প্রলোভনে ফাঁদে ফেলে ছাত্রীদের ধর্ষণ করতো শিক্ষক আরিফ

প্রকাশিত: ২:২৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩০, ২০১৯

প্রলোভনে ফাঁদে ফেলে ছাত্রীদের ধর্ষণ করতো শিক্ষক আরিফ

প্রভাতবেলা ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের এক হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে বলে তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে র‌্যাব। জানা যায়, পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীদের টার্গেট করে ওই শিক্ষক প্রথমে দুয়েকটি ঘটনা ঘটায়, কিন্তু কেউ মুখ না খোলায় আরও বেপরোয়া হয় সে। এরপর একের পর এক ছাত্রীকে টার্গেট করে এই শিক্ষক। এমনকি ব্লাকমেইল করে এক ছাত্রীর মাকে ধর্ষণ করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

কাউকে প্রলোভন দেখিয়ে, কাউকে পরীক্ষার খাতায় বেশি নম্বর দেওয়ার কথা বলে, কোনও ছাত্রীকে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দিয়ে, আবার কোনও ফেল করা শিক্ষার্থীকে ডেকে ভালো নম্বর পাইয়ে দিতে চেয়ে ফাঁদে ফেলতো এই শিক্ষক। অঙ্ক ও ইংরেজির শিক্ষক হওয়ায় সে এসব সুযোগ সৃষ্টি করতে পেরেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন জানান, শিক্ষক আরিফুল ইসলামের নির্যাতনের শিকার হয়েছে এমন প্রায় ৭ থেকে ৮ জনকে খুঁজে পাওয়া গেছে। এছাড়া তার মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারের ডিভাইস চেক করে মোট ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির প্রমাণ মিলেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক আরিফুলের ফাঁদে পড়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে পঞ্চম শ্রেণি থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণির বিভিন্ন শিক্ষার্থী। এমনকি এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর তার ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে তার মাকেও ওই শিক্ষক ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।’ এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন আরও জানান, সিরিয়াল রেপিস্ট শিক্ষক আরিফুল ইসলাম র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। স্কুল থেকে পাঁচশ’ গজ দূরে একটি ভবনের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে শুধু ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়াতো সে। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত ওই স্কুলের বেশ কয়েকজন ছাত্রী এবং স্কুলের বাইরের কয়েকজন ছাত্রীকেও বিভিন্ন কৌশলে ফাঁদে ফেলে একাধিকবার ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছে। একজনকে ফেল করিয়ে দিয়ে এবং আরেকজনকে বাসায় ডেকে অন্যের খাতা দেখে লেখার সুযোগ দিয়ে ধর্ষণের কথা জানিয়েছে সে। এছাড়াও ২০১৫ সালে এক ছাত্রীকে টার্গেট করে ২০১৬ সালে নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তাকে ধর্ষণ করেছে।

বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন  এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘ভয়ে অভিভাবকদের কাছে শিক্ষকের অনৈতিক আচরণের কথা বলেনি শিক্ষার্থীরা।’

যেভাবে ধরা পড়লো শিক্ষক আরিফুল:

দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করলেও শিক্ষক আরিফুল ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু সম্প্রতি নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে আপত্তিকর প্রস্তাব দিয়ে ধরা পড়ে সে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হাসান জানান, ২৭ জুন ধরা পড়ার তিন-চার দিন আগে হাই স্কুলের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর প্রস্তাব দেয় শিক্ষক আরিফুল ইসলাম। বিষয়টি ওই শিক্ষার্থী তার বাবা-মা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানায়। পরে স্থানীয় লোকজন ওই শিক্ষককে ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার মোবাইল ফোন সার্চ করে একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও দেখতে পায়। এরপর ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক র‌্যাব-১১ কে বিষয়টি জানায়। র‌্যাব এসে শিক্ষক আরিফুল ইসলাম ও তাকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে আটক করে।

আগেও একবার প্রকাশ হয়েছিল এই শিক্ষকের অপকর্ম:

প্রায় দেড়-দুই বছর আগে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করার বিষয়টি জানতে পারেন তার অভিভাবক। কিন্তু ওই পরিবার এই বিষয়টি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে না জানিয়ে তাদের মেয়েকে স্কুলে থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। পরে ওই এলাকা ছেড়ে তারা অন্য এলাকায় চলে গেলে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।

শাস্তি নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা:

এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে শিক্ষক আরিফুলের বিরুদ্ধে। মামলার বাদী জানান, ‘আমি শিক্ষক আরিফুলের শাস্তি চাই। কোমলমতি শিশুদের সরলতার সুযোগ নিয়ে শিক্ষক আরিফুল ইসলাম তাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে। সে যাতে আর কোনও শিক্ষার্থীর জীবন নষ্ট করতে না পারে এবং আইনের ফাঁক গলিয়ে জামিনে বের হতে না পারে এজন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

কে এই আরিফুল ইসলাম:

আরিফুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জের একটি হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক। ২০০৯ সালে চাকরি শুরু করে সে। পড়াতো অঙ্ক ও ইংরেজি বিষয়। তার বাড়ি মাদারীপুর জেলার শ্রীনদী গ্রামে। পিতার নাম মৃত সিরাজুল ইসলাম। রাজধানী ঢাকার কবি নজরুল কলেজ থেকে বিবিএস এবং গুলশান মানারাত ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ পাস করেছে সে।

সর্বশেষ সংবাদ