" /> বন্ধ আদালত, অমানবিক দুর্দশায় লাখো বন্দী – দৈনিক প্রভাতবেলা

বন্ধ আদালত, অমানবিক দুর্দশায় লাখো বন্দী

প্রকাশিত: ১০:৫৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২০

বন্ধ আদালত, অমানবিক দুর্দশায় লাখো বন্দী

প্রভাতবেলা ডেস্ক:  করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেশে চলছে সাধারণ ছুটি। অনেকটা ‘লকডাউন’ এর মত। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণপরিবহণ বন্ধ রয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান গুলোও খুলে রাখবার সময় সীমিত করা হয়েছে। তার মাঝেও অতি প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বা আংশিক খোলা রাখা হয়েছে। যেমন হাসপাতাল, ফার্মেসী, ব্যাংক, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুত – গ্যাস , পুলিশ স্টেশন/থানাসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দপ্তর সমূহ। দুনিয়াব্যাপী এই রীতি বিরাজমান। অতি প্রয়োজনীয় সংস্থা বা প্রতিষ্টানের মধ্যে আদালত অন্যতম। অথচ সাধারণ প্রতিষ্টানের সত গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশের সব আদালত। দেশে  ১৩ টি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ৫৫ টি জেলা কারাগার রয়েছে। প্রায়  দেড় লক্ষাধিক বিচারপ্রার্থী বন্দী রয়েছেন এসব কারাগারে। অনেকের জামিন আবেদন রয়েছে আদালতে। সরকার ইতোমধ্যে হাজিরাকে কেবল আবেদন আমলযোগ্য ঘোষণা করেছেন। সচেতন মহল মনে করেন, আদালতকে অতি প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে তার কাযক্রম সচল রাখা উচিত। এক্ষেত্রে জনসমাগম নিরোধ করতে একসাথে সব আদালতে না খোলে এককদিন একেক আদালত খোলা রাখা যেতে পারে। অথবা সপ্তাহে ১/২ দিন সব আদালত খোলা রাখার বিধান করা যেতে পারে। এছাড়া নথি বিবেচনায় নিয়ে জামিন বিধান সহ অন্যান্য মামলাও আপৎকালীন সময়ে অনলাইনে সুরাহা করা যেতে পারে।

আগামী ১৪ এপ্রিল সাধারণ ছুটি শেষ হলে কিংবা বর্ধিত হলেও ১৫ ও ১৬ এপ্রিল আদালত খোলা রেখে বন্দীদের বিষয়টি বিবেচনা করা সময়ের দাবী।

এ প্রসংগে সিলেট জেলা যুবদল নেতা ফখরুল ইসলাম রুমেল  সম্প্রতি তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। প্রাসংগিক ও গুরুত্ব বিবেচনায় তার স্ট্যাটাসটি প্রভাতবেলা পাঠকদের জন্য হুবুহু উপস্থাপন করা হলো:

‘‘সারাদেশে জেল হাজতে থাকা শত শত বন্দীদের আর্তনাদ কে শুনবে? আদালত বন্ধ তাই আইনি প্রক্রিয়া বা কার্যক্রম বন্ধ। হাজতি আসামীদের কি হবে? প্রতিদিন নতুন নতুন আসামী ও পুরনো আসামীদের গাদাগাদি অবস্থান সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে তথা সমস্ত বাংলাদেশে। বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারণকারী করোনা ভাইরাসের কারণে সকল মানুষই সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারান্টাইনে রয়েছে। কারাগারগুলোতে কি শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে? করোনা ভাইরাসের কারণে বন্দীদের পরিবার যেমন আতঙ্কিত তেমনি বন্দীরা ও আতঙ্কিত তাদের পরিবারকে নিয়ে। বন্দীরা ভাবছেন তাদের পরিবার কি নিরাপদে আছেন? তেমনি পরিবার ও ভাবছেন আমার বন্দী ছেলে-সন্তানরা কি নিরাপদে আছেন? সিলেট কারাগারে পরিচিত বন্দীদের সাথে দেখা করে জানতে পারি সেখানে পি,সিতে খাবারের সংকট। যদি ও খাবার মিলে তাও আবার বাইরের খাবারের মূল্য থেকে কয়েকগুন দাম বেশি রাখা হয় এবং মানসম্পন্ন কোন পণ্য পাওয়া যায় না। সরকারের কাছে অনুরোধ মানুষের প্রয়োজনে যেরকম ব্যাংক ২/৩ ঘন্টার জন্য খোলা রাখার নির্দেশ রয়েছে ঠিক তেমনি আদালতের কার্যক্রম ২/৩ ঘন্টা খোলা রাখা বা সপ্তাহে ২দিন খোলা রেখে মানুষকে তাঁর আইনি প্রক্রিয়ায় জেল থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়া হউক। প্রশ্ন আসতে পারে জজসাহেব বা উকিলসাহেবদের নিরাপত্তার কথা কি ভাববেন না? অবশ্যই তাঁদের নিরাপত্তার কথা ভাবতে হবে, সরকার তাঁদের পি পি ই ব্যবস্থা করে দিতে পারেন অথবা নিজ উদ্যেগে তাঁরা কিনে নিতে পারেন। আসুন আমরা সবাই অসহায় বন্দীদের পাশে দাঁড়াই।’’

  • 1.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.3K
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ