ইকবাল মাহমুদের ‘কিছু আশার কথা’

প্রকাশিত: ১:১৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২০

ইকবাল মাহমুদের ‘কিছু আশার কথা’

করোনা পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্ব অনেকটা অসহায়। প্রকৃতি এবং প্রকৃত মানবজাতির অনুকূলে নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ববাসী চরম সঙ্কটময় সময় অতিক্রান্ত করছে।  প্রতিটি মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ এই সময়ের দাবী। সোস্যাল মিডিয়ার চিত্র তার উল্টো। উদ্ভট, তথ্যহীন, হাস্যকর, অসত্য বক্তব্য বিবৃতি উপদেশ নসিহেতে ফেসবুক ভরপুর। এখন কি এসব চর্চার সময়? শুনেছিলেন করোনা চীনের উহানে, মানুষ মারা যাচ্ছে ইতালীতে। তারপর শুনলেন আমেরিকায়, বৃটেনে, স্পেনে, ফ্রান্সে। তাই তো। এখন আর শুনতে হবে না। আপনার পাশের গ্রামে, পাশের ঘরে এমনকি পরিবারে হানা দেবার সুযোগ খুঁজছে প্রাণঘাতি করোনা। আপনি আমি সবাই মৃত্যু দুয়ারের একেবারে কাছাকাছি। এমনি সময়ে বাস্তবতার নিরিখে কিছু আশার কথা শুনিয়েছেন সাংবাদিক ইকবাল মাহমুদ। তার টাইমলাইনে লেখা আশার কথাটুকুন প্রভাতবেলা পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো- বি.স

সিলেটে কভিড-১৯ টেস্ট ল্যাব এ প্রতিদিন শত শত নমুনা আসছে। সেগুলো পরীক্ষা নীরিক্ষাও হচ্ছে। স্বস্তির খবর এ ল্যাবের পরীক্ষায় এখনও কারো সংক্রমণ ধরা পড়েনি। এ পর্যন্ত ধরা পড়েনি, তার মানে কখনই ধরা পড়বে না- তা তো নয়। হয়তো কালই করোনা পজিটিভ দুয়েকজনের খবর আমরা পেতে পারি।
দু’দিনে শতাধিক নমুনার মধ্যে একটিও পজিটিভ না পাওয়াকে কেউ কেউ একটু সন্দেহের চোখে দেখছেন। এ সন্দেহকে অবশ্য একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না খোদ কর্তারাও। ল্যাব এর জ্যেষ্ট একজন কর্মকর্তা (সঙ্গত কারণেই নামোল্লেখ করছি না) আমাকে বলেছেন, নমুনাগুলো আসছে বিভিন্ন উপজেলা থেকে। তাই নমুনা সংগ্রহে  পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসৃত হয়েছে কি না তা বলা মুশকিল। কিন্তু ল্যাবে আসার পর পরীক্ষার ক্ষেত্রে গুণগত কোন ত্রুটি বা অসঙ্গতি হচ্ছে না- নিশ্চিত করেছেন তিনি।
যাহোক, আসল কথায় আসি- করোনা পজিটিভ মানেই গেলো, গেলো- রক্ষা নাই, বাচন নাই ভাববার কি কোন কারণ আছে? ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, করোনা পজিটিভ সবাই রোগী নন। বহু মানুষের শরীরে করোনা পজিটিভ হওয়া সত্ত্বেও উপসর্গই প্রকাশ পায় না। এর কারণ হলো- যেকোন ভাইরাস মানুষের শরীরে আক্রমণের সাথে সাথে প্রতিরক্ষামূলক অ্যান্টিবডি রক্তে তৈরি হতে শুরু করে। প্রাকৃতিক নিয়মে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি জীবাণু শরীরে প্রবেশের সপ্তাহখানেক পর থেকেই দেখা দিতে শুরু করে, যা সারা জীবনই ওই ব্যাক্তিকে ডিফেন্স দিতে থাকবে। ফলে ‘করোনা পজিটিভ হলেই রক্ষা নাই’ এমন ধারনা ঝেড়ে ফেলুন। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান।
চিকিৎসাশাস্ত্রে যখন অ্যান্টিবায়োটিক ছিল না, তখন সুস্থ হওয়া রোগীর কাছ থেকে এ ধরনের প্রটেকটিভ অ্যান্টিবডি-সমৃদ্ধ রক্ত নিয়ে চিকিৎসা করা হতো। বর্তমান করোনা ক্রাইসিসের সময় এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের সুস্থ হওয়া রোগীর ইমিউন প্লাজমা দিয়ে চিকিৎসা প্রদানের কথা ভাবছে।

আরেকটি কথা, চীনের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, করোনার উৎপত্তিস্থল উহানে প্রথম দিকে আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা ও স্যাঁতসেঁতে ছিল। অর্থাৎ বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়াতে পারলে এর সংক্রমণ কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব ছিল। সেদিক থেকেও করোনা আক্রান্ত রোগীদের তথা সর্বস্তরের জনসাধারণের জন্য বাংলাদেশের বর্তমান অপেক্ষাকৃত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া কিছুটা হলেও স্বস্তির, বলছেন ভাইরোলজিস্টরা।

তথ্যসূত্রঃ কয়েকজন দেশসেরা ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞের মতামত।

ইকবাল মাহমুদ, ব্যুরো প্রধান ৭১ টিভি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক- সিলেট প্রেসক্লাব

  • 121
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ