পারভেজ মোশাররফের মৃত্যুদণ্ড বাতিল

প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

পারভেজ মোশাররফের মৃত্যুদণ্ড বাতিল

 

বিশ্বভূবন ডেস্ক:

 

রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল ঘোষণা করেছেন লাহোর হাইকোর্ট।

 

 

সেই সঙ্গে তার বিচার প্রক্রিয়ার জন্য যে বিশেষ আদালত গঠন করা হয়েছিল সেটিকেও অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

 

 

রায়ের বিরুদ্ধে মোশাররফের করা পিটিশনের শুনানিতে তিন সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেছেন, যেভাবে ওই মামলাটি করা হয়েছিল তা আইনসম্মত হয়নি। এ বিষয়ে শিগগিরই একটি শর্ট অর্ডার জারি করা হবে।

 

 

ডন জানিয়েছে, বিচারপতি সৈয়দ মাজহার আলী আকবর নাকভি, বিচারপতি মোহাম্মদ আমির ভাট্টি এবং বিচারপতি চৌধুরী মাসুদ জাহাঙ্গীরের এই হাইকোর্ট বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

 

 

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এর ফলে স্বৈরশাসক জেনারেল মোশাররফ এখন থেকে ‘মুক্ত’ বলে গণ্য হবেন।

 

 

গত ১৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের বিশেষ আদালত জেনারেল পারভেজ মোশাররফকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। মামলা দায়েরের প্রায় ছয় বছর পর এ রায় দেয়া হয়।

 

তিন সদস্য বিশিষ্ট এ বিশেষ আদালতে ছিলেন পেশোয়ার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ওয়াকার আহমেদ শেঠ, সিন্ধু হাইকোর্টের বিচারক নাজার আকবর এবং লাহোর হাইকোর্টের বিচারক শহীদ করিম।

 

 

২০০৭ সালের ৩ নভেম্বর জরুরি অবস্থা ঘোষণার দায়ে পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করা হয়।

 

 

২০০৮ সালের ৩১ মার্চ এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হলে সে বছরই তার বিরুদ্ধে সব তথ্য-প্রমাণ বিশেষ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। পরে আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশ দিলে মামলার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

 

 

ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ার পর পেশোয়ার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ওয়াকার শেঠের নেতৃত্বে বিশেষ আদালতে গত ১৯ নভেম্বর এ মামলার শুনানি শেষ করেন। পরে ১৭ ডিসেম্বর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন আদালত।

 

 

রায়ে মোশাররফ দোষী সাব্যস্ত হলেও তার পাশে দাঁড়িয়েছিল দেশটির সেনাবাহিনী। রায়ের দিনই এর বিপক্ষে সামরিক বাহিনীর অবস্থান তুলে ধরে এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসিফ গফুর বলেন, একজন সাবেক সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্ট যিনি ৪০ বছর দেশের সেবা করেছেন, দেশের সুরক্ষা দিতে যুদ্ধে লড়েছেন, তিনি কোনোভাবেই দেশদ্রোহী হতে পারেন না।

 

 

দণ্ড ঘোষণার পরই পারভেজ মোশাররফ তার বিচারে ওই বিশেষ আদালত গঠনের প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন।

 

 

পারভেজ মোশাররফ ২০১৬ সাল থেকে দুবাইয়ে বসবাস করছেন। তবে তার দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে তিনি, হৃদযন্ত্রে সমস্যা এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণে অসুস্থ।

 

 

প্রভাতবেলা/এমএ

  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ