" /> হবিগঞ্জে ভার্চুয়াল কোর্ট পাঁচশতাধিক আসামীর জামিন – দৈনিক প্রভাতবেলা

হবিগঞ্জে ভার্চুয়াল কোর্ট পাঁচশতাধিক আসামীর জামিন

প্রকাশিত: ২:২৯ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২০

হবিগঞ্জে ভার্চুয়াল কোর্ট পাঁচশতাধিক আসামীর জামিন

 

শাহ সুলতান আহমেদ, নবীগঞ্জ :

হবিগঞ্জে ভার্চুয়াল কোর্টে গত এক সপ্তাহে ৫শ ১৯জন হাজতি আসামী জামিনে মুক্তি লাভ করেছেন।

এ সময়ে দায়রা জজ, তিনটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল ও চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ ৭টি জুডিসিয়াল আদালত সমূহে মোট ৬৬৪টি মামলার জামিন শুনানি হয়। সবচেয়ে বেশী মামলার শুনানি করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আমজাদ হোসেন। তার আদালতসহ ৪টি আদালতের মোট ১৫৬ টি মামলার জামিন শুনানি করেন। ১০২টি মামলায় ১৫২ জন আসামি জামিন পেয়েছেন।

গত ১২ মে থেকে হবিগঞ্জে ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়। দেশে করোনা প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পর সরকার ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর নির্দেশ দিলে প্রথমে হবিগঞ্জের আইনজীবীদের মধ্যে এনিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। স্মার্টফোন ও তথ্য প্রযুক্তির নতুন এই ধারা সম্পর্কে অনেকেরই পুর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় বিশেষ করে প্রবীন আইনজীবীদের মনে কিভাবে মোয়াক্কেলদের পক্ষে আদালতে যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করবেন এ নিয়ে মনে অস্বস্থিতে পড়েন। আইনজীবীদের মধ্যে কেউ কেউ কোর্ট বর্জনেরও চিন্তাভাবনা করছিলেন। কিন্তু তরুন আইনজীবীগন তা কানে না নিয়ে ভার্চুয়াল কোর্টকে স্বাগত জানানোয় দিন দিন জামিন আবেদন বাড়ছে। সিনিয়র আইনজীবীরাও জুনিয়র আইনজীবীদের সহযোগিতায় মোয়াক্কেলদের পক্ষে ভার্চুয়াল কোর্টে অংশ নিচ্ছেন এখন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জেলা দায়রা জজ আদালতে ৯৮টি মিস কেইস, ১৪ টি দায়রা মামলা এবং অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে ৪১টি, ২টি যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের ৩টি মামলার জামিন শুনানী হয়। ৬৩টি মিস কেইসে ৯২জন, ৫টি দায়রা মামলায় ৫জন, অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের ৩১টি মামলায় ৫২জন যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের ৩টি মামলায় ৩জন আসামীকে জামিন দেয়া হয়। জেলার ৩টি নারী শিশু আদালতে মোট ৪৯টি মামলার শুনানী করা হয়। এরমধ্যে নারী শিশু- ১ আদালতে ৯টি মামলায় ৯জন, নারী শিশু – ২ আদালতে ১২টি মামলায় দুই শিশুসহ১২জন, নারী শিশু-৩ আদালতে ২৫টি মামলা শুনানী হয়েছে। ১১টি মামলায় একজন শিশুসহ জামিন পেয়েছেন ১১জন।

এদিকে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসহ ৭টি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রটে আদালাতে ৪৫৯টি মামলার মধ্যে ২৩১টি মামলায় ৩৪৩ জন আসামীকে জামিন দেয়া হয়। একই সময়ে জেলার সকল আদালত সমূহে ২৮৯টি মামলার জামিন না মঞ্জুর হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এডভোকেট ফাতেমা ইয়াসমিন বলেন, ভার্চুয়াল কোর্টে জামিন শুনানী যতটা কঠিন মনে করেছিলাম আসলে ততটা কঠিন নয়। এডভোকেট শামীম পারভীন বলেন ভার্চ্যুয়াল আদালতে জটিলতা কম। ঘরে বসেই আইনজীবীরা আদালতে অংশগ্রহণ করতে পারছেন। করোনার দুর্যোগে এর মাধ্যমে সবার নিরাপত্তাটাও নিশ্চিত হচ্ছে । এডভোকেট শাহ ফকরুজ্জামান বলেন, হাজার হাজার মানুষ আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত হয়ে নিজের পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারবেন। আবার কারাগার গুলোতে ধারণ ক্ষমতার বেশি লোক। হাজতিরা একটু স্বস্তি ফিরে পাবেন। তথ্য প্রযুক্তির এই জ্ঞান বর্তমান সময়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নিজেদের এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখাবে।

 

প্রভাতবেলা/এমএ

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ