করোনার ৬ আর্শিবাদ 

প্রকাশিত: ১:২৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০২০

করোনার  ৬ আর্শিবাদ 

করোনা নিয়ে অনেক লেখা হচেছ । হবে, হতেই থাকবে । আমি নিজে একটা লিখেছিলাম । প্রতিদিন লেখা যায় । কিন্তু বিষয়টাকে এত লেবু  চেপা হচেছ , অনেকেই হেডিং দেখে পড়তে চায় না । ছোট শিশু থেকে বিছানায় শুয়ে থাকা অতি বয়স্ক মানুষ সব জানে । কি বলব বা কি বলতে চাচিছ তারা জানে । অনেক খুজে কয়েকটা নুতন জিনিস চোখে পড়ল তার জন্য লেখা । করনা আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ডিং তৈরী করেছে । যা অতি জরুরী হয়ে পড়েছিল । টাকা ও বিত্তের পেছনে মানুষের অসম প্রতিযোগীতা পুরো সমাজ ব্যাবস্থাকে ধবংস করে ফেলেছিল । বৃদ্বাশ্রম এর সংখ্যা বাড়তে চলেছিল । অনাচার অবিচার রাহাজানি ব্যাভিচার মাত্রা ছাড়িয়েছে । দেশের টাকা লুটেরা দের উল্লাস বাড়ছিল । সব কিছুতেই  ভারসাম্য রক্ষা হচিছল না । যে যার মত লুটতে বসেছিল ।  সারা বিশ্বের মাঝেও অনক অনাচার অবিচার চলছিল । তা্ই করনা ভাইরাসটা একটি ভারসাম্য আনতে পারবে । মানুষের ভিতর মৃত্যু ভয়টা ডুবতে বসেছিল । তাই আজ বাঁচার জন্য আমরা ঘরের মধ্য লুকিয়ে আছি । করনা কখনও অভিশাপ নয় তা আর্শিবাদ ।

(এক .)

আসলে আমরা সারা বিশ্বের পুরুষ মানুষ কখন্ও বাড়িতে থাকিনি তো তাই আমাদের চোখে অনেক কিছু নতুন লাগছে । সর্বোচ্চ বাংলাদেশের মানুষ ৯৬ ঘন্টা হরতাল দেখেছিল । তাও হরতালে হেটে বা রিস্কায় বা মোটর সাইকেলে সারা শহর ঘুরা যেত । কিন্ত এবার আমরা বাসায় থেকে দেখছি , অমাদের বাসা যিনি মেইনটেইন করেন .তিনি সকাল ৬ টা থেকে রাত ১১ পর্যন্ত কাজ করছেন । যদিও তাকে কেউ সহযোগীতা করে । তবে করোনার এই দুর্যোগে তিনি একাই সামলাচ্চেন । খুব সহজ মনে হলেও বিছানা করা থেকে রাতে শোয়া পর্যন্ত অনেক কাজ । রান্না করে খাবার টেবিলে আনা ,  আবার সব ঠিক মত গোছানো আবার রান্না করা প্রতিদিন অনেক কষ্টের । অনেক গুছিয়ে সংসার সামলানো একটি পদাতিক বাহিনীকে মেইনটেইন করা থেকে কঠিন । তাদের কোন বেতন ভাতা নেই,, নেই কোন উ্যসব ভাতা বা বোনাস । সারা দিন তাদের হাতে মোবাইলে টিপাটিপি থাকলেও কাজ গুলো তারা করেন অনেক গুছিয়ে । তারা আবার বাচচাদের স্কুলে আনা নেওয়া হোম ওয়ার্ক থেকে শুরু করে অনেক কিছুই করছেন ।

 

(দুই )

করোনাতে গৃহবন্দী হয়ে দেখা গেল । বাসার ঘুর মুছতে পেছনে দিকে যেতে হয় । আবার ঘর ছাড়ু দিতে সামনে এগেুতে হয় ।  আবার রাইস কুকারে কেন যেন পাতিলের নিচটা শুকনো করে নিতে হয় । থালা বাসন ধুতে প্রথমে প্লেটের নিচটা থেকে শুরু করতে হয় । অনেক কিছু বেশ কৌতুহলি । চা বানাতেও নানান কলা কৌশল যার কারনে সামান্য চা তে নানান জনের চায়ের নানান স্বাদ ।

(তিন )

কাজের বুয়া বা ড্রাইভারকে মেইনটেইন করা কঠিন ব্যাপার । এর চেয়ে  একটা উপজেলা প্র্শাসন চালানো সহজ । আপনি একটু মানবিক হলেন তাহলেই সমস্যা । কথার মারপ্যাচের ব্যাপার অনেক । তারপর কাজের মেয়েটাকে ভাগ্নি বানিয়ে বাসায় রাখতে হবে । তা না হলে নানান ছোট বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। মোবাইলের যুগে তাদের দিয়ে কাজ আদায় করপোরেট ডিলের মত কঠিন । হিন্দি সিরিয়ালে তাদের স্পেস না দিলে অনেক খাবার নষ্ট হয়ে যাবার সমস্যা ।

(চার ).

সব মসজিদ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাসা গুলো মসজিদ হয়ে গেল । নামাজের আগে আজান দেয়া হচেছ । এটাও নির্ভর করছে  আপনি সেই পরিবেশ বজায় রাখছেন কিনা । মিথ্যা বলা কমেছে , অবৈধ আয় কমেছে । ছিনতাই রাহাজানি , চুরি মাদকদ্রব্য যত অপকর্ম রয়েছে তা শুন্যের কোটায় । ইভ টিজিং  নাই । সামান্য একটি অদৃশ্য ভাইরাস সন্ত্রাসী  গডফাদার কে ও কাবু করেছে ।  মানবিকতা বেড়েছে ।  মানুষের প্রতি মানুষের মমত্ববোধ দৃশ্যমান

( পাচ .)

মানাবিকতার নতুন দৃষ্টান্ত  স্থাপিত হচেছ । করোনার কাররে মানুষের বাসা বাড়িতে খাদ্র দ্রব্য পৌছানো হচেছ । যা জীবনে কখন ও হয়নি । আগে ত্রান , রিলিফের জন্য মানুষ হাহাকার করত , লাইন ধরে দাড়াত এখন তাদের বাড়িতে হোম সার্ভিস দেয়া হচেছ । যারা মধ্যবিত্ত যাদের লোক লজ্জার ভয় আছে তারা ফোন করলে তাদের বাসায় স্বেচছাসেবীরা মোটর সাইকেলে ত্রান পৌছাচছ । মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ প্রশাসন টমটম, ফোর ষ্টোক বা রিস্কা ড্রাইভারদের থানায় নিয়ে আসে তারপর তার যানবাহন আটকে রেখে তাদের সাত দিনের খাবার দিয়ে বাড়ী পাঠায় । আবার তাদের সাত দিন পর আসতে বলে ত্রান বা খাদ্য দ্রব্য নিতে । এরকম ঘটনা জীবনে কেউ দেখেনি । পুরুষ ও  মুহিলা পুলিশ সবাই রাস্তায় আটকিয়ে রিক্সা ড্রা্ইভারদের চাল ডাল তেল রিস্কায় তুলে দিচেছণ ।

( ছয়.)

করোনা চিন্তায় অন্যান্য নানান রোগ গুলো নিয়ে কারও মাথা ব্যাথা নাই । ডাক্তারের চেম্বার বন্ধ তাই সেই রোগগুলা দাপিয়ে বেড়াচেছ না । যে ডাক্তারা রোগীদের সেবা দিবেন করে ব্রত করেছিলেন , তারা নিজেরা ভয়ে আত্বগোপন করেছেন । তাদের চেম্বার খুলে রাখার সুবিধা থাকলেও তার পিপিই পড়েও চেম্বারে বসছেন না । যে ডাক্তার টাকার জন্য সকল দশ টা থেকে রাত ১ টা পর্যন্ত চেম্বার ক্লিনিক, হসপিটাল অপারেশনে টাকার মোহে পড়ে থাকতে । তাদের নিকট টাকার কোন মুল্য নেই । তারা কখনও তাদের বাচচাদের ভাল করে দেখেনি তারা বাসায় বসে আছে । আর আমেরিকায় অবসরে যাওয়া ৬৫/৭০ বছরের ডাক্তাররা দেশের দৃর্যোগে কাজে যোগদান করেছে । বুড়ো ডাক্তাররা করোনার ঝুকিতেও তারা দেশ কে সাহায্য করেতে ঝাপিযে পড়েছে ।

 

করনা হল পৃধিবীর সাড়ে সাতশত কোটি মানুষের জন্য  একটি ইন্টারভেল । বিধাতা একটি পরীক্ষার মাঝে রেখেছেন মাস খানেক থেকে । যা আরও আও কয়েক মাস চলবে । তারপর হয়ত তিনি রক্ষা পাবেন । হয়ত হাফ মিলিয়নের আত্বদানের বিনিময়ে তার উত্তরন ঘটবে  । সব দেশের মানুষ সব দেশের প্রশাসন , হসপিটাল ডাক্তার সবা্ই অসহায় । আমেরিকার থেকে শুরু অনুন্নত দেশ গুলোও অসহায় । তবে আমরা আশাবাদি ভাল কিছু ঘটবে ।  আমরা পরিত্রান পাব । আল্লাহ হেল্প করবেন । কারন তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন । তিনিই রক্ষা করবেন ।  আমরা সেই দিনের আশায় বসে আছি ।

 

জুয়েল সাদত, সাংবাদিক কলামিষ্ট ( আমেরিকা ফ্লোরিডা )

  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ