" /> ফাগুনের আগুন রাঙা বসন্ত আজ – দৈনিক প্রভাতবেলা

ফাগুনের আগুন রাঙা বসন্ত আজ

প্রকাশিত: ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

ফাগুনের আগুন রাঙা বসন্ত আজ

 

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:

 

আজ পহেলা ফাল্গুন। বসন্তের প্রথম দিন। কবির সেই চিরায়ত বাণী ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত’ অথবা ‘ আহা, আজি এ বসন্তে, এতো ফুল ফোটে, এতো বাঁশী বাজে, এতো পাখি গায়’।

 

আবহমান বাংলার ঋতু বৈচিত্র্যের উল্লেখযোগ্য ঋতু বসন্ত। তাই এ ঋতুকে বলা হয় ঋতুরাজ।

 

বঙ্গাব্দের শেষ দু’মাস ফাল্গুন ও চৈত্র মিলিয়ে বসন্ত ঋতু। বাংলার প্রকৃতি, আমাদের ভাষা, সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের বড় স্থান দখল করে আছে বসন্ত। বসন্ত মিলনের ঋতু, আবার বিরহেরও ঋতু।

 

শীতের জবুথবু প্রকৃতির অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণ সমীরণের প্রবাহ শুরু হয় বসন্তে, এর সাথে দোলায়িত হয় মানুষের মন ও। জীবন রসায়নে যেন কী এক পরিবর্তন আসে। হৃদয়ে সৃষ্টি হয় প্রণোদনা, নাড়া দেয় এক অব্যক্ত আবহ। কেবল মানব মানবীর মনেই নয় বৃক্ষরাজি, পক্ষী ও প্রাণিকূলেও এ হাওয়া দোলা দেয়।

 

কোকিলের কুহুতান, দখিনা হাওয়া, ঝরা পাতার শুকনো নূপুরের নিক্কন, প্রকৃতির মিলন এ বসন্তেই। বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের কলরব। ফুল ফুটবার পুলকিত এ দিনে বন-বনান্তে, কাননে কাননে পারিজাতের রঙের কোলাহলে ভরে উঠবে চারদিক।

 

কচি পাতার আড়ালে আবডালে লুকিয়ে থাকা বসন্তের দূত কোকিলের কুহুকুহু ডাক, ব্যাকুল করে তুলবে অনেকের অন্তর। শুধু মিলনই তো নয়, প্রেমের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকে নানা রকম শঙ্কা-সন্দেহ। এমন মধুর দিনে কবি তাই বলেছেন, ‘সে কি আমায় নেবে চিনে, এই নব ফাল্গুনের দিনে- জানিনে ?’ অথবা ‘রোদন ভরা এ বসন্ত, সখী বুঝিনি কখনো আগে/ মোর বিরহ বেদনা জাগিল কিংশুক রক্তিম রাগে’।
এ সময়েই শীতের জীর্ণতা সরিয়ে ফুলে ফুলে সেজে ওঠে প্রকৃতি। গাছে গাছে নতুন পাতা, স্নিগ্ধ সবুজ কচি পাতার ধীরগতিতে বাতাসের সঙ্গে বয়ে চলা জানান দেয় নতুন কিছুর।

 

শীতে খোলসে ঢুকে থাকা বনবনানী অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠে। পলাশ, শিমুল গাছে লাগে আগুন রঙের খেলা। প্রকৃতিতে চলে মধুর বসন্তে সাজ সাজ রব। আর এ সাজে মন রাঙিয়ে গুন গুন করে অনেকেই আজ গেয়ে উঠবেন ‘মনেতে ফাগুন এলো..‘অথবা ‘ফাগুনের নবীন আনন্দে গানগুলি বাঁধিলাম ছন্দে ছন্দে..’।

 

শহরের নাগরিক জীবনে বসন্তের আগমন বার্তা নিয়ে আসে অন্য এক অনুষঙ্গ। কোকিলের ডাক, রঙিন কৃষ্ণচূড়া, আর আমের মুকুলের কথা বইয়ের পাতায় পড়ে থাকলেও একালের তরুণ-তরুণীরা কিন্তু বসে থাকতে রাজি নন। গায়ে হলুদ আর বাসন্তী রঙের শাড়ি জড়িয়ে হাতে হাত রেখে তাঁরা বেড়িয়ে পড়েন। পাঞ্জাবি পরা তরুণরাও এদিন নিজেদের রঙিন সাজে সাজাতে কম যান না। বসন্ত তারুণ্যেরই ঋতু, তাই সবারই মনে বেজে ওঠে, কবির এ বাণী- ‘বসন্ত ছুঁয়েছে আমাকে। ঘুমন্ত মন তাই জেগেছে, পয়লা ফাল্গুন আনন্দের দিনে।

 

এ দিনেই রমণীরা বাসন্তী রঙে রাঙিয়ে ঘুরে বেড়াবে নগরীর ডিসি হিল চত্বর, শিল্পকলা একাডেমি ও চারুকলা ইনস্টিটিউটের অঙ্গনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে।

 

আমাদের শিল্প ও সাহিত্যে সমৃদ্ধ বসন্তকাল। কবিগুরুর গান ও কবিতায় বসন্ত পেয়েছে বহুমুখী ব্যঞ্জনা। বাংলার পল্লীতে গ্রামে-গঞ্জে সবচেয়ে বেশি মেলা বসে এ ঋতুতে। নানা উৎসব আয়োজন হয়। তাই বসন্ত বরণে ব্যাকুল হয়ে ওঠে অনেক সাংস্কৃতিক সংগঠন। এবার প্রকৃতিতে এখনও বসন্তের আমেজ আসেনি। শীতের ধকল এখনও আছে। চলমান রাজনৈতিক পরিবেশে ঠিক সেভাবে বাঁধভাঙ্গা বসন্তবরণ হয়ে ওঠবে কিনা সন্দেহ। তবে হবে কি বিবাগী বস—? প্রাণের এ আকুতি রুধিবে কে ? কে পারে রুধিতে ? তবুও প্রাণের বসন্ত মিলাবে মনে-প্রাণে।

 

প্রকৃৃতির এ আবহ কোন অবস্থাতে প্রতিরোধ সম্ভব নয়। প্রকৃতির পালাবদলে যে ঐশ্বর্য বিরাজমান, যে চিরায়ত নবরূপে সেজে প্রকৃতি আজ সমৃদ্ধ হবে, সেই চিরন্তন সত্য থেকে আমাদেরকে শিক্ষা নিতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পৃথিবীটাকে সুন্দর, প্রাণময় আর নিষ্কলুষ রাখার দীক্ষা নিতে হবে।

 

প্রভাতবেলা/এমএ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ