" /> জালালাবাদে জামায়াতের আমীর: সোস্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় – দৈনিক প্রভাতবেলা

জালালাবাদে জামায়াতের আমীর: সোস্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়

প্রকাশিত: ৯:৪৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০

জালালাবাদে জামায়াতের আমীর: সোস্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:

জালালাবাদ সিন্ডিকেট এর বার্ষিক সাধারণ সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীরের যোগদান শুক্রবার দিনভর সিলেটের ‘টক অব দ্য টাউন’। ডা. শফিকুর রহমান  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর নির্বাচিত হবার সিলেটে প্রকাশ্যে কোন সভায় এটাই তার প্রথম অংশগ্রহণ। একই ভাবে বাংলাদেশের কোন দৈনিকের পরিচালনা পরিষদের সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোন আমীরের প্রথম যোগদানও। নানা হিসেব নিকেশ মেরুকরণে জালালাবাদ সিন্ডিকেটের এবারের বার্ষিক সাধারণ সভাটি ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

 

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে জালালাবাদ কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভাটির কয়েকটি স্থিরচিত্রসহ একটি পোস্ট আপলোড দেন জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর। বেলা ২টার দিকে পোস্টটি আপলোডের সাথে সাথে সোস্যাল মিডিয়ায় রীতিমত তোলপাড় শুরু হয়। সিন্ডিকেটের সভায় জামায়াত আমীরের যোগদান, জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর এবং জালালাবাদের সিইও নূরুল ইসলাম বাবুল সোস্যাল মিডিয়ায় সমালোচকদের প্রথম টার্গেট। অনেকেই তুলোধুনো করে ছাড়ছেন। কেউ আড়ালে আবডালে ‘ স্ট্যাটাস’ সম্পাদনা করে দিচ্ছেন। আপলোড দেয়াচ্ছেন অন্য আইডি থেকে। কেউ বা ছদ্ম নামে।

 

সমালোচকদের কারো অভিমত, ডা. শফিকুর রহমানের যোগদানের মাধ্যমে জানান দেয়া হলো এটা জামায়াতের পত্রিকা। কেউ বলছেন ,মুকতাবিস উন নূর জামায়াতের আমীরের উপদেষ্টা। আবারো কেউ বলছেন , নুরুল ইসলাম বাবুল গং জালালাবাদ সম্পাদকের অফিস দখল করে দলীয় কর্মকান্ড চালাচ্ছেন। এরা পত্রিকা পরিচালনার কিছুই জানেন না।

 

সভার ব্যানারে ‘বার্ষিক সাধারণ সভা, জালালালাবাদ সিন্ডিকেট লি:’   লিখা থাকলেও কেউ বলছেন জামায়াতের সভা। আবার কেউ কেউ গোপন বৈঠক বলেও হাস্যরসের যোগান দিচ্ছেন।

 

একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের একটি সভা নিয়ে কেন এত মাতামাতি? এর পেছনে নানা কারণ রয়েছে। সর্বশেষ কারণটি হলো জালালাবাদের উচ্চ পদস্থ একজনকে অব্যাহতি দান। ইতোপূর্বে বেশ ক’জন সাংবাদিক জালালাবাদ ছেড়ে চলে গেছেন বা চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

 

অব্যাহতি পাওয়া এবং ছেড়ে যাওয়াদের অনেকেই মনে করেন এসবের  কুশীলব সম্পাদক -সিইও এবং জামায়াত। তাদের এই ক্ষত  ও ক্ষোভ জলন্ত থাকতেই সিন্ডিকেটের সভা তাদের কাউকে আরো নিরাশ করে তুলেছে। ফেরার সব ছিদ্র বন্ধ এই শংকায় সোস্যাল মিডিয়াই  ভরসা। জামায়াতের শীর্ষ নেতার উপস্থিতি আরো ভাবিয়ে তুলেছে জালালাবাদ থেকে ছিটকে পড়া মহলকে।

 

এই মহল আবার জালালাবাদ এর ভবিষ্যত নিয়েও শঙ্কিত। তারা বলছেন এতদিন মানুষ জানতো না এটা জামায়াতের পত্রিকা। আজ প্রকাশ হয়ে গেল। ‘ম্যানেজমেন্ট টিম’ সব শেষ করে দিচ্ছে। মুকতাবিস উন নূর সব ডুবিয়ে ফেলছেন।

 

সোস্যাল মিডিয়ায় এসব আবেগি বক্তব্য যখন ঘোরপাক খাচ্ছে তখন জালালাবাদের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম মুকতাবিস উন নূর এর কার্যক্রমে সন্তোষ্টি প্রকাশ করছে। সম্প্রতি বরখাস্তকৃত সাংবাদিকের অনিয়ম দূর্নীতি ও নৈতিকতা বিবর্জিত অপকর্মের নিন্দা জানিয়েছে।

 

বিষয়টি প্রসংগে দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক ও জালালাবাদ সিন্ডিকেট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুকতাবিস উন নূর এর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি প্রভাতবেলা’কে বলেন, এসব অতি উৎসাহী শ্রেণীর কাজ। ডা. শফিকুর রহমান সিন্ডিকেট এর এক পরিচালক হিসেবে সভায় যোগ দিয়েছেন, এতে দোষের কী। তিনি বলেন, জালালাবাদ কোন দলের পত্রিকা নয়। যে কোন পরিচালকের যে কোন রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। জালালাবাদ সব দল মতের সংবাদকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে থাকে। জালালাবাদ থেকে সাংবাদিকদের ছাটাই – বরখাস্ত প্রসংগে মুকতাবিস উন নূর বলেন,  আমরা ছাটাই করছি একথা ঠিক নয়। জালালাবাদের নিয়ম শৃংখলা মেনে চলতে না পারার ভয়ে কেউ ছেড়ে গেছেন। এক্ষেত্রে আমাদের করার কী আছে। আবার দায়িত্বশীল পদে থেকে নির্লজ্জ অনিয়ম নৈতিকতা বিবর্জিত কাজ করেছেন। সংশোধনের সময় দেয়া হয়েছে। লিখিত অংগীকারনামা দিয়েছেন এসবের পুনরাবৃত্তি হবে না। কিন্ত আবারো করেছেন। কর্তৃপক্ষ শোকজ করেছে। জবাব দেননি। তখন বরখাস্ত করা ছাড়া আর কিছু থাকে?

 

  • 654
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    654
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ