" /> ঘুরে আসুন তাহিরপুরের রক্তরাঙা শিমুল বাগান – দৈনিক প্রভাতবেলা

ঘুরে আসুন তাহিরপুরের রক্তরাঙা শিমুল বাগান

প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০

ঘুরে আসুন তাহিরপুরের রক্তরাঙা শিমুল বাগান

 

মাসুদ আহমেদ :

 

বসন্ত বাতাসে বইছে আম্র মুকুলের সুবাস। চারিদিকে ডাকছে কোকিল। ফুটছে রক্তরাঙা শিমুল। রক্তরাঙা শিমুল যদি একটি গাছেও ফোটে সেটিও চোখে পড়ে অনেক দূর থেকে, কিন্তু সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের শিমুল বাগানে তিন হাজারেরও বেশি গাছে ফুটেছে অজস্র শিমুল! দেখে মনে হয় পাহাড়ের ধারে কেউ লাল গালিচা সাজিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বাগত জানাতে মুখিয়ে আছে । চোখ ধাঁধানো এমন সৌন্দর্যের দেখা পেতে যেতে হবে প্রকৃতির লীলাভুমি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাদাঘাটে ।

 

শহীদ সিরাজ লেক (নীলাদ্রি লেক), টাঙ্গুয়ার হাওর, যাদুকাটা নদীর মায়াবী মোহনার তাহিরপুর আজ দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বের প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছে এক অন্যতম আকর্ষন হয়ে উঠেছে।

 

ওপারে ভারতের মেঘালয় পাহাড়, মাঝে যাদুকাটা নদী, এপারে শিমুল বাগান। সব মিলেমিশে গড়ে তুলেছে প্রকৃতির এক অনবদ্য কাব্য। লাল পাপড়ি মেলে থাকা রক্তিম আভায় যেন পর্যটকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। মায়াময় যাদুকাটার তীরে পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠেছে এই শিমুল মায়ার খেলা। লাল ফুলের গালিচায় গা এলিয়ে দিতে অসংখ্য ভ্রমণ পিপাসু মানুষ রোজ আসছেন শিমুল বাগানে। কেউ বা শিমুল বাগানে শুধু দিনের শোভা দেখেই ক্ষান্ত নন, রাতের রূপ দেখার লোভে তাবু খাঁটিয়ে থেকে যাচ্ছেন এখানেই।

 

শিমুল বাগানে ঘুরতে আসা একজন বলেন, ‘এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গান মনে পড়ছে, ‘আহা আজি এই বসন্তে, এতো ফুল ফোঁটে, এতো বাঁশি বাজে, এতো পাখি গায়।’ সত্যি বলতে শিমুল বাগানে এসে আমি সৌন্দর্য শব্দের আসল অর্থ খুঁজে পেয়েছি।’

 

যেভাবে গড়ে উঠে শিমুল বাগান :

২০০২ সালে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন নিজের প্রায় আড়াই হাজার শতক জমিতে শিমুল গাছ রোপণের উদ্যোগ নেন। তিনি প্রায় তিন হাজার শিমুল গাছ রোপণ করেন। দিনে দিনে বেড়ে ওঠা শিমুল গাছগুলো এখন হয়ে উঠেছে শিমুল বাগান। আর নিত্য ভ্রমণ পিপাসুদের অন্যতম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে ।

 

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের মানিগাঁও এলাকার এই শিমুল বাগানই দেশের সবচেয়ে বড় শিমুল বাগান।

 

কীভাবে যাবেন
ঢাকা অথবা সিলেট থেকে সড়ক পথে বাসে যাওয়া যেতে পারে। সুনামগঞ্জ নতুন ব্রিজ থেকে মোটরসাইকেলে শিমুল বাগানে যাওয়া যায়।

 

থাকা-খাওয়া
শিমুল বাগানের আশেপাশে থাকার ভালো জায়গা নেই। সুনামগঞ্জ বা সিলেটে এসে রাতে থাকতে পারেন। শুকনো খাবার সাথে বহন করলে ভালো হবে।

 

কোন সমস্যায় পড়লে বাগানের বর্তমান মালিক, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য সেলিনা আবেদীনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন ।

প্রভাতবেলা/এমএ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ