বঙ্গবন্ধুর খুনী মাজেদ ডাউকি সীমান্ত দিয়ে দেশে আসেন

প্রকাশিত: ৯:০৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২০

বঙ্গবন্ধুর খুনী মাজেদ ডাউকি সীমান্ত দিয়ে দেশে আসেন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হ’ত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া খু’নি ক্যাপ্টেন (ব’রখাস্ত) আবদুল মাজেদকে গত ৭ এপ্রিল ঢাকার মিরপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় । আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত শনিবার মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিটে তার ফাঁসি কার্যকর হয়।

এর আগে রাজধানীর মিরপুরে স’ন্দেহজনকভাবে রিকশায় ঘোরাঘুরি করছিলেন দ’ণ্ডপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ। সেখানে তাকে জি’জ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন তিনি বঙ্গবন্ধুর প’লাতক খু’নি।

তাকে গ্রে’ফতারের পর সাংবাদিকদের এমনটাই দা’বি করে আ’ইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে জানা গেছে, খু’নি মাজেদ এতদিন আ’ত্মগোপন করেছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতায়।

কলকাতার গণমাধ্যম ‘বর্তমান’ পত্রিকার অ’নুসন্ধানীমূলক এক প্রতিবেদনে জানা যায়, পার্কস্ট্রিটে বসবাস করতেন খু’নি মাজেদ। মাজেদের ছবি বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখে অবাক হয়েছে সেই ম’হল্লার বাসিন্দারা।

আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত হয়েছে কলকাতার ‘বর্তমান’ পত্রিকায় প্রকাশিত সুজিত ভৌমিকের ধারাবাহিক প্রতিবেদন ‘ঘাতকের ডেরা’র দ্বিতীয় পর্ব। এই প্রতিবেদনে দা’বি করা হয়েছে, অ’জ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন তুলে নিয়ে গেছিল বঙ্গবন্ধুর খু’নি মাজেদকে। এক ঝ’লক দেখলে যে কেউ ভু’ল করে তাদের কা’বুলিওয়ালা ভাববেন। ষ’ণ্ডামার্কা চেহারা। গালে ঘন কালো চাপ দাড়ি। ব্যাক ব্রাশ করা চুল। একজনের পরনে ডেনিম জিন্স আর নীল ফুল হাতা টি-শার্ট। অন্যজনের গায়ে বড় চেক শার্ট। দু’জনের হাতেই মোবাইল ফোন। কলকাতা বিভিন্ন স্থানে পাওয়া সিসিটিভির ফুটেজে নাকি এমনই দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সিসিটিভির ফুটেজ ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বেডফোর্ড লেনের ভাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর একটি ওষুধের দোকানে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর খু’নি আব্দুল মাজেদ। সেখানে মিনিট আটেক কা’টানোর পর ঠিক ১০টা ১২ মিনিটে যখন

রিপন স্ট্রিটের দিকে মুখ করে ফের পথ চলতে শুরু করেন, তখন থেকেই তাকে অনুসরণ করা শুরু করে ওই দুই ব্যক্তি। পরে তাদের সঙ্গে আরও দু’জন যোগ দেন। মোট চারজন সেদিন পিছু নিয়েছিলেন মাজেদের। সিসিটিভি’র ফুটেজে সবার ছবিই ধরা আছে। ত’দন্তে নেমে পুলিস ও এসটিএফ-এর অফিসাররা পিছু নেওয়া ওই ষ’ণ্ডামার্কাদের কাবুলিওয়ালা ভেবে প্রথমে ভু’ল করেছিল। মাজেদ ছোটখাট সুদের কারবারও চালাতেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট ধরে এসে রাস্তা পার হয়ে এজেসি বোস রোডে আসেন মাজেদ। উদ্দেশ্য, বাস ধরা। গ’ন্তব্য পিজি হাসপাতাল। এর পরের ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ওই চারজন মাজেদের সঙ্গে কথা বলছে। তবে ক্যামেরা উন্নত না হওয়ায় কী কথা হয়েছিল, তা শোনার উপায় নেই। ঠিক তখনই মৌলালির দিক থেকে আসা একটি সল্টলেক-সাঁতরাগাছি রুটের বাসে উঠতে দেখা যায় মাজেদকে। যথারীতি সেই বাসে চাপেন ওই চারজনও। এরপর আর কোনও ফুটেজ নেই। ত’দন্তে নেমে পুলিস এজেসি বোস রোডের প্রতিটি সিসিটিভি

ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছে। তবে, আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের বাস স্টপ থেকে পিজি হাসপাতাল পর্যন্ত কোথাও বাস থেকে নামতে দেখা যায়নি আব্দুল মাজেদকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক সূত্র জানিয়েছে, মাজেদের মোবাইলের সর্বশেষ টাওয়ার লোকেশন ছিল মা’লদহ। যা থেকে গোয়েন্দাদের অ’নুমান, মাজেদকে ঘু’রপথে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হাওড়া স্টেশনে। সেখান থেকে ট্রেনে প্রথমে গুয়াহাটি। পরে শিলং হয়ে ডাওকি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ যান তিনি। তবে তিনি স্বেচ্ছায় গিয়েছিলেন, নাকি বা’ধ্য করা হয়েছিল, তা নিয়ে স’ন্দেহ আছে।

মনে করা হচ্ছে, ট্রেন মা’লদহ স্টেশনের আশপাশে থাকাকালীন তিনি তার মোবাইলটি একবার অন করেছিলেন। বর্তমান পত্রিকা প্রশ্ন তোলে, সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই চারজন কারা? তারা কি বাংলাদেশের কোনও গোয়েন্দা এজেন্সির অফিসার? প্রতিবেদনটিতে দা’বি করা হয়েছে, কলকাতা পুলিশের অ’জান্তে কে বা কারা তুলে নিয়ে গেছে মাজেদকে। আইনত কোনও বিদেশি গোয়েন্দা এজেন্সি বিনা অ’নুমতিতে অন্য দেশে ঢুকে অ’ভিযান চালাতে পারে না।

বাংলাদেশ সরকারিভাবে ৭ এপ্রিল জানিয়েছে,করোনার ভ’য়েই মার্চ মাসের শেষদিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে পা’লিয়ে আসেন বঙ্গবন্ধুর প’লাতক খু’নি। বাংলাদেশের কাউন্টার টে’ররিজমের গো’য়েন্দারা তাকে মিরপুর থেকে গ্রে’প্তার করে। প্রতিবেদনটিতে আরো দা’বি করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের এই যু’ক্তি তেমন জো’রালো নয়। কারণ ভারতে প্রথম করোনা আ’ক্রান্তের খোঁ’জ মেলে ৩০ জানুয়ারি। তাও আবার দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কেরলে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর খু’নি লু’কিয়ে ছিলেন কলকাতায়। এখানে করোনা ধ’রা পড়ে ১৮ মার্চ। ফলে ২২ ফেব্রুয়ারি মাজেদ কলকাতা থেকে বাংলাদেশে যাবেন কেন?

  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ