অবরুদ্ধ শিক্ষা কর্মকর্তা, জব্দ হলো ঘুষের টাকা

প্রকাশিত: ৫:২৬ পূর্বাহ্ণ, মে ২০, ২০২০

অবরুদ্ধ শিক্ষা কর্মকর্তা, জব্দ হলো ঘুষের টাকা

 এম রাজু আহমেদ, জুড়ী:  ৩২ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে কাজ না করার অভিযোগে জুড়ীর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেছে শাহাপুর দাখিল মাদরাসার শিক্ষক ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

১৯ মে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটা’র দিকে শিক্ষকদের এমপিও সংশ্লিষ্ট কাজে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ গোলাম সাদেকের কার্যালয়ে যান অত্র মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

সরেজমিন শিক্ষকরা দাবী করেন শিক্ষা কর্মকর্তা কাজ করতে ঘুষ চাইলে তাঁরা প্রথমে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দেন, পরে ঘটনার দিন ১৭ হাজার টাকা প্রদান করলেও আরো টাকা দাবী করেন শিক্ষা কর্মকর্তা। আরো টাকা না দিলে তিনি কাজ করবেন না বলে জানান। ঘুষের ১৭ হাজার টাকা অফিস সহকারী আব্দুস সহীদের কাছে রেখে দেন শিক্ষা কর্মকর্তা।

সংবাদ পেয়ে সন্ধ্যার দিকে জুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম সেখানে গিয়ে এ ১৭হাজার টাকা জব্দ করেন। তাকে মুক্ত করেন। মাদরাসা সুপার মাওলানা মোঃ আবুল হোসাইন বলেন, গত ৬ মে আমাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের এমপিওর নথি আমরা এ কর্মকর্তাকে দেই। কিন্তু ৪ মে জমার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি জমা না করে নিজের কাছে রাখেন।

পরে ২১ মে থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত জমার মেয়াদ বাড়ায় মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আমরা পূর্বের জমা করা নথি তাড়াহুড়ো করে জমা দেয়ায় সংশোধনের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে বললে তিনি এ কাজের জন্য ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। আমরা বাধ্য হয়ে পনেরো হাজার টাকার পরও আরো ১৭ হাজার টাকা জোগাড় করে তাঁকে দিলে তিনি ১৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬ জনের নথি সংশোধনের সুযোগ দিয়ে বাকি ৭ জনের নথি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা করে দেন।

আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কাজ করে না দেয়ায় আমরা তাঁকে অবরুদ্ধ করেছি”। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ গোলাম সাদেক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁদের কাজ করতে আমি কোন টাকা দাবী করিনি। তাঁরা পূর্বের জমা করা নথি সংশোধন করে পূণরায় জমার জন্য বললে আমি তা করে দিতে রাজী হই।

৬ জনের তথ্য সার্ভার থেকে মুছে দেয়ার পর সার্ভারের ভূলে পরের ৭ টি জমা হয়ে যায়। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছি সেগুলোও মুছে দেয়ার জন্য। তিনি বাইরে থাকায় পরে করবেন বলে জানান। কিন্তু ওরা আমার কথা না শুনে আমাকে কার্যালয়ে আটকিয়ে রেখেছে। অবরুদ্ধ করে রাখার সংবাদ তিনি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা , উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা পুলিশকে অবহিত করেননি বলেও জানান গোলাম সাদেক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ