এমন রামাদ্বান, এমন ঈদ কেউ দেখেনি কোন কালে

প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০২০

এমন রামাদ্বান, এমন ঈদ কেউ দেখেনি কোন কালে

দুনিয়া জুড়ে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর। এখন আর মুসলিম প্রধান দেশে শুধু নয়। গেোটা বিশ্বের প্রায় সবকটি দেশেই ঈদ উদযাপিত হয় আড়ম্বরেই। সব দেশে সবখানেই মুসলমানের উপস্থিতি , বসতি রয়েছে আজকের দুনিয়ায়। তাই মুসলমানদের ধর্মীয় এই উৎসবে এখন শামিল হন অমুসলমানরাও। সানন্দে, স্বাড়ম্বরে, সমবেত এ উদযাপন  ইসলামের ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতির শিক্ষা জানান দেয় এই ঈদ উৎসবে। পৃথিবীর ইতিহাস এটাই বলে।

ব্যতিক্রম ঘটেছে এবং ঘটছে এবার। এম ঈদ এবং সদ্য বিদায়ী রামাদ্বান মুসলমানদের ইতিহাসে ব্যতিক্রম। ভিন্ন আমেজ, ব্যতিক্রম পরিবেশ , উৎকন্ঠিত বিশ্বে ধর্মীয় অনুশাসন অনুশীলনের এমন  বাস্তবতা বিরল।এমন রামাদ্বান, এমন ঈদ কেউ দেখেনি কোন কালে। এমনকি কল্পনাও করেনি কস্মিনকালে। উদ্বেগের বিষয় আগামীতেও কী এমন ঈদ উদযাপন করতে হবে? আর কতকাল থাকতে পারে বিদ্যমান এ পরিস্থিতি।

করোনার সংক্রমণ এড়াতে ও প্রাণহানি কমাতে বিশ্বজুড়ে চলছে লকডাউন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শনিবার থেকে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। দেশ ভেদে এই উদযাপন চলবে সোমবার পর্যন্ত। গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই ব্যাপক আকারে সংক্রমিত হতে শুরু করেছে করোনা ভাইরাস। ছড়িয়েছে প্রায় দু’শো দেশে। আর আক্রান্ত হয়েছেন অর্ধকোটিরও বেশি মানুষ। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু সংখ্যা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্বব্যাপী মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা উদযাপন করছেন পবিত্র ঈদুল ফিতর।

সোমালিয়া, কেনিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে শনিবার উদযাপন করা হয়েছে ঈদ। আবার ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সৌদি আরব, মধ্যপ্রাচ্য , ইউরোপ ও আমেরিকার  দেশগুলোতে তা পালন করা হয়েছে রোববার। বাংলাদেশসহ বাকি দেশগুলোতে আজ সোমবার পালন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

দেশের কোথাও কোন ঈদগাহে ঈদ জামাত অনুষ্ঠানের খবর পাওয়া যায়নি। গোটা বিশ্বেও একই অবস্থা।মসজিদে মসজিদে ঈদ জামাত। কোথাও বাসায়, বারান্দায়, বাসার পাশের খোলা জায়গায় ১০জন ৫জন মিলেই ঈদ জামাতের বিরল দৃশ্য দেখেছে পৃথিবী।

অনুষ্ঠান উদযাপনের জাতি বাঙ্গালীর এই দেশে একবারেই নিরানন্দ এবারের ঈদুল ফিতর। নামাজ শেষে নেই কোলাকুলি, করমর্দন। নিজ বাসা বাড়ীতেই ঈদ আনন্দ সীমাবদ্ধ।

২৫ মে সোমবার বাংলাদেশে ইতিহাসের ব্যতিক্রম ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। সামাজিক দুরত্ব আর স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মসজিদে ঈদ জামাত শেষে দ্রুত সবাই ফিরেছেন নিজ বাসগৃহে। চিরাচরিত আড্ডা, কুশলাদি বিনিময়, স্বজন পরিজনের বাসা বাড়ীতে বেড়ানোর কোনটিই এই ঈদুল ফিতরে। সাধারণ ছুটি পরোক্ষভাবে লকডাউনেই উদযাপিত হচ্ছে এই ঈদ।

বিনোদনকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় শিশুদের ঈদ উদযাপন একেবারেই নিরামিষ।

উদ্বেগ উৎকন্ঠার মাঝে কেউ কেউ ফটোসেশন করে আনন্দ খুঁজবার চেষ্টা করছেন । বিত্ত ও মধ্যবিত্তদের ঘরে মিস্টি, সেমাই, পায়েস, ফালুদা, সন্দেশ, পোলাও, কোরমা,রোস্ট , রেজালা নানাভোজন আয়োজন হয়েছে। কিন্তু নিম্নবিত্তের ঘরে সাদা ভাত আর সবজির যোগাড়ও হয়নি ।

ঠিক একই রকম আমেজে কেটেছে ২০২০ সালের রামাদ্বান। রামাদ্বানে মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে সৌদিআরবে মাসজুড়ে থাকে উৎসবের আমেজ। সেখানে মাসজিদুল হারমাইন ও মাসজিদে নববীতে ছিল খা খা দৃশ্য। যে দৃশ্যে মুসলিম জাহানের হৃদয়ে হাহাকার করছিল। স্বাভাবিক ভাবে তারাবী হয়নি। হয়নি ইফতারের আয়োজন। সেহরীতে শোরগোলে মেতে উঠেনি মুসলমানের পাড়া মহল্লা। সীমিত পরিসরে সামাজিক দুরত্ব মেনে মসজিদে মসজিদে নামাজ আদায়ের এ চিত্র আগামী প্রজন্মের কাছে গল্প বলেই মনে হবে। পাকিস্তানের কিছু মসজিদ ছাড়া গোটা পৃথিবীর দৃশ্য ছিল প্রায় একই। বাংলাদেশের সামাজিকতায় এবং রাজনীতিতে ইফতার মাহফিলের বহুকালের কালচার এবার ছিল অনুপস্থিত। দেশের কোথাও বড় আযোজনের কোন ইফতার মাহফিল হয়নি।

সংকটে আবদ্ধ মানুষের আর্তনাদই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে এই ঈদে । প্রতিটি মুসলিম ঘরে, সারা মুসলিম জাহানে। আমরা এমন রামাদ্বান চাইনি। এমন ঈদ চাইনা। ক্ষমা করো প্রভূ। স্বাভাবিক পৃথিবী ফিরিয়ে দাও। বনী আদমের এ আহাজারি কী পৌছাচ্ছে আরশে আজিমে? মহান মাবুদ এ আকুতি গ্রহণ করবেন। এই প্রত্যাশা ভরসা আমাদের।

প্রভাতবেলা’র সকল সাংবাদিক,কর্মকর্তা-কর্মচারী, পাঠক ,দর্শক, স্রোতা ,বিজ্ঞাপনদাতা, বিক্রেতা, এজেন্ট, হকারসহ সবাইকে ঈদ মোবারক।

  • 104
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ