদাতাদের যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন। ফেসবুকের সূত্র ধরে রফিউদ্দিন রিপনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে গতকাল বিকালে তিনি  জানান- ‘ফাবিয়ান লাইফ সাপোর্টে। কথা বলার মতো অবস্থায় তারা নেই।’ প্রভাতবেলা ডেস্ক

সর্বশেষ সংবাদ