হবিগঞ্জে মার্ডার, সিলেটে সাজানো হয় নাটক!

প্রকাশিত: ৭:৪১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২০

হবিগঞ্জে মার্ডার, সিলেটে সাজানো হয় নাটক!

প্রভাতবেলা ডেস্ক:: চাকুরি হারানোর ক্ষোভ থেকে ঢাকা থেকে সিলেট আসার পথে হবিগঞ্জের মাধবপুরে সহকর্মী ও তার বন্ধুকে খুন করেন ট্রাকচালক ইব্রাহিম মিয়া ও হেলপার ফজর আলী। এরপর সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার লালমাটিয়ায় ট্রাকটিকে একটি দেয়ালের সাথে ধাক্কা লাগিয়ে দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতকরা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করেছে। পরে আদালতেও স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ওই দুই ঘাতক। স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন তারা।

 

পুলিশ জানিয়েছে, আজ শনিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেটের আদালতে স্বীকারোক্তি দেন সিলেট সদর উপজেলার বিমানবন্দর থানার ধোপাগুলের ফৌজদার মিয়া তালুকাদেরর ছেলে ইব্রাহিম মিয়া (২২) ও বিশ^নাথের শ্বাসরাম গ্রামের রুস্তুম আলীর ছেলে ফজর আলী (২৪)। এছাড়া তাদের সহযোগী হবিগঞ্জের মাধবপুরের উত্তর বেজুড়া গ্রামের আব্দুল বাছিলের ছেলে জয়নাল মিয়াকেও (২৩) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

এর আগে গতকাল শুক্রবার লালমাটিয়ায় ট্রাকের ভেতর থেকে চালক জাহাঙ্গীর মিয়া ও তার বন্ধু রাজু মিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের দু’জনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানায়।

 

জানা গেছে, শুক্রবার সকালে পৌনে ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লালমাটিয়া এলাকাস্থ সিটি করপোরেশনের ময়লার ভাগাড়ের দক্ষিণ দিকের প্রবেশপথে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-৪০৩০) পাওয়া যায়। ট্রাকের ভেতর (সামনে চালক ও হেলপার বসার স্থান) দুটি লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে ট্রাকটির কোনো চাকা ছিল না। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

 

আসামীদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে সিলেট মহানগরীর মোগলাবাজার থানার ওসি আকতার হোসেন জানান, চুয়াডাঙ্গার আতাউর রহমান নামের এক মালিকের ট্রাক চালাতেন সিলেটের ইব্রাহিম মিয়া। গত বৃহস্পতিবার মালিক তাকে চাকুরিচ্যূত করে নতুন চালক জাহাঙ্গীর মিয়ার কাছে ট্রাক হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। গাজীপুর থেকে ইব্রাহিমের কাছ থেকে জাহাঙ্গীর ট্রাক বুঝে নেন। পরে ওই ট্রাকে করে একটি কোম্পানির মাল নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন জাহাঙ্গীর ও তার বন্ধু রাজু মিয়া। সহযাত্রী হন আগের চালক ইব্রাহিম মিয়া ও তার হেলপার ফজর মিয়া। রাস্তায় পালাবদল করে ট্রাক চালানোর দায়িত্ব নেন ইব্রাহিম।

 

তিনি জানান, হবিগঞ্জের মাধবপুরে আসার পর ট্রাকের ভেতর ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা জাহাঙ্গীর মিয়া ও তার বন্ধু রাজুকে ফাঁস দিয়ে খুন করেন ইব্রাহিম ও তার হেলপার ফজর আলী। এরপর হবিগঞ্জের জগদীশপুর এসে ট্রাকের ১০টি চাকার মধ্যে চারটি খুলে ও ভেতরে থাকা আরেকটি মিলিয়ে মোট ৫টি চাকা জয়নাল মিয়ার কাছে বিক্রি করেন ইব্রাহিম ও ফজর। পরে তারা চলে আসেন সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার লালমাটিয়ায়। সেখানে একটি দেয়ালের সাথে ট্রাকটিকে ধাক্কা লাগিয়ে দুর্ঘটনা সাজিয়ে ভেতের জাহাঙ্গীর ও রাজুর লাশ রেখে পালিয়ে যান ইব্রাহিম ও ফজর।

 

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা জানান, পুলিশ দুজনের লাশ উদ্ধার করে তদন্তে নেমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে। পরে সিলেট থেকে আটক করা হয় ইব্রাহিম ও ফজরকে। আর হবিগঞ্জের জগদীশপুর থেকে ট্রাকের চাকা ক্রয়কারী ব্যবসায়ী জয়নাল মিয়াকেও আটক করা হয়।

 

তিনি জানান, চাকা বিক্রির ৭ হাজার টাকা ফজর মিয়ার শ্বশুর দক্ষিণ সুরমার কুজাবাইন সাকিনের ফলিক মিয়ার ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

 

জেদান আল মুসা আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত রাজুর বড় ভাই সুজন আহমদ বাদী হয়ে মোগলাবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

 

প্রভাতবেলা /২৫-জানুয়ারি-২০/ তৌহিদ’জিহান

  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ