লোকসংগীতের কিংবদন্তী শিল্পী ইয়ারুন্নেছা চলে গেলেন

প্রকাশিত: ১২:০৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২০

লোকসংগীতের কিংবদন্তী শিল্পী ইয়ারুন্নেছা চলে গেলেন

বশির আহমদ জুয়েল : সিলেটের কিংবদন্তী সংগীত শিল্পী ইয়ারুন্নেছা গতকাল ইন্তেকাল করেছেন। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি অনেকটা অপরিচিত হলেও সংগীতে তার রয়েছে বিশাল অবদান। অনলাইন পোর্টাল ‘গানপার’ এ ‘লোকগানে সিলেটের নারী কিংবদন্তিরা’ শিরোনামে আজিমুল রাজা চৌধুরীর লেখায় এই মহান শিল্পীর কথা বলা হয়েছে এভাবে—
“সিলেট তথা বাংলা লোকসংগীতের কিংবদন্তী শিল্পী ইয়ারুন্নেছা খানম। সেই স্বাধীতার পূর্বে এবং স্বাধীনতার পরবর্তীতে সিলেটি গানগুলো বিশেষ করে মরমী গানগুলো যখন হারিয়ে যাওয়ার পথে সেইসময় যে-কয়জন শিল্পী এই গানগুলোকে আঁকড়ে ধরে বর্তমান প্রজন্ম পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন তাদের অন্যতম শিল্পী হলেন মোছাম্মতৎ ইয়ারুন্নেছা খানম।

কোনো-এক সময় হাসন রাজার গান মানেই ইয়ারুন্নেছার কণ্ঠ মানুষের কর্ণে গিয়ে পৌঁছত। মরমী কবি হাসন রাজার গানগুলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অপরিসীম। সেই সময় মহিলারা প্রকাশ্য মঞ্চে তেমন গানবাজনা করত না। শিল্পী আরতি ধর এবং শিল্পী ইয়ারুন্নেছা খানম ছিলেন সেই সময়ের নারী শিল্পী যারা বাংলাদেশ বেতারে নিয়মিত গান পরিবেশন করতেন।

আনুমানিক ১৯৪৮ সালে এই শিল্পী সিলেট শহরের টিলাগড় এলাকার বিখ্যাত বসুমল্লিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। অত্যন্ত মেধাবী এই শিল্পী ১৯৬৫ সালে মেট্রিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন। ১৯৬৭ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ বেতারে গান পরিবেশন শুরু করেন। বাংলা লোকসাহিত্যকে দিয়েছেন অনেককিছু। বহুবার বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশী শিল্পী হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। গিয়েছেন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে।

অর্থ, বিত্ত, যশ ও প্রতিপত্তি কোনোকিছুর কমতি ছিল না তাঁর। উনাকে দেখার জন্য বাসার সামনে ( টিলাগড়ড় বসু মঞ্জিলে) মানুষ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকত। রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, সৈয়দ আব্দুল হাদী সিলেট এলে এই শিল্পীর বাসায় উঠতেন। অথচ বর্তমানে সকলেই যেন ভুলে গেছেন উনাকে।

শিল্পী ইয়ারুন্নেছা খানম ছিলেন তৎকালীন নারী শিল্পীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিত। অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতেন। এবং ছিলেন খুবই রাগী স্বভাবের। ওনার গানের সাথে সবাই বাজনা বাজানোর সাহস করত না। কারণ বাজনায় সামান্য তাল বা লয়ের ভুল হলেই ক্ষেপে যেতেন। তাই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোকরাই ওনার সাথে বাজনায় যুক্ত থাকত।

যাদের বর্তমান বয়স ৫০-এর উপর তাদের কানে এখনো ভাসে ইয়ারুন্নেছা খানমের সুরেলা কণ্ঠ। গ্রামগঞ্জে যে-বাড়িতে রেডিও থাকত সেই বাড়িতে লোকের ভিড় পড়ে যেত ইয়ারুন্নেছা খানমের গান শোনার জন্য। তখন বেতারে আব্দুল আলীম, ফেরদৌসী রহমান সহ গুটিকয়েক শিল্পীর লোকগান প্রচার হতো এবং সেই গুটিকয়ের একজন ছিলেন ইয়ারুন্নেছা খানম।’’

“মরমী কবি গিয়াসউদ্দিন সাহেবের অসংখ্য গানের প্রথম শিল্পী হলেন ইয়ারুন্নেছা খানম। 

লোকগানের এই গুণী শিল্পীকে যেন সরকার মূল্যায়ন করে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাঁর শুভানুধ্যায়ী সংগীতানুরাগীরা।”

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ