" /> চিকিৎসক সংকটে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স – দৈনিক প্রভাতবেলা

চিকিৎসক সংকটে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২০

চিকিৎসক সংকটে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

 

প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ:

হাওর বেষ্টিত ভাটির জনপদ ও পর্যটন এলাকা খ্যাত শিক্ষা, দীক্ষা, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবাসহ নাগরিক নানা সুযোগ সুবিধায় পিছিয়ে থাকা তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে বেহাল হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা। ১৩ জনে চিকিৎসকের স্থলে সেবা দিচ্ছেন ৫ জন চিকিৎসক। ৩ লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর সেবা দিতে গিয়ে ৫ জন চিকিৎসক হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসকবৃন্দ।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স টি শুরু থেকেই ৩০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছিল। গত ২৫ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখ হতে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। উন্নীত হওয়ার পূর্বে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কখনো ২ জন, কখনো ৩ জন চিকিৎসকের উপস্থিতি ছিল। উন্নীত হওয়ার পর ৩৯ তম বিসিএস এর ৬ জন চিকিৎসককে একসাথে তাহিরপুরে পদায়ন করা হয়। পদায়নের পর পর্যায়ক্রমে ৩ জন চিকিৎসক অন্যত্র বদলি নিয়ে চলে যান এবং ৩ জন এখনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। নতুন নিয়োগকৃত ৩ জন, পূর্বের ১জন ও ডিজির আদেশক্রমে ১জন সহ মোট ৫ জন চিকিৎসক উপস্থিত থেকে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে আসা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা থাকলেও তিনি মাসের অধিকাংশ সময় অফিসয়িাল কাজকর্ম,মিটিং, সেমিনার নিয়ে ব্যাস্থ থাকছেন।

 

সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বালিজুরী, বাদাঘাট, উত্তর বড়দল, দক্ষিণ বড়দল, উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিণ শ্রীপুর, তাহিরপুর সদরসহ ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক গণ।

 

তাহিরপুরে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার সুমন চন্দ্র বর্মন জানান, গত কিছুদিন পূর্বে ৬ জন ডাক্তার একসাথে যোগদান করেছিলেন। ৩ জন চিকিৎসক অন্যত্র বদলি হয়ে চলে গেছেন। আমরা যারা উপস্থিত রয়েছি সবাই চেষ্ঠা করছি সঠিকভাবে স্বাস্থ্য সেবা দিতে। তিনি আরো জানান, ১৩ জন চিকিৎসকের স্থলে আমরা ৫ জন চিকিৎসা দিচ্ছি, সেহেতু চাপটা একটু বেশিই। তবু আমরা চেষ্টা করছি সবার চিকিৎসা সেবা দিতে।

 

উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের বড়দল গ্রাম থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা জাবেদা বেগম (৫৬) এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, হাসপাতালে মহিলা ডাক্তার থাকায় আমরা মন খুলে রোগের কথা বলতে পারছি। তিনি আরও জানান প্রতিটি হাসপাতালে দু’একজন মহিলা ডাক্তার থাকা খুবই দরকার।

 

তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন জানান, কিছুদিন পূর্বেও অনেক চিকিৎসক ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ৩ জন চিকিৎসক অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিশশিম খাচ্ছেন বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসক গণ।

 

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইকবাল হোসেন বলেন, এলাকাটি দূর্গম হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার থাকাতে চাননা। নতুন নিয়োগ দিলেও তারা যোগদানের দিন থেকে অন্যত্র বদলি নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমরা যারা এখানে আছি প্রত্যেকেই চেষ্ঠা করছি আমাদের সেবাটুকু দেয়ার।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। তার মধ্যে বর্তমানে ৮ টি পদই শুন্য রয়েছে। শুন্য পদগুলো হলো, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ১জন, ডেন্টাল ১জন, কনসালট্যান্ট ৪জন (সার্জারী, মেডিসিন, গাইনী, এ্যনেস্থেশিয়া) ও ইউনিয়ন মেডিকেল অফিসার ২ জনের পদ শুন্য রয়েছে।

 

এবিষয়ে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন মো. শামস উদ্দিন জানান, ৬জন চিকিৎসক যোগদান করে ৩জন কি কারণে অনত্র বদলি হয়ে চলে গেছেন তা আমার জানা নেই। তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য শীঘ্রই চিঠি লিখব।

 

প্রভাতবেলা/এমএ

  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ