" /> কারান্তরীণ মকসুদ : এক অকুতোভয় জাতীয়তাবাদী সৈনিক – দৈনিক প্রভাতবেলা

কারান্তরীণ মকসুদ : এক অকুতোভয় জাতীয়তাবাদী সৈনিক

প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০

কারান্তরীণ মকসুদ : এক অকুতোভয় জাতীয়তাবাদী সৈনিক

 

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:

 

মামলার বেড়াজালে যুবদল নেতা মকসুদ। কারাগারের অন্ধকার প্রকোস্টেই এখন বসবাস। সরকারের সব সংস্থাকে ফাঁকি দিয়েই ১০ বছর রাজনীতিতে সরব ছিলেন। র‌্যাব পুলিশ এসবি ডিবিসহ কোন সংস্থাই তাকে আটক করতে পারেনি। মামলা হুলিয়া নিয়েই চলছিলেন তিনি। কখনো আত্মগোপনে, কখনো ময়দানে। জাতীয়তাবাদী শক্তির দু:সময়ে দুর্দিনে তিনি এক অকুতোভয় সৈনিক। রাজপথে মিছিলে কিংবা রাজনীতির কূটকৌশলে। সমান যোগ্যতায় সমুজ্জল এই যুবনেতা। ২০ জানুয়ারী সন্ধ্যায় র‌্যাব’র এক চৌকস দলের জালে আটক হন মকসুদ আহমদ। এ আরেক জগত। সাহস যোগ্যতা কিংবা কৌশল কিছুই আর কাজে আসেনা। কেবলই আইনী লড়াই। আটক হন ৬ মামলায়। আদালতে সোপর্দ হতে হতে ৯ মামলা। কারাগারে পৌঁছতে মামলা হয় ১৩। এক সপ্তাহ কারাবাসে মামলার সংখ্যা দাড়ায় ১৭। প্রতিদিন বাড়ছে মামলা, বাড়ছে পরোয়ানা। দেখানো হচ্ছে গ্রেফতার- কাস্টডি। আদালতের হাজিরা আর কারাবাসে মোটা চালের ভোজন। এ নিয়েই মকসুদ আহমদের দিনযাপন।

 

মকসুদ আহমদ। সিলেট জেলা যুবদলের সদস্য সচিব। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়েই যার রাজনীতির পাঠশালা। এক সময় সাদেক – খালেদ গ্রæপের কর্মী। রাজনৈতিক সক্রিয়তায় কম সময়ে দায়িত্ব পান দক্ষিণ সুরমা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের। নিজেই গড়ে তোলেন গ্রæপ। তার সাহসী নেতৃত্বে প্রতিপক্ষ গ্রæপগুলো তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়ে। তিনি হয়ে উঠেন অপ্রতিরোধ্য। দল তাকে মুল্যায়ন করে। জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক এর দায়িত্ব পান মকসুদ। চষে বেড়ান উপজেলা থেকে উপজেলায়। ইউনিয়ন থেকে গ্রামে। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মত নেতাকর্মী তার পিছু ধরে। সিলেট বিএনপি’র কান্ডারী তখন ইলিয়াস আলী। মকসুদ ইলিয়াস আলীর ঘনিস্টজন, প্রিয়ভাজন। অতএব তার পিছনে ফিরে তাকাবার সময় নেই। রাজনীতির উত্তাল মিছিলে শ্লোগান কেবল মকসুদেরই।

 

মকসুদের রাজনীতির ভাগ্যাকাশ কেবলি মেঘে ঢাকা। রাজনীতিকালীন বেশীরভাগ সময় দল ক্ষমতার বাইরে। যাও বা একজন কান্ডারী পাওয়া গেল। তাও স্থায়ী হলো না বেশী দিন। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হয়ে গেলেন। রাজনৈতিক গুরুর অনুপস্থিতি মকসুদকে হতাশ করে তুললো। সুখ সইলো না কপালে। রাজনীতির কন্ঠকাকীর্ণ পথ ধরেই তার এগিয়ে চলা। ইলিয়াস আলীর অনুপস্থিতি মকসুদকে আগলে রেখেছে কিছুদিন কিন্তু থামিয়ে দিতে পারেনি তার সাহসী যাত্রা। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সিলেটের রাজপথ যখন নেতাকর্মী শূণ্য। তিনি তখন একাই হাল ধরেছেন। কেন্দ্রিয় কর্মসূচী কিংবা স্থানীয় কর্মসূচী সফল করতে তিনি ছিলেন সদা তৎপর এক নেতা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচন পরবর্তী আন্দোলনে র‌্যাব-পুলিশি-বিজিবি’র সাড়াশি অভিযানে দলীয় নেতাকর্মী যখন কোনঠাসা, ঘরছাড়া। মকসুদ আহমদ তখনো মাঠ ছেড়ে যাননি। র‌্যাব- পুলিশ- আধা সামরিক বাহিনী বেস্টিত সিলেট নগরী। রাজপথ জনশূণ্য। এমন সময়ে মকসুদ গুটি কয়েক কর্মী নিয়ে জিন্দাবাজারে মিছিল বের করেন। উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীরা পর্যন্ত শঙ্কিত হয়ে উঠেন। গুলির মুখে মিছিলের এ কেমন সাহস? মিছিলটি জিন্দাবাজার মোড় অতিক্রম করার সাথেই মুহুর্মুহু গুলি। মকসুদ আর পেছনে ফিরে তাকাননি। কাজী ইলিয়াস রোড হয়ে সটকে পড়েন। এভাবেই যৌথবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব কিংবা সরকারী পেটোয়া বাহিনীর সম্মুখ বাধার মুখে তিনি বেরিয়ে পড়তেন অসীম সাহসিকতায়।

 

মকসুদের রাজপথে সাহসিকতা ও দলীয় কর্মসুচী বাস্তবায়নে একাগ্রতা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজর কাড়ে। ইসহাক আলী সরকার সহ কেন্দ্রিয় ছাত্রদলের তৎকালীন নেতৃত্ব মকসুদের কর্মতৎপরতায় অভিভূত হয়ে উঠেন। ছাত্রদলের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা ইসহাক সরকার প্রভাতবেলাকে বলেন, মকসুদের মত ১০০ নেতা পেলে আমরা সরকার হঠিয়ে দিতাম। বিএনপি’র দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা তারেক রহমানের নজর কাড়েন মকসুদ এসময়েই। তারেক রহমান সরাসরি মকসুদের সাথে যোগাযোগ করতেন, নির্দেশনা দিতেন।

 

রাজনীতির দূর্যোগকালীন এ সময়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন বিশিষ্ট শিল্পপতি খন্দকার মুক্তাদির আহমদ। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য খন্দকার মুক্তাদির সিলেটের রাজনীতিতে রতন চিনতে ভুল করেননি। তিনি মকসুদ আহমদের যথাযথ অভিভাবকের দায়িত্ব নেন। পৃষ্টপোষকতা করেন, মূল্যায়ন করেন মকসুদকে।

রাজনীতির কঠিন সমীকরনে মকসুদের ছাত্ররাজনীতির ইতি ঘটে। সিলেট জেলা ছাত্রদলের ১ম যুগ্ম সম্পাদক পদই ছিল তার ছাত্ররাজনীতির সর্বোচ্চ পদ। কিছুদিন পদহীন। কিন্তু রাজনৈতিক তৎপরতাহীন হননি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির এই মুকুটবিহিন স¤্রাট। সম্প্রতি সিলেট জেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে মকসুদ আহমদকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়। এ দায়িত্ব পেয়েই তিনি আরো সক্রিয় হয়ে উঠেন। জেলা যুবদলকে সক্রিয় ও তৎপর তোলার লক্ষে কাজে নামেন তিনি। ঠিক এই সময়ে র‌্যাব’র হাতে আটক হয়ে এখন কারান্তরীণ। মামলার পর মামলায় আটকে আছেন তিনি। তার অনুপস্থিতিতে সিলেটের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে নেমে এসেছে এক নিরবতা। সিলেট জেলা যুবদলের আহবায়ক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু প্রভাতবেলাকে বলেন, মকসুদ আহমদ অসম্ভব সাহসী ও সাংগঠনিক যোগ্যতা সম্পন্ন এক নেতা। আজগুবি গায়েবী ও প্রতিহিংসামুলক মামলায় আটক যুবদল নেতাকে আমরা আইনী প্রক্রিয়াই মুক্ত করে আনবো ইনশাআল্লাহ।

 

প্রভাতবেলা/এমএ

  • 4.2K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4.2K
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ