" /> ‘রিচার্ড স্টোনিয়ে’ মুগ্ধতায় বাংলাদেশ – দৈনিক প্রভাতবেলা

‘রিচার্ড স্টোনিয়ে’ মুগ্ধতায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৯:০২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০

‘রিচার্ড স্টোনিয়ে’ মুগ্ধতায় বাংলাদেশ

 

মাসরুর রাসেল:

চারদিকে চলছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জয়জয়কার। দামাল ছেলেদের ফিল্ডিং আর ফিটনেসে মুগ্ধ সবাই। বিশ্ব জয়ের কারিগর হিসেবে তাই বারবার সামনে আসছে রিচার্ড স্টোনিয়ের এর নাম।

রিচার্ড স্টোনিয়ের। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান ফিটনেস পরামর্শক (স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ)। ৩৫ বছর বয়সী এই ইংরেজ এর পড়াশোনাটাও খেলাধুলা আর শরীরচর্চায়। স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেছেন যুক্তরাজ্যের স্ট্যাফোর্ডশার বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলা ও শরীরচর্চা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে।

 

স্টোনিংয়ের উচ্ছ্বাস কিংবা উদ্দীপনা দেখলে যে কেউ বুঝবেন এই দলটার সাথে কীভাবে মিশে গেছেন তিনি। আর সেটি যদি না দেখে থাকেন তাহলে স্টোনিংয়ের মুখের কথা শুনুন, এদেশের ছেলেরা কোচিং স্টাফদের ‘স্যার’ ডাকে। তবে আমাকে ওরা ‘ভাই’ বলে ডাকে। এভাবেই আপন করে নিয়েছে আমায়। এভাবেই দলে সাথে মিশে গেছেন- স্টোনিয়ের ভাই।

 

খেলোয়াড়দের দৈনন্দিন জীবনকে ছকে বেঁধে দেওয়াকে তিনি নিয়েছেন নিজের পেশা হিসেবে। বিভিন্ন সময় ফিটনেস নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করেছেন বেশ কয়েকজন অ্যাথলেটের সাথে। হয়েছেন ব্যক্তিগত ফিটনেস প্রশিক্ষকও।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২০১৮ সালের ৩ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে কাটানো সময়কে জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় বলেছেন স্টোনিয়ের। বলবেন না-ই বা কেনো? বন্ধুসুলভ এ মানুষটি তার আচরণের মাধ্যমে সবার খুব আপন হয়ে উঠেছেন। হয়ে উঠেছেন বিসিবি পরিবারের একজন অন্যতম সদস্য। অন্য জায়গায় যেখানে প্রশিক্ষককে ‘স্যার’ সম্বোধন করতে হয়, স্টোনিয়ের সেখানে হয়েছেন সবার ‘স্টোনিয়ের ভাই’।

অনেকে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব তাঁর ঝুলিতে দেখলেও তিনি এ জয়কে যুবাদের পরিশ্রমের ফসল বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।

স্টোনিয়েরের লিংকড ইন আইডি ঘেঁটে মিলেছে তাঁর সম্পর্কে বেশকিছু তথ্য। যুক্তরাজ্যের ইস্পোর্টাতে শরীরচর্চা ও লাইফস্টাইল বিষয়ক অধীক্ষক ও ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ২০০৭ সালের অক্টোবরে।এরপর যুক্তরাজ্যের স্টক অন ট্রেন্ট এর নামকরা ব্যামাগার ‘এম ক্লাব স্পা অ্যান্ড ফিটনেস’এ কাজ করেছেন প্রধান প্রশিক্ষক ও ব্যবস্থাপক হিসেবে।

২০১৩ সালের জুন মাসে রিচার্ড নিজেই চালু করেন ‘রিচার্ড স্টোনিয়ের স্পোর্টস অ্যান্ড ফিটনেস প্রফেশনাল’ নামক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। প্রশিক্ষক হিসেবে খ্যাতি বেশ ছড়িয়ে যায় স্টোনিয়েরের।যার ফলশ্রুতিতে পাকিস্তানের করাচিতে ‘সুই সাউদার্ন গ্যাস কোম্পানি’র ফিটনেস ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রধান হিসেবে প্রথম কাজ শুরু করেন দেশের বাইরে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়াও ফিটনেস নিয়ে কাজ করছেন পাকিস্তান প্রিমিয়ার লিগ(পিএসএল) এর লাহোর কালান্দার্স ও আফগান প্রিমিয়ার লিগ(এপিএল) এর কান্দাহার নাইটসের সাথে।

২০১৬ সালে পাকিস্তানের খেলাধুলা ভিত্তিক সংবাদপত্র স্কোরলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টোনিয়ের বলেন, কোনো কাজের সফলতার মূলমন্ত্র হলো আত্মবিশ্বাস। যার ৭০ ভাগ আসে মানসিক আর ৩০ ভাগ শারিরীক সক্ষমতা থেকে ।

স্টোনিয়ের খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়ানোর জন্য তাদের বিভিন্ন ছবি, ভিডিও ও সাময়িকী দেখান। আবার তাদের নিজেদের ভিডিও ধারণ করে তিনি সেগুলো দেখিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। যা খেলোয়াড়দের আত্মপ্রত্যয়ী করে তোলে।

স্টোনিয়ের একজন মানবিক মানুষও বটে। ডগলাস ম্যাকমিলান হসপিস নামক দাতব্য সংস্থার একজন সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবী তিনি। এ সংস্থার জন্য তিনি একাই সংগ্রহ করেছেন ১ লক্ষ ২৫ হাজার ইউরো।

 

প্রভাতবেলা/এমএ

  • 67
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    67
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ