" /> তাপাদার মাতার ইন্তেকাল: কিছু স্মৃতি, কিছু কথা – দৈনিক প্রভাতবেলা

তাপাদার মাতার ইন্তেকাল: কিছু স্মৃতি, কিছু কথা

প্রকাশিত: ৫:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০

তাপাদার মাতার ইন্তেকাল: কিছু স্মৃতি, কিছু কথা

কবীর আহমদ সোহেল:

দৈনিক জালালাবাদের নির্বাহী সম্পাদক আবদুল কাদের তাপাদারের মাতা  আলিফ জান চৌধুরী আজ রোববার বেলা ২ টায় নগরীর একটি ক্লিনিকে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮০  বছর।  তিনি ৪ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তান রেখে গেছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা গ্রামে।

সিলেটের গণমাধ্যমে আজকের দিনের খবর এটি। আমরা যারা গণমাধ্যমকর্মী সবার কাছে খবরটি দু;খের,বেদনার।

কাদের তাপাদারের মা দীর্ঘদিন যাবত বার্ধ্যক্যজনিত নানারোগে ভোগছিলেন। ডিসেম্বরের প্রথমদিকে ব্রেন স্ট্রোক করেছিলেন।এটা ছিল তার তৃতীয় দফা স্ট্রোক। নগরীর ইবনে সিনা ক্লিনিকে একাধিকবার তাকে দেখতে গিয়েছি। কেন জানি মনে হয়েছিল এই মা আর সুস্থ হয়ে উঠবেন না। তবুও তার সুস্থতা কামনা করেছি। কিন্তু সব কামনা বাসনা আকাঙ্খা অভিলাস দলিত মথিত করে তিনি তার স্থায়ী ঠিকানায় পাড়ি দিলেন। মহান মাবুদ তাঁর বান্দিকে ক্ষমা করুন, জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। তাঁর পরিবার স্বজন পরিজনকে সবরে জামিল ধারনের শক্তি দিন। আজকের কামনা এটি। ৫ ডিসেম্বর রাতে কাদের তাপাদারের মাকে দেখে এসে মনের আবেগে কিছু লিখেছিলাম। ফেসবুকের টাইমলাইন খুঁজে সে লিখাটি আবারো পড়লাম। স্মৃতিকাতর করে তুলে সেই লেখাটি পড়ে। সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয় আমাদেরকে। এটা জানি। দেখি। কিন্তু বুঝি কতটুকু? নিজেকেও যেতে হবে । এটার আলোকে কি জীবন যাপন করি? না দুনিয়ার যশ খ্যাতি সম্মান প্রতিপত্তির জন্য সকাল বিকাল নিজের চরিত্র পাল্টাই। তা – কি ভাবি? আত্মসমালোচনা করি?

কাদের তাপাদারের অসুস্থ মাকে দেখে এসে সেদিনকার সেই লিখাটি আবারো প্রকাশ করলাম। আমাদের সংশোধিত হবার বাসনায়

‘ইয়া শা- ফি-য়া-ল আমরাদ্ব:
কাদের ভাইর আম্মাকে শীফা দাও, রহম করো
+++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++

মা। পৃথিবীর সবচেয়ে দামী একটি শব্দ। ৫০টি বাংলা বর্ণের কোন সমন্বয়েই এর ব্যাখ্যা সম্ভব নয়। এই মা যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন, হঠাৎ গুরুতর রোগে আক্রান্ত হয়ে যান। মা যখন শয্যাশায়ী। হাসপাতালের বেডে। কিছুই বলতে পারেন না, খেতে পারেন না, চলতে পারেন না। এমনকি ইশারাও বুঝে নিতে পারেন না। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সন্তানের কেমন লাগে?
এমনি এক শয্যাশায়ী মা আর পাশে দাঁড়ানো দুই সন্তানকে দেখে এলাম রাত পৌণে ১২ টায়। সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালের ৮০৬ নং কেবিনে। বলছিলাম বিশিষ্ট সাংবাদিক দৈনিক জালালাবাদ এর নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল কাদের তাপাদার ভাইর মা’য়ের কথা। ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন এই মা। স্কুলজীবন থেকেই সম্পর্কের সূচনা কাদের ভাইর সাথে। স্কুলের করিডোর, কলেজ ক্যাম্পাস, মেসজীবন, রাজপথ থেকে সাংবাদিকতার আঙ্গিনায় কাদের ভাইর সাথে বহমান নদীর মতই পথচলা। কত গল্প, কত কথা, কষ্ট, বেদনা আর আনন্দের এই সুদীর্ঘ পথচলা তা কেবলি আমরা দু’জন বলতে পারি।
ব্যস্ততার অক্টোপাশে বন্দী আমরা থাকলেও সম্পর্কটা পারিবারিক বন্ধনে বন্দী। কৈশোর কাল থেকে দেখা কাদের ভাইর আম্মাকে। সুঠাম সুস্বাস্থ্য সুন্দর অবয়বে সমুজ্জল এক মা। আজ জীর্ণ শীর্ণ অচেতন অবস্থায় ইবনে সিনা হাসপাতালের বেডে। রাত সাড়ে ১১ টায় সিলেট প্রসেক্লাব থেকে বের হচ্ছি। কাদের ভাইকে কল দিলাম। উদ্যেশ্য জালালাবাদ আবাসিক এলাকায় তার বাসায় উঠে এককাপ চা খেয়ে যাব। কল রিসিভ করে কাদের জানালেন, আম্মাকে নিয়ে ইবনে সিনায়। আমি বল্লাম ১৫মিনেটের মধ্যে আসছি। দ্রুতবেগেই পৌছলাম গন্তব্যে। সাথে অনুজ প্রতিম মুনশী ইকবাল। কেবিলে পৌছেই খালাম্মার অবস্থা দেখে খুব কষ্ট অনুভব করছিলাম। কাদের ভাইর দিকে তাকালাম বার কয়েক। সুন্দর চেহারার এই মানুষটির মুখাবয়বে দুশ্চিন্তার পাহাড়। খালাম্মার শিয়রে বসা তার ছোট ভাই মলিন মুখ, কোন কথা বলছেনা। রব কোথায়? জানতে চাইলাম। বল্লেন বাসায় । সেখানে অসুস্থ বোনকেও দেখভাল করতে হয়। হায় মাবুদ। ভাবীকে চটপটে খটখটে দেখাচ্ছিল। খালাম্মাকে দেখছেন, কিছু খাওয়ানো যায় কি না, ডাক্তার আসেনা কেন? এসব নিয়ে ব্যস্ত।
কাদের ভাইকে কিছু পরামর্শ দিলাম। যত দ্রুত সম্ভব ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যেতে তাগিদ দিলাম। সম্মত হলেন। বাসায় মেয়েকে একা রেখে এসেছেন,ভাবী বল্রেন। বাসায় ফিরতে হবে। আমরা ও বিদায় নেব। এক সাথেই নামলাম। অটোরিকশায় কাদের ভাই, ভাবী, ভাতিজাকে উঠিয়ে দিলাম। তাদের সাথে অটোরিকশায় চড়লো ইকবাল। আমি বাসার উদ্যেশে মোটর সাইকেল স্টার্ট দিলাম। ফিরলাম। খেতে পারলাম না ঠিকমত। চোখ থেকে যাচ্ছেনা খালাম্মার দৃশ্য। কাদের ভাইর চেহারা। অতীতের অনেক দু:সময়ে আমি কাছে থেকে কাদের ভাইকে দেখেছি। তবে আজকের মত দেখিনি।
ইয়া শা- ফি-য়া-ল আমরাদ্ব। এই মা কে তুমি শীফা দাও ,রহম করো। আমাদের মা বাবাকে হায়াতে তায়্যিবা দান করো। (আর যারা) মরহুম তাদের কে জান্নাতের মেহমান হিসেবে বরণ করো।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ