রাজউক আর দুর্নীতি সমার্থক : টিআইবি

প্রকাশিত: ৬:৫২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০২০

রাজউক আর দুর্নীতি সমার্থক : টিআইবি

 

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

 

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও দুর্নীতিকে সমার্থক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

 

 

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে টিআইবির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আখ্যা দেওয়া হয়। ‘রাজউক : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

 

 

রাজউক নিয়ে টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশকালে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজউক আর দুর্নীতি এখন সমার্থক অর্থেই ব্যবহৃত হয়। রাজউক নিজেদের দায়িত্ব ভুলে গিয়ে এখন ব্যবসায়ী, মুনাফা অর্জনকারী ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, তারা এত দিনেও জনবান্ধব হতে পারেনি। তারা রক্ষক থেকে ভক্ষকের ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে। বলা যায়, এই ধারণা এখন প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। অথচ রাজউকের দায়িত্ব হলো নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করা।

 

 

রাজউকের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজউকের গোড়ায় গলদ রয়েছে। এতে করে অনিয়ম, দুর্নীতি বেশি হচ্ছে। এমনকি তাদের কর্মকাণ্ডে কোনো জবাবদিহিতা নেই। নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রায় সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি করা হচ্ছে। আমাদের চাওয়া রাজউক যেন সত্যিকার অর্থেই একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হয়, যারা নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করবে।

 

 

ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ভবনের নকশা অনুমোদন, ভবন নির্মাণের ছাড়পত্র ও বাস্তবায়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন পর্যায়ে একজন ব্যক্তিকে দুই হাজার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা এবং আবাসন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে দুই হাজার থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। এ ছাড়াও প্রকল্প সম্পর্কিত সেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া নির্ধারিত ফির চেয়ে দুই হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হয়।

 

 

সেখানে বলা হয়, রাজউক নিয়ন্ত্রণমূলক কাজের গুরুত্ব না দিয়ে উন্নয়নমূলক কাজকে বেশি গুরুত্বারোপ করে এবং আবাসন প্রতিষ্ঠান ও রিয়েল স্টেট ব্যবসার মাধ্যমে মুনাফাকে অধিক প্রাধান্য দিচ্ছে। অপরদিকে, পরিকল্পনা প্রণয়ন করা গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলেও সেটা বার বার উপেক্ষিত হচ্ছে।

 

 

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোনো ব্যক্তির দুর্নীতি প্রকাশ করা টিআইবির দায়িত্ব নয়। এটি রাষ্ট্র তথা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। রাজউকের দুর্নীতি রোধে এখনই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

 

প্রভাতবেলা/এমএ

  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ