" /> ১৩ বছরের কিশোরী হয়েছে মা ,বাবা হলো কে? – দৈনিক প্রভাতবেলা

১৩ বছরের কিশোরী হয়েছে মা ,বাবা হলো কে?

প্রকাশিত: ৫:১৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯

১৩ বছরের কিশোরী হয়েছে মা ,বাবা হলো কে?

প্রভাতবেলা ডেস্ক:: বয়স তার মাত্র ১৩ বছর। পড়তেন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণিতে। চোখে এখনো কিশোরী বয়সের দুরন্তপনা। এই বয়সেই ধর্ষিতা হয়ে তার কোলজুড়ে এসেছে এক কন্যা সন্তান। কিন্তু তিনি মা হলেও বাবা হয়নি কেউ। বলছিলাম সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এক কিশোরীর কথা।

গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই কিশোরীর এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতেই আছেন।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) ধর্ষিতা ওই কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়- একটি খাটের ওপর শুয়ে আছেন কিশোরী মা। তার পাশেই ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান। কিশোরীর মুখে মৃদু হাসি। একটু পরপর নিজের সন্তানকে আদর করছেন। স্বভাবসুলভে যেন জীবনের পালে ভারি হয়ে আসা বাতাস এখনো লাগেনি। তাইতো মা হওয়ার তৃপ্তিটা তার আছে।

কিন্তু মা-মে দুইজনে সুস্থ থাকলেও দিশেহারা পুরো পরিবার। সামাজিকভাবে আছে তাদের প্রতি হেও-প্রতিপন্নতা। এমনকি কন্যা সন্তানের জন্মের পর সামাজিক আচার অনুষ্ঠান নিয়েও আছেন দুশ্চিন্তায়। নাপিত চুল কাটতে আসবে কি না এটিও তাদের ভাবাচ্ছে। কেবল তাই না, কিশোরীর পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং তাদের আশপাশে প্রতিটি ঘরই ধর্ষক বাপ্পা সেনের আত্মীয় হওয়ায় কিশোরীর পরিবারের প্রতি আছে হুমকি। টাকা দিয়ে কারাগার থেকে বাপ্পাকে বের করে আনা হবে এমন দম্ভও আছে বাপ্পার স্বজনদের পক্ষ থেকে। এমন যখন অবস্থা তখন কিশোরীর পরিবারের কেবল শিশুর স্বীকৃতিটাই দাবি।

কিশোরীর বড় বোন বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আমার বোন যখন ধর্ষিত হয় তখন সে মাত্র ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। যে বয়সে আমার বোন নিজে মায়ের কোলে ঘুমানোর কথা সে বয়সে আমার বোনের জীবনে এমন ঘটনা ঘটলো। আমরা গরিব মানুষ। শুরু থেকেই আমরা কেবল স্বীকৃতিটাই চেয়ে আসছিলাম। এখন এক সন্তানের জন্ম হয়ে গেছে। এ সন্তানের পিতৃ পরিচয় কি হবে আমরা জানি না। তাছাড়া আমাদের ঘরের পাশাপাশি সকল ঘরই প্রায় বাপ্পার আত্মীয়। তাই অনেকটা একঘরে অবস্থায় আছি। বিশেষ করে বাচ্চা হওয়ার পর থেকে নানাভাবে তারা আমাদের হেও প্রতিপন্ন করে কথা বলে। এমনকি টাকা দিয়ে বাপ্পাকে ছাড়িয়ে আনার কথাও তারা মা’দের শুনিয়ে শুনিয়ে বলে।’ কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

এসময় তিনি তার বোনের স্বীকৃতি ও সন্তানের পিতৃ পরিচয় দাবি করে বলেন, ‘আমদের একটাই দাবি যে বাপ্পার কারণে আমার বোনের এমন সর্বনাশ হয়েছে সে আমার বোনের স্বীকৃতি দিয়ে এই বাচ্চার পিতৃ পরিচয় বহন করুক’।

এর আগে গত ৪ মার্চ ওই কিশোরীকে বেড়ানোর কথা বলে ছাতক থানার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় আব্দুস সামাদ আজাদ নামের এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যান জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দা বাপ্পা সেন। পরে সেখানে তারা দুইজন মিলে ধর্ষণ করেন কিশোরীকে। ধর্ষক বাপ্পা সেন জগন্নাথপুর উপজেলার খাসিলা এলাকার মৃত মলয় সেনের পুত্র ও সৈয়দপুর পাবলিক স্কুলের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। আর তার বন্ধু আব্দুস সামাদ আজাদ ছাতক থানার গোবিন্দগঞ্জ এলাকার তকিপুর গ্রামের আব্দুশ শহীদের পুত্র। তিনি ছিলেন স্থানীয় আয়াজুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

একপর্যায়ে ওই কিশোরী দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে সে তার পরিবারকে ধর্ষণের বিষয়টি জানালে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় বাপ্পা সেন (২৬) ও আব্দুস সামাদ আজাদকে (২৬) প্রধান আসামী করা হয়।

এ মামলায় বাপ্পা সেন ও ধর্ষণ কাজে সহযোগিতা করার অপরাধে তাদেরকে বহনকারী সিএনজি অটোরিকশা চালক কয়সর (৩২) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুইজনের মধ্যে বাপ্পা সেন এখনো কারাগারে আছেন আর কয়সর আছে জামিনে।

অপরদিকে আব্দুস সামাদ আজাদ ঘটনার পর থেকে পলাতক বলে জানিয়েছেন জগন্নাথপুর থানার ওসি (তদন্ত) নব গোপাল দাশ। ওসি তদন্ত বলেন, বাপ্পা সেন, আব্দুস সামাদ আজাদ ও সিএনজি চালক কয়ছরকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট পাঠানো হয়েছে। এখন মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।তবে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পর আবদুস সামাদ আজাদ ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রভাতবেলা /১৮-ডিসেম্বর-১৯/ জিহান

  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ