" /> কোথাও কেউ নেই ! – দৈনিক প্রভাতবেলা

কোথাও কেউ নেই !

প্রকাশিত: ৭:১৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২০

কোথাও কেউ নেই !

মাসুদ আহমেদ :

শত সহস্র মানুষের কোলাহলে মুখর এই শহর অথচ করোনা ভাইরাসের কারণে এখন শহরজুড়ে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা, সুনসান নিরবতা । মানুষ এখন ঘর বন্দী।

 

সন্ধ্যা নামার আগেই বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট । বিপনী বিতান, রেস্টুরেন্ট, স্কুল কলেজ আগে থেকেই বন্ধ। বন্ধ হয়ে গেছে মানুষের কাজকর্মও। ফলে এতটাই নীরব হয়ে গেছে শহর, যেন কোন মানুষ নেই। নীরব, একেবারে শান্ত দিঘির জলের মতন।

 

সুরমা পাড়ে ভিড় নেই মানুষের। শূন্যতা বিরাজ করছে। এ এক অন্যগ শহর। মানুষেরা নিজেদের এক ধরনের জালের মধ্যে আটকে ফেলেছে। দেখতে পাচ্ছে সবকিছু, কিন্তু কিছু করতে পারছে না। কারও আনন্দে শামিল হবে, সে উপায় নেই। কারও দুঃখে মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে, সে উপায়ও নেই। প্রতিবেশী আছে, যোগাযোগ নেই, দেখা হয় না, কথা হয় ফোনে বা অনলাইনে। ঘরে থাকলেও কিছুটা দূরত্ব থাকে একজন থেকে আরেকজনের। এই অল্প দূরত্বকেই মনে হয় যোজন যোজন মাইল ।

 

একটা ভাইরাস সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে। আপনজন নিয়ে সবাই ঘরে আছে, কিন্তু স্বস্তিতে নেই। কোন এক অজানা ভয় সারাক্ষণ মনের মধ্যে কাটার মতন বিঁধে আছে। এই বুঝি কারও খবর এল ভাইরাসে আক্রান্ত, এই বুঝি কেউ মারা গেল কিংবা নিজে কখন না আবার আক্রান্ত হয় সেই ভয়।

 

ইদানিং মনে হয় ঘুমিয়ে গেছে প্রিয় শহর। হয়তো কিছুদিন পর আবার জেগে উঠবে তার নিজস্ব নিয়মে, ফিরবে স্বরুপে। মানুষ এখন অনলাইনে থাকে বেশি। ইন্টারনেটেই যোগাযোগ। মাঝে মাঝে মনে হয়, জীবন বুঝি পাঁচ ফুট বাই পাঁচ ফুট হয়ে গেছে।

 

হাঁচি কাশি দিলেই মানুষ ছুটছে হাসপাতালে। ডাক্তার, নার্স তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত। অজানা এক আশঙ্কায় তারাও প্রহর গুনে। তারাও মানুষ, তারা মানুষের জীবন বাঁচাতে চিকিৎসা দেয়, কিন্তু অনেক সময় তারা নিজেরাও অসুস্থ হয়ে পড়ে ভাইরাসে। তখন তাদের রঙিন স্বপ্নগুলো ধূসর হতে থাকে। কারণ তারা জেনে যায়, সার্কাসের জোকারের মতন দড়ির ওপর দিয়ে চলছে, একটু পিছলে পড়লেই জীবন শেষ।

 

জীবনের পদযাত্রা এখন মেপে মেপে চলতে হয় এক্কাদোক্কা খেলার মতন। দাগের একটু বাইরে গেলেই যেন বিপদ গ্রাস করবে। অজানা ভয় মানুষ লালন করে মনের মধ্যে। একটা প্রবাদ আছে, ‘বনের বাঘে খায় না, মনের বাঘে খায়’—ঠিক সে রকম। ঘরের দরজা–জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখে ভোরের সূর্য, প্রাণ ভরে বাইরে গিয়ে নিঃশ্বাস নেবে সে উপায় নেই।

 

কে ঝুঁকি নিতে চায়? এত সুন্দর ভুবন থেকে কে চলে যেতে চায়? কেউ চায় না। কিন্তু মৃত্যু অবধারিত, তা জেনেও বাঁচার কী আকুতি আমাদের! আমরা বাঁচতে চাই। যার ফলে করোনা ভাইরাস থেকে কী করলে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারব, সে উপায় খুঁজে তার পথ ধরে চলেছি। ঘরে থাকা, নিজের মতন করে সাবধানে থাকা যতটুকু সম্ভব। আর এই ঘরবন্দী জীবনের ফলে শহরজুড়ে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ